রাজধানীর মিরপুর এলাকায় আগাম কোনো তথ্য ছাড়া উচ্ছেদ অভিযান চালানো এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত না করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. শফিকুর রহমান।
আজ বুধবার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘাতের মধ্যে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই বিস্ময় ও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াত আমির লেখেন, ‘‘রাজধানীর মিরপুর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। অভিযানকালে কর্মকর্তা ও পুলিশের সঙ্গে ফুটপাতের ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সকালে মিরপুর ১৩ নম্বর থেকে ১০ নম্বর হোপ মার্কেট এলাকায় অভিযানকালে এ সংঘর্ষের সূচনা হয়।’’
জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, সংঘর্ষ চলাকালে সিটি করপোরেশনের সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশ সদস্যরা আক্রান্ত হন। এছাড়া সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া গণমাধ্যমকর্মীদেরও পেশাগত কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে।
উচ্ছেদ অভিযানে তাকে সম্পৃক্ত না করার বিষয়ে ঢাকা-১৫ আসনের এই সংসদ সদস্য লেখেন, ‘‘এই আসনটি রাজধানীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, যেখানে জনগণ তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছেন। জনগণের সুবিধা-অসুবিধা সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করা হলে বিষয়টি হয়তো আরও সমন্বিত ও ভিন্নভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো। এ ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যকে না জানিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি আমাকে বিস্মিত করেছে।’’
সহিংস সমাধান না খুঁজে মানবিক বিকল্পের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘সংঘাতের পরিবর্তে বাস্তবতা উপলব্ধি করে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন—যাতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, আবার সাধারণ মানুষের চলাচলের পথও নির্বিঘ্ন থাকে। তবে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর আগে অবশ্যই বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা দরকার ছিল।’’
উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের ওপর চাঁদাবাজির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘দুর্ভাগ্যের বিষয়, মাসের পর মাস ধরে একদল অসাধু ও চাঁদাবাজ ব্যক্তি এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায় করে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছে। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় কর্মকাণ্ড। শেষ পর্যন্ত এই চাঁদাবাজির আর্থিক বোঝা সাধারণ ক্রেতা ও সাধারণ জনগণের ওপরই গিয়ে পড়ে।’’
সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘‘বিচ্ছিন্ন কোনো পদক্ষেপ নয়; বরং সমন্বিত, সুপরিকল্পিত ও টেকসই উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে আমারও দায়বদ্ধতা রয়েছে এবং আমাকে সম্পৃক্ত করা যেত। পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে একটি উত্তম ও কার্যকর পথ বের করা সম্ভব ছিল।’’
বিবৃতিতে তিনি সবাইকে আপাতত শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে লেখেন, ‘‘যেকোনো সমস্যারই নিরপেক্ষ, বাস্তবভিত্তিক ও মানবিক সমাধানের পথ রয়েছে—কাউকে অযথা ক্ষতিগ্রস্ত করে নয়। তবে একই সঙ্গে স্পষ্ট করে বলতে চাই, ফ্যাসিবাদের দোসরদের জন্য কোনো জায়গা নেই।’’
ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো উচ্ছেদ বা উন্নয়নমূলক কাজে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করার জোর দাবি জানান তিনি।