বাংলাদেশের অন্যতম শিশুসাহিত্যিক ছড়াকার আখতার হুসেন মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পরিবার তার মৃত্যুর খবর জানিয়েছে।
১৯৪৫ সালের ১ নভেম্বর জন্ম নেওয়া আখতার হুসেনের বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তার জন্ম নাটোরের লালপুর উপজেলার নুরুল্লাপুর গ্রামে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি অনেক দিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। সর্বশেষ তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয় এবং শরীরে রক্তচাপও কমে গিয়েছিল। শারীরিক জটিলতার কারণে প্রথমে তাকে ফার্মগেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখান থেকে বারডেম হাসপাতালে আনা হয়। এরপর তাকে গ্রিন লাইফ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে আবার নেওয়া হয় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। গত শুক্রবার থেকে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
মৃত্যুকালে তিনি দুই পুত্র, স্বজন সুহৃদ ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
আখতার হুসেন বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেছেন। ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রথমা প্রকাশনের পাণ্ডুলিপি সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এক সময় যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, খেলাঘর ও উদীচীর সঙ্গে।
আখতার হুসেনের লেখা এবং সুরকার অজিত রায়ের সুরে শিল্পী তিমির নন্দীর গাওয়া ‘স্বাধীন স্বাধীন দিকে দিকে জাগছে বাঙালিরা/ আজ রুখবে তাদের কারা’ কালজয়ী গান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অংশ। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত এই গান স্বাধীনতাকামী মানুষকে প্রেরণা যুগিয়েছে।
বাংলা সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আখতার হুসেন অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’, ‘অগ্রণী ব্যাংক-শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার’, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ প্রদত্ত ‘মুক্তিযোদ্ধা কলম সৈনিক সম্মাননা স্মারক’, ‘আলাওল সাহিত্য পুরস্কার’, ‘ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার স্মৃতিপদক’, ‘মনিরউদ্দীন ইউসুফ সাহিত্য পুরস্কার’, ‘এম নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার’ ও ‘বজলুর রহমান স্মৃতিপদক’সহ আরও অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।
তিনি ছিলেন বাংলা একাডেমির ফেলো।
প্রকাশিত গ্রন্থ
ছড়া ও শিশুতোষ মৌলিক গ্রন্থ, জীবনী, অনুবাদ, সম্পাদিত গ্রন্থসহ আখতার হুসেনের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা শতাধিক। উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে—‘আমার দুটো ডানা’, ‘সমুদ্র অনেক বড়’, ‘রামধনুকের সাঁকো’, ‘ও হাওয়া ও হাওয়া’, ‘উল্টোপাল্টা’, ‘হালচাল’, ‘পাজি বেড়ালের শাস্তি’, ‘ফ্রিডম ফাইটার’, ‘কর্ণকুসুম ও কালোপাখার প্রজাপতি’, ‘খেলাঘরের পুতুলগুলো’ ও ‘ছোটদের চারণ কবি মুকুন্দদাস’।
তার ছড়ার ভাষা ছিল সহজ, প্রাণবন্ত ও স্বাভাবিক। তার অনেক ছড়া বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে স্থান পেয়েছে।