চুয়াডাঙ্গায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালকদের হামলার প্রতিবাদে জেলার সব রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা ইউএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল কালাম আজাদ শুক্রবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধর্মঘটের ডাক দেন।
বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৌলতদিয়ার এলাকায় নিয়ম অমান্য করে এক ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালক শহরে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ও বাস শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা তাকে বাধা দিয়ে ফিরিয়ে দেন। এর জেরে ওই ইজিবাইকচালক তার সহযোগীদের নিয়ে আলুকদিয়া এলাকায় চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী একটি বাসের গতিরোধ করেন। তারা বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে মারধর করে এবং গাড়ি ভাঙচুর চালিয়ে দুই শ্রমিককে আটকে রাখে।
খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অপহৃত চালক ও সুপারভাইজারকে উদ্ধার করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা দৌলতদিয়া এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন এবং হামলায় জড়িত ইজিবাইক চালকদের শাস্তির দাবি জানান। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপারের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার পাওয়ার আশ্বাসে সে সময় সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
তবে শুক্রবার চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা-হাটবোয়ালিও সহ অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরে শনিবার সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর-হাসাদাহ, চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়া রুটসহ সব আন্তঃজেলা ও অভ্যন্তরীণ রুটে পুরোপুরি বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সড়কে অবৈধ ইজিবাইক চলাচল বন্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা থেকে কোনো রুটে বাস চলাচল করবে না।
এদিকে, হঠাৎ পরিবহন ধর্মঘটের কারণে মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। গণপরিবহন না পেয়ে বাস টার্মিনালগুলোতে অনেককে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, আবার অনেকে বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়ায় বিকল্প যানবাহনে যাতায়াত করছেন।