তিনদিন আগে অসুস্থ মাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন রাজধানীর ডেমরার মো. হৃদয়। চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ বুধবার সকালে মাকে হারান হৃদয়। তবে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটের কারণে মায়ের মরদেহ হাসপাতাল থেকে নিজ বাড়িতে নিতে পারছেন না তিনি। সাড়ে তিনঘণ্টা এদিক-সেদিক ঘুরেও পাননি একটি অ্যাম্বুলেন্স।
ঢামেক হাসপাতালে দ্বিতীয় দিনের মতো চলা বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটের কারণে এমন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হৃদয়ের মতো কয়েক শ রোগী ও তাদের স্বজনরা। জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করেও মিলছে না কোনো সুফল।
হৃদয় চরচাকে জানান, তিন দিন আগে তার মাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। আজ বুধবার সকাল ৭টার দিকে তার মা মারা যান। এরপর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সের খোঁজ শুরু করেন তিনি। কিন্তু সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা করতে পারেননি।
হতাশা প্রকাশ করে হৃদয় বলেন, “আমরা তো দিশেহারা হয়ে পড়েছি। কী যে করব, বুঝে উঠতে পারছি না। কীভাবে মায়ের মরদেহ বাড়িতে নেব?”
হৃদয়ের মতো বিপাকে পড়েছেন রেজাউল নামের এক ব্যক্তি। রেজাউল জানান, তার বোন মাওয়া থেকে ঢাকাগামী একটি বাসে ছিলেন। পথে একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
বোনকে জরুরি ভিত্তিতে পঙ্গু হাসপাতালে নিতে হবে। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় তাকে স্থানান্তর করা যাচ্ছে না বলেও জানান রেজাউল।
রেজাউল বলেন, “আমরা ৯৯৯-এ কল দিয়েছি এবং সরাসরি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলছে, গাড়ি চলবে না, আমরা যাব না। আমি প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করছি, কিন্তু গাড়ি পাচ্ছি না।”
একদিকে মায়ের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার অপেক্ষা, অন্যদিকে গুরুতর আহত স্বজনকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার তাগিদ—অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন একাধিক পরিবারের সদস্যরা।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে অনেককে অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এমনকি পিকআপভ্যানেও রোগী ও মরদেহ নিয়ে যেতে দেখা গেছে। হাসপাতালের বাইরে থেকে কিছু অ্যাম্বুলেন্স এলেও রোগী ও স্বজনদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা মিলছে না।
ঢামেক হাসপাতাল বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন চরচাকে বলেন, “হাসপাতালের নতুন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মো. ফরহাদ হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে আমাদের সব অ্যাম্বুলেন্স সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করতে আমাদের দিয়ে জায়গাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করানো হয়। সেখানে সিসি ক্যামেরা, লাইট ও গেট স্থাপন করা হলেও পরবর্তী সময়ে সেখান থেকেও অ্যাম্বুলেন্স সরিয়ে দেওয়া হয়।”
অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, “হাসপাতালের বাইরে সড়কে অ্যাম্বুলেন্স রাখলে সার্জেন্ট মামলা দেন। অথচ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স রাখার ব্যবস্থা করতে তারা কয়েক লাখ টাকা খরচ করেছেন। ফলে বাধ্য হয়ে পার্কিংয়ের দাবিতে ধর্মঘট শুরু করেছি। বর্তমানে ঢামেক থেকে আমাদের সব অ্যাম্বুলেন্সের চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।