‘সংসদে রাজাকারদের প্রতি শোক প্রস্তাব’, প্রতিবাদে ৪১ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
‘সংসদে রাজাকারদের প্রতি শোক প্রস্তাব’, প্রতিবাদে ৪১ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি
প্রতীকী ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ও দণ্ডপ্রাপ্ত রাজাকারদের প্রতি শোক প্রস্তাব উত্থাপন অভিযোগ এনে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের ৪১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। আজ শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে কবি নির্মলেন্দু গুণ, অধ্যাপক আবু ইউসুফ, কবি হেনরী স্বপন, কবি শাহেদ কায়েস, গবেষক ও সাংবাদিক এনায়েত কবীরসহ মোট ৪১ জন বিশিষ্ট নাগরিক স্বাক্ষর করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদ অনুষ্ঠিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার শপথ নিয়ে। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদে বহু মুক্তিযোদ্ধা জনপ্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান জাতীয় সংসদে সেই ঐতিহ্যের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামী ও চিহ্নিত রাজাকারদের সংসদে উপস্থিতি এবং তাদের নিয়ে শোক প্রস্তাব উত্থাপন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অবমাননা করার শামিল। এটি শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান এবং জাতীয় ইতিহাসের জন্য লজ্জাজনক বলেও উল্লেখ করেন তারা।

নাগরিকরা আরও বলেন, যে সংসদ ৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা–বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত, সেই সংসদে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা অভিযোগ করেন, ‘জুলাই চেতনার’ আড়ালে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে মুছে ফেলার এক ধরনের অপচেষ্টা শুরু হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, রাজাকার, আল-বদর ও মানবতাবিরোধী অপরাধীরা কখনোই রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়ার যোগ্য নয়। এ ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা দেবে।

তারা অবিলম্বে জাতীয় সংসদের কার্যবিবরণী থেকে ওই শোক প্রস্তাবের অংশ প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সংসদ বা রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

সম্পর্কিত