ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তার অভিযোগ, কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বইয়ের কাউন্টারফয়েলে আগেই সিল মেরে স্বাক্ষর করা হয়েছে, যা জাল ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমরা খবর পেয়েছি, ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভোটাররা নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের আগেই তাদের ভোট দেওয়া হয়ে গেছে।”
তিনি এমন একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে ভোট দিতে গিয়ে এক নারীকে বলা হয়, তার ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, “ব্যালট বইয়ের কাউন্টারফয়েলে আগাম সিল মেরে স্বাক্ষর করলে জাল ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।” তিনি এসব অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো, দলের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো এবং ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পোলিং এজেন্টদের বাধা দেওয়া হয়েছে বা তাদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, কয়েকটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়া হলে তারা যথাযথ পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। এতে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জামায়াতের এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, হিন্দু ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে সমর্থন দেওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, আসনটিতে ভোট কেনার জন্য টাকাও বিতরণ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের আগে জামায়াতের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লিখিতভাবে নয়টি অভিযোগ ও তিনটি দাবি জানিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, অনিয়মের অভিযোগে ১১-দলীয় জোটও নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, শুধু বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করলেই নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায় না। ভোটারদের সুরক্ষা, জাল ভোট প্রতিরোধ এবং ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী সহায়তা করতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, একটি উপনির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগের সুরাহা করতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।