জিডি ট্রফির ঘোষণা দিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল যে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন, বিপিএলের আলোচনায় তা অনেকটাই ঢাকা পড়ে যায়। মূল বিষয় বাদ দিয়ে বিপিএল কেন হবে না, সেটাই হয়ে দাঁড়ায় সবার আগ্রহের বিষয়।
তবে দেশের বয়সভিত্তিক তিনটি ব্যাচের ক্রিকেটারদের জন্য এই টুর্নামেন্ট যে কতটা অর্থবহ, সেটা কেবল খেলোয়াড়ই জানেন। ফলাফল ছাপিয়ে তাদের কাছে এই টুর্নামেন্ট ছিল নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেওয়ার একটা বড় মঞ্চ।
অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৯ এবং অনূর্ধ্ব-২৩ দল নিয়ে প্রথমবারের মতো হওয়া জিডি ট্রফির সবগুলো ম্যাচ হয়েছে মিরপুর স্টেডিয়ামে। এই তিন দলের অনেক ক্রিকেটার এর আগে কখনও এই মাঠে খেলারই সুযোগ পাননি। দর্শক হিসেবে দেখেছেন জাতীয় দলের খেলা আর স্বপ্ন বুনেছেন, একদিন বাংলাদেশের হয়ে খেলবেন এই মাঠে। তবে তার অনেক আগেই তাদের সেই বিরল অভিজ্ঞতা উপহার দিয়েছে টুর্নামেন্টটি।
সেটা কেমন? অনূর্ধ্ব-১৭ দলের অধিনায়ক হোসেন শেইখ চরচাকে শুনিয়েছেন নিজের ও তার দলের কথা, “কোচের কাছে যে দিন প্রথম শুনলাম বিসিবি আমাদের নিয়ে একটা টুর্নামেন্ট করবে আর খেলা হবে মিরপুরে, বিশ্বাসই করতে পারিনি। এই মাঠে দেশ-বিদেশের কত বড় বড় তারকারা খেলে গেছেন। আমাদের জন্য এটা অনেক অনেক বড় একটা পাওয়া এটা। এই অভিজ্ঞতা আমাদের অনেক উপকারে আসবে সামনে।”
তিন দলের এই টুর্নামেন্ট নিয়ে অবশ্য শুরু থেকে শেষ অবধি একটা সমালোচনা ছিল প্রায় নিয়মিত। আর তা হলো, কেন অনূর্ধ্ব-১৭ দলকে এখানে খেলানো হচ্ছে। ১৯ দলের সঙ্গে তাও অল্প ব্যবধান থাকলেও ২৩ দলের সঙ্গে যে তাদের বিস্তর তফাৎ। মাঠের ক্রিকেটেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। একটি ম্যাচেও সেভাবে লড়াই করতে পারেনি অনূর্ধ্ব-১৭ দলের কিশোরেরা। তবে এই ধরনের টুর্নামেন্টে ফলাফলের গুরুত্ব ঠিক কতটা?
অনূর্ধ্ব-২৩ দলের আজিজুল হাকিম তামিম এরই মধ্যে বিপিএল, ডিপিএলও খেলে ফেলেছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে নেতৃত্বও দিয়েছেন। তার মতো একজন ক্রিকেটারের কাছেও এমন একটা বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট বেশ গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। কে জিতল, কে হারল, সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার চেয়ে বেশি আলোকপাত করেছেন খেলতে পারার সুযোগকেই। তামিমের মতে, প্রতি বছর এমন একটা টুর্নামেন্ট ক্যালেন্ডারে স্থায়ীভাবেই রাখা উচিত।
চরচাকে প্রায় একই কথা বলেছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক ফারিদ হোসেন ফয়সাল, “এটা খুব স্বাভাবিক যে ২৩ দলের সিনিয়ররা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি ম্যাচ খেলেছেন, তাদের অভিজ্ঞতাও তাই বেশি। আবার ১৭ দল কিন্তু আমাদের চেয়ে কম খেলেছে। তো এমন তিনটা দল যখন একসঙ্গে খেলে, সেখানে সবারই শেখার অনেক কিছু থাকে। আমাদের দলের সবাই জিডি ট্রফিতে খেলতে পেরে খুব খুশি। আগামী বছরও এমন একটা টুর্নামেন্ট চাই আমরা।”
ফেবারিট হিসেবে টুর্নামেন্ট খেলতে নামলেও শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন আর হতে পারেনি অনূর্ধ্ব-২৩ দল। বৃষ্টিবিঘ্নিত ফাইনালে তাদের দেওয়া ২৩২ রানের টার্গেটে ১৭.২ ওভারে অনূর্ধ্ব-১৯ দল করতে পেরেছিল ৫ উইকেটে ৯৯ রান। তবে টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জন করায় তাদেরই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছে।
চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা প্রাইজমানি হিসেবে পেয়েছে সাড়ে ৭ লাখ টাকা। রানার্সআপ হিসেবে অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ টাকা। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রান করে অ-১৯ দলের জারিফ সিয়াম জিতে নিয়েছেন সিএ কোম্পানির একটি ব্যাট।
পাকিস্তানের বিখ্যাত কোম্পানির এই ব্যাট উপহার হিসেবে পেয়ে প্রতিক্রিয়ায় সংবাদ সম্মেলনে জারিফ বলেছেন, “সবচেয়ে বেশি রান করলে যে ব্যাট পাব, সেটা আমি আগে জানতাম না। তো এটা আমার জন্য দারুণ ব্যাপার। আমি চেষ্টা করেছি ধারাবাহিকভাবে রান করার। তামিম ভাইয়ার (বিসিবি সভাপতি) পক্ষ থেকে এই ব্যাট পাওয়াটা দারুণ ব্যাপার। আমি চেষ্টা করব আগামীতেও এই ফর্ম ধরে রাখার।”
জারিফরা যাতে বয়সভিত্তিক দলের বিভিন্ন ধাপে গিয়ে ম্যাচ কম খেলে হারিয়ে না যান, সেই প্রয়াসেই জিডি ট্রফির আয়োজন করেছিল বিসিবি।
তিন দলের ক্রিকেটাররা তাই ভীষণ খুশি এর অংশ হতে পেরে। দেশের ক্রিকেটে বিপিএল না হওয়া নিয়ে যখন আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে, তখন জিডি ট্রফি কিছুটা হলেও হয়ত স্বস্তি দিবে তামিমের বোর্ডকে।