ট্রাম্প প্রশাসনের পরিবর্তনশীল ভিসা নীতির কারণে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির জার্নালিজম স্কুলের একটি কর্মসূচিতে ভর্তি স্থগিত করা হয়েছে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চারজন জানিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানটি গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা তাদের মাস্টার অব আর্টস (এমএ) কর্মসূচিতে এক বছরের জন্য ভর্তি স্থগিত করছে। ২০০৫ সালে চালু হওয়া এই ডিগ্রি কর্মসূচির ‘গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন’ করা হবে বলে জানানো হলেও ভর্তির সিদ্ধান্ত স্থগিতের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
জার্নালিজম স্কুলের ডিন জেলানি কব বলেন, মাস্টার অব আর্টস কর্মসূচিতে এক বছরের জন্য ভর্তি বন্ধ থাকবে। এ সময় ২০০৫ সালে চালু করা ডিগ্রিটি নতুন করে সাজানো হবে, কারণ তখন ‘সাংবাদিকতার কর্মক্ষেত্রের চিত্র ভিন্ন ছিল’।
কব রয়টার্সকে বলেন, “ভিসার গতিপ্রকৃতি এবং এ ধরনের অন্য বিষয়ও বিবেচনার অংশ ছিল।” তিনি আরও বলেন, কর্মসূচিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নিয়ে ভাবার জন্যও বিভাগের সময় প্রয়োজন।
ভর্তি স্থগিতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতির সম্পর্ক এবং স্থগিতাদেশের মেয়াদ এক বছর হওয়ার বিষয়টি আগে প্রকাশিত হয়নি।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদনের সংখ্যা কমে যাওয়ার ঘটনা দেখাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভিসা নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠানটির ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলছে। প্রতিষ্ঠানটি সাংবাদিকতা পেশার যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মর্যাদার পুরস্কার পুলিৎজার পুরস্কারও পরিচালনা করে। তবে আবেদনের সংখ্যা ঠিক কতটা কমেছে, তা ওই ব্যক্তিরা জানাননি।
গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন সাময়িকভাবে নতুন শিক্ষার্থী ভিসার সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে তা আবার চালু এবং আবেদনকারীদের অনলাইন কার্যক্রমের ওপর আরও বিস্তৃত যাচাই শুরু করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সম্ভাব্যভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে—এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে এসব যাচাই প্রয়োজন।
২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্যবস্তু হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কলাম্বিয়াও ছিল। গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়টি ফেডারেল সরকারের তদন্ত নিষ্পত্তি এবং স্থগিত থাকা অধিকাংশ ফেডারেল তহবিল পুনরুদ্ধারের জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ দিতে সম্মত হয়।
এ বছর নতুন একটি বিধিতে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন না করে যুক্তরাষ্ট্রে কতদিন থাকতে পারবেন, তা সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে গত মাসে কার্যকর হওয়ার আগেই এক ফেডারেল বিচারক তা আটকে দেন এবং তিনি বিধিটির যৌক্তিকতাকে ‘অত্যন্ত দুর্বল’ বলে অভিহিত করেন।
ওই চার ব্যক্তি বলেন, ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিদেশে থাকা সম্ভাব্য শিক্ষার্থীদের নিরুৎসাহিত করেছে। ভর্তির বিষয়ে কথা বলার জন্য তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এমএ কর্মসূচির মোট শিক্ষার্থীর প্রায় অর্ধেকই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী।