জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ঘটনার সাংবিধানিক স্বীকৃতি, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী জুলাই যোদ্ধাদের জন্য আইনি সুরক্ষা এবং আহতদের সুচিকিৎসা ও পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি’র ষষ্ঠ বৈঠকে তারা এই দাবি উত্থাপন করেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের ৬০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁদের মতামত ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন।
প্রতিনিধিরা সংবিধানের উপযুক্ত অংশে জুলাই ঘোষণাপত্র এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করার জোর প্রস্তাব জানান। একই সঙ্গে জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষার (ইমিউনিটি) নিশ্চয়তা দেওয়া, তাদের মুখোমুখি হওয়া আইনি জটিলতা নিরসন করা এবং গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান।
গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে অংশগ্রহণকারীরা বিচারবিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত যেকোনো সংবিধান সংশোধনে গণভোট বিধান পুনরায় চালুর প্রস্তাব করেন। এ ছাড়া জুলাই আন্দোলনে নারীদের অনন্য ভূমিকার কথা স্মরণে রেখে রাজনীতিতে নারীদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার বিষয়ে কমিটি একমত পোষণ করেছে। একই সাথে বৈঠকে আলোচিত বিষয়ের বাইরেও সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত অন্য কোনো লিখিত প্রস্তাব থাকলে তা কমিটির কাছে পাঠানোর জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং শাকিলা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।