সুদীপ্ত সালাম

কী নিপুণভাবেই না শচীন দেববর্মণ বাংলা সংগীতে ক্ল্যাসিকাল ও লোকগীতির মিলন ঘটিয়েছিলেন! শচীনের অনেক গানের ভিত্তি আবহমান বাংলার ভাওয়াইয়া সুর। কিন্তু ভাওয়াইয়া তো উত্তরবঙ্গের লোকগীতি। বর্তমান কুমিল্লায় জন্ম নেওয়া শচীন তার সন্ধান কোথায় পেলেন? ভাওয়াইয়ার তালিম তিনি নিয়েছিলেন বাংলা লোকসঙ্গীতের কিংবদন্তি শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদের কাছ থেকে।
রংপুর ও ভারতের কুচবিহার জেলায় ভাওয়াইয়া গানের জন্ম। ভাওয়াইয়া গানের নিজস্বতা রয়েছে। এর সুরই এর পরিচয়। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে সাধারণত উত্তর বাংলার শিল্পী ছাড়া এ গান রপ্ত করা ভীষণ কঠিন। আব্বাসউদ্দীন আহমদের জন্ম কুচবিহারে। অনেকের মতে ভাওয়াইয়া গানকে তার মতো করে কেউ আত্মস্থ করেননি, করতে পারেননি।
শুধুই কি আত্মস্থ করেছেন? ভাওয়াইয়া গানকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। এখনো ভাওয়াইয়া গানের কথা উঠলেই চলে আসে আব্বাসউদ্দীনের নাম।
আব্বাসউদ্দীনের কাছ থেকেই শচীন শিখেছিলেন ‘ভয়েস ব্রেকিং’ বা কণ্ঠ ভাঙার কৌশল। সেই কৌশলের নিদর্শন আমরা দেখি পরবর্তীকালে তার কম্পোজ করা ও গাওয়া অনেক গানে।
সুরকার হিসেবে ভাওয়াইয়া গানের প্রতি শচীন দেববর্মণের দুর্বলতা ছিল। তিনি জানতেন, এই ধারার ওস্তাদ আব্বাসউদ্দীন আহমদ। তিনি তার শরণাপন্ন হন এবং ভাওয়াইয়ার কৌশলগুলো তার কাছ থেকে শিখে নেন। যদিও শচীন নিজে ভাওয়াইয়া গান গাইতেন না। ভাওয়াইয়ার কৌশলগুলো তার আধুনিক গানে ব্যবহার করতেন। যেভাবে তিনি ভীষ্ম দেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের নানা দিক সম্পর্কে জেনে সেগুলো ব্যবহার করেছিলেন বাংলা গানে।
শচীন দেববর্মণ রীতিমতো আব্বাসউদ্দীন আহমদের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। শিষ্যের মাধ্যমেই আব্বাসউদ্দীনের প্রভাব পড়ে বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে। একটি উদাহরণ দিই। আব্বাসউদ্দীন চল্লিশের দশকে কলকাতায় রেকর্ড করেছিলেন জনপ্রিয় ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’ জারি গান। পরে শচীন দেববর্মণ এই গানটি নিজের মতো করে গাইলেন ১৯৬৫ সালে মুক্তি পাওয়া হিন্দি সিনেমা ‘গাইড’-এ।
আব্বাসউদ্দীনের কাছ থেকেই শচীন শিখেছিলেন ‘ভয়েস ব্রেকিং’ বা কণ্ঠ ভাঙার কৌশল। সেই কৌশলের নিদর্শন আমরা দেখি পরবর্তীকালে তার কম্পোজ করা ও গাওয়া অনেক গানে। যেমন, ১৯৫৯ সালে মুক্তি পাওয়া হিন্দি সিনেমা ‘সুজাতা’র ‘সুন মেরে বন্ধু রে’ এবং ১৯৬৩ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘বন্দিনী’ সিনেমার ‘ও রে মাঝি মেরে সাজন হ্যায় উস পার’ গান দুটি। মজার ব্যাপার হলো, তিনি কখনো শুদ্ধ ভাওয়াইয়া গান কণ্ঠে তোলেননি। কারণ, ভাওয়াইয়া গানে আব্বাসউদ্দীনের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব তিনি মেনে নিয়েছিলেন।
তথ্যসূত্র:
S.D. Burman The Prince Musician by Anirudha Bhattacharjee
Incomparable Sachin Dev Burman by HQ Chowdhury
thewire.in, 30 December 2025
The Hindu, 25 November 2017
বাংলাপিডিয়া

কী নিপুণভাবেই না শচীন দেববর্মণ বাংলা সংগীতে ক্ল্যাসিকাল ও লোকগীতির মিলন ঘটিয়েছিলেন! শচীনের অনেক গানের ভিত্তি আবহমান বাংলার ভাওয়াইয়া সুর। কিন্তু ভাওয়াইয়া তো উত্তরবঙ্গের লোকগীতি। বর্তমান কুমিল্লায় জন্ম নেওয়া শচীন তার সন্ধান কোথায় পেলেন? ভাওয়াইয়ার তালিম তিনি নিয়েছিলেন বাংলা লোকসঙ্গীতের কিংবদন্তি শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদের কাছ থেকে।
রংপুর ও ভারতের কুচবিহার জেলায় ভাওয়াইয়া গানের জন্ম। ভাওয়াইয়া গানের নিজস্বতা রয়েছে। এর সুরই এর পরিচয়। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে সাধারণত উত্তর বাংলার শিল্পী ছাড়া এ গান রপ্ত করা ভীষণ কঠিন। আব্বাসউদ্দীন আহমদের জন্ম কুচবিহারে। অনেকের মতে ভাওয়াইয়া গানকে তার মতো করে কেউ আত্মস্থ করেননি, করতে পারেননি।
শুধুই কি আত্মস্থ করেছেন? ভাওয়াইয়া গানকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। এখনো ভাওয়াইয়া গানের কথা উঠলেই চলে আসে আব্বাসউদ্দীনের নাম।
আব্বাসউদ্দীনের কাছ থেকেই শচীন শিখেছিলেন ‘ভয়েস ব্রেকিং’ বা কণ্ঠ ভাঙার কৌশল। সেই কৌশলের নিদর্শন আমরা দেখি পরবর্তীকালে তার কম্পোজ করা ও গাওয়া অনেক গানে।
সুরকার হিসেবে ভাওয়াইয়া গানের প্রতি শচীন দেববর্মণের দুর্বলতা ছিল। তিনি জানতেন, এই ধারার ওস্তাদ আব্বাসউদ্দীন আহমদ। তিনি তার শরণাপন্ন হন এবং ভাওয়াইয়ার কৌশলগুলো তার কাছ থেকে শিখে নেন। যদিও শচীন নিজে ভাওয়াইয়া গান গাইতেন না। ভাওয়াইয়ার কৌশলগুলো তার আধুনিক গানে ব্যবহার করতেন। যেভাবে তিনি ভীষ্ম দেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের নানা দিক সম্পর্কে জেনে সেগুলো ব্যবহার করেছিলেন বাংলা গানে।
শচীন দেববর্মণ রীতিমতো আব্বাসউদ্দীন আহমদের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। শিষ্যের মাধ্যমেই আব্বাসউদ্দীনের প্রভাব পড়ে বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে। একটি উদাহরণ দিই। আব্বাসউদ্দীন চল্লিশের দশকে কলকাতায় রেকর্ড করেছিলেন জনপ্রিয় ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’ জারি গান। পরে শচীন দেববর্মণ এই গানটি নিজের মতো করে গাইলেন ১৯৬৫ সালে মুক্তি পাওয়া হিন্দি সিনেমা ‘গাইড’-এ।
আব্বাসউদ্দীনের কাছ থেকেই শচীন শিখেছিলেন ‘ভয়েস ব্রেকিং’ বা কণ্ঠ ভাঙার কৌশল। সেই কৌশলের নিদর্শন আমরা দেখি পরবর্তীকালে তার কম্পোজ করা ও গাওয়া অনেক গানে। যেমন, ১৯৫৯ সালে মুক্তি পাওয়া হিন্দি সিনেমা ‘সুজাতা’র ‘সুন মেরে বন্ধু রে’ এবং ১৯৬৩ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘বন্দিনী’ সিনেমার ‘ও রে মাঝি মেরে সাজন হ্যায় উস পার’ গান দুটি। মজার ব্যাপার হলো, তিনি কখনো শুদ্ধ ভাওয়াইয়া গান কণ্ঠে তোলেননি। কারণ, ভাওয়াইয়া গানে আব্বাসউদ্দীনের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব তিনি মেনে নিয়েছিলেন।
তথ্যসূত্র:
S.D. Burman The Prince Musician by Anirudha Bhattacharjee
Incomparable Sachin Dev Burman by HQ Chowdhury
thewire.in, 30 December 2025
The Hindu, 25 November 2017
বাংলাপিডিয়া