ইরানে আবার হামলা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র–এমন একটা গুঞ্জন চালু আছে বেশ কিছুদিন ধরেই। কিন্তু তেমন কিছু হলে ইরান কী করবে? কী করা উচিত, সে ব্যাপারে ইরানের সামরিক বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা মোজতবা খামেনি।
সেনা কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি আবার ইরানে হামলা করে, সে ক্ষেত্রে ইরানের পাল্টা জবাব হবে সঙ্গে সঙ্গে, এবং সে জবাব হবে তাৎক্ষণিক ও ভয়ংকর। এই পাল্টা হামলার ক্ষেত্রে ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা না মানারও নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।
তাছাড়া আবার যুদ্ধ শুরু হলে সেই যুদ্ধ কীভাবে, কখন ও কোন শর্তে শেষ হবে, তা ইরান ঠিক করবে বলেও হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন খামেনি।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন তার ছেলে মোজতবা খামেনি, তবে এখন পর্যন্ত তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এমনকি তার গলাও শোনা যায়নি। আজ এই নির্দেশনাও তিনি দিয়েছেন আগের মতো করে লিখিত বিবৃতিতে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে আবার হামলার ক্ষেত্রে হুঁশিয়ারি করে দিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন মোজতবা খামেনি, সেটা পাওয়া গেছে তার ওয়েবসাইটে। সেখানে মোজতবা খামেনিকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, “শত্রুরা যদি আবার সামরিক বা সন্ত্রাসী হামলা চালায়, তাহলে এই যুদ্ধ কখন ও কোন শর্তে শেষ হবে তা ঠিক করবে এই ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী ও ইরান জাতি।”
সম্প্রতি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলি আবদোল্লাহি, আর্মি প্রধান আমির হাতামি ও আইআরজিসি কমান্ডার আহমাদ ভাহিদির মতো সিনিয়র মিলিটারি কমান্ডারদের সঙ্গে মোজতবা খামেনির বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসে। তারপরই এসেছে মোজতবা খামেনির এই বিবৃতি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর সিনিয়র এই কমান্ডারদের সঙ্গে এটিই মোজতবা খামেনির প্রথম বৈঠক।
বৈঠকের পর লিখিত বিবৃতিতে যে নির্দেশ দিয়েছেন মোজতবা খামেনি, তাতে তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা বা ‘টার্গেট ব্যাংক’ আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ, কোন কোন স্থাপনা ও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে পাল্টা হামলা চালাবে ইরান, তার তালিকা। সেই তালিকা ঠিক করার ক্ষেত্রে মোজতবা খামেনির নির্দেশ, “আমেরিকান-জায়নিস্ট শত্রুদের সকল দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সম্পদ”কে লক্ষ্যবস্তু বানাতে হবে।
আর এসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতাকেই পাত্তা না দেওয়ার নির্দেশ মোজতবা খামেনির। “যেকোনো ধরনের বা পর্যায়ের হুমকির ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক, ভয়ংকর ও ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতাহীন পাল্টা জবাব” যাতে দেওয়া নিশ্চিত করা হয়, কমান্ডারদের সে নির্দেশই দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।
ইরানের সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের গঠন আরও শক্তিশালী করা, ‘ডকট্রিন’ ও ‘ট্যাকটিকসে’র জায়গাগুলোতে নিজেদের দেশজ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করার কথাও বলেছেন মোজতবা খামেনি।