বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের দপদপিয়া সেতুতে যাত্রীবাহী বাস ও থ্রি-হুইলার মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যাত্রী নিহত ও পাঁচজন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় চার দফা দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
আজ রোববার রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসির আরাফাত গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—আহত শিক্ষার্থী ইয়াসির আরাফাতের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়কে দ্রুত পিচ ঢালাই এবং বিশেষ করে দপদপিয়া সেতুর সড়ক সংস্কার, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পাশে দ্রুত ফুটপাত নির্মাণ এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রূপাতলী পর্যন্ত সার্বক্ষণিক বাস সার্ভিস চালু করা।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন মহাসড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল অবস্থা এবং যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময় দাবি জানানো হলেও কার্যকর ও স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সড়ক সংস্কার ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মো. রাজিব বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়কের বেহাল দশা। বিভিন্ন মাধ্যমে সড়ক সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে আজ আবার দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা যে চারটি দাবি জানিয়েছি, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে আমাদের আন্দোলন চলবে।”
আরেক শিক্ষার্থী ভূমিকা সরকার বলেন, “রাস্তায় রক্ত না ঝরলে কোনো সমাধান হয় না। আমরা যে চারটি দাবি উত্থাপন করেছি, সেগুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না।”
এদিকে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন আর রশিদ। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবিগুলো শোনেন।
উপাচার্য বলেন, ‘‘শিক্ষার্থীদের সব দাবি শোনা হয়েছে। আহত শিক্ষার্থী ইয়াসির আরাফাতের চিকিৎসার ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহন করবে। পাশাপাশি রূপাতলী থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’’