ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, “গ্যাস, বিদ্যুৎ ও ফার্নেস অয়েল সংকটের মধ্যে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তারই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ কেবল শিল্প লিমিটেডের (বাকেশি) সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।”
আজ বুধবার দুপুরে খুলনায় বাকেশি স্থাপিত ১ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন রুফটপ সোলার প্লান্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “প্রায় এক মাস আগেই এটি উৎপাদনে গেছে। কারখানার নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত প্রকল্পটির বিনিয়োগ তিন থেকে চার বছরের মধ্যে উঠে আসবে।”
তিনি বলেন, “বাকেশির ১ মেগাওয়াটের প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কারখানার প্রায় ৯০০ কিলোওয়াট চাহিদা মেটাচ্ছে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ইতোমধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্লান্টটির সক্ষমতা ২ মেগাওয়াটে উন্নীত করার সুযোগ রয়েছে।”
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য প্রায় ৩০ হাজার একর জমি সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগও চলছে। বিটিসিএল, টেলিটক, হাইটেক পার্কসহ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জায়গার সুযোগ অনুযায়ী সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হবে।”
তিনি বলেন, “বাড়ির ছাদ থেকে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জায়গা যেখানেই সুযোগ আছে-সেখানেই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হবে। জাতীয় গ্রিডে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পরিশোধের নিশ্চয়তাও দিয়েছে সরকার।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব এবং বাকেশি পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান বিলকিস জাহান রিমি।
বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ও বাকেশি পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক আবদুল্লাহ হারুন এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল।