প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহ দিতে সরকার ইতোমধ্যে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য অপরিহার্য পণ্যের (সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি, স্ট্যাকচার) উপর থেকে কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং দুই শতাংশের অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর থেকে শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতি দিয়েছে।”
আজ বুধবার সংসদ সদস্য তাজ উদ্দীন খানের প্রশ্নের জবাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও অন্যান্য বিকল্প জ্বালানি উৎস সম্প্রসারণে সরকারের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন তারেক রহমান ।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকার দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদার কথা বিবেচনা করে আমদানি করা জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ইতোমধ্যে ২০২৬ হতে ২০৩০ মেয়াদে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। এই কৌশলপত্র অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।”
সে ক্ষেত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫৫০০ মেগাওয়াট, ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ হতে ৪,৫০০ মেগাওয়াট এবং বায়ু বর্জ্য, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সোলার, অ্যাগ্রিভোলটেইক্সের মতো উৎস থেকে ৪৫০-৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, “গত ১ সেপ্টেম্বর ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রতি ইউনিট সর্বোচ্চ ৮ টাকা নির্ধারণ হয়েছে। বিশেষ প্রণোদনার অংশ হিসেবে উৎপাদন ব্যয়ের ওপর ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম বিবেচনা করে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী- নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুসরণ করে যেসব গ্রাহক আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে নিজস্ব ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা পরবর্তী ৩ বছর জাতীয় গ্রিডে সরবরাহকৃত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য হিসেবে ১০ টাকা ৫০ পয়সা করে পাবেন।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য এখানে দুই ধরনের ব্যাটারি আছে। একটি হচ্ছে, লেড ব্যাটারি, যেটাতে নরমাল ট্রেডিশনের ব্যাটারি, আরেকটা হচ্ছে লিথিয়াম ব্যাটারি, যেটা পরিবেশবান্ধব।”
তিনি বলেন, “আমরা বর্তমান সরকার লিথিয়াম এনকারেজ করার চেষ্টা করছি। লিথিয়াম ব্যাটারি স্থাপনের ক্ষেত্রে অর্থাৎ তৈরির ক্ষেত্রে যেসব কল কারখানা স্থাপিত হবে সেটিকে সরকার সব রকমের সহযোগিতা দেবে।”