ধর্ষণ ও অপহরণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আপিল পর্যায়ে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর ভুক্তভোগী, তার পরিবার এবং সাক্ষীদের ওপর হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট’। ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আসামিপক্ষের প্রাণনাশের হুমকির সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
আজ মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জোটের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।
আইন সংস্কার জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর ভুক্তভোগীর ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা বা হুমকি দেওয়া জামিনের শর্তের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং তা ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে মারাত্মক অন্তরায়। ভবিষ্যতে যেন এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য জামিন পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগীর প্রতি আসামির আচরণবিধি তদারকি করার জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঐক্যজোটটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ৩২খ(১) ধারার আইনি বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে স্মরণ করিয়ে দেয়। যেখানে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে বা স্বীয় বিবেচনায় তদন্তাধীন ও বিচারাধীন মামলার ভুক্তভোগী, অভিযোগকারী এবং সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনাল বা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা আদেশ ও ব্যবস্থা গ্রহণের সুস্পষ্ট ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে জানা যায়, ২০২২ সালের ১ অক্টোবর নাটোরের এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার ফল ভালো করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ ও একাধিকবার ধর্ষণ করেন ওই স্কুলের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গত ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আসামিকে ধর্ষণের অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপহরণের দায়ে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
তবে প্রায় ১১ মাস কারাভোগের পর গত ২৯ সেপ্টেম্বর আসামি জামিনে মুক্তি পান। মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই আসামিপক্ষ মামলা প্রত্যাহার এবং সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগী, তার পরিবার ও মামলার সাক্ষীদের ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে পুরো পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
ধর্ষণ আইন সংস্কার জোটের মতে, উচ্চ আদালতে কোনো অপরাধীর জামিন বিবেচনার সময় ভুক্তভোগী এবং সাক্ষীদের সম্ভাব্য নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি যেন কঠোরভাবে বিবেচনায় রাখা হয়।