কানাডার পশ্চিমে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটি দাবানল রাতারাতি প্রায় দ্বিগুণ আকার ধারণ করায় হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর শনিবার প্রদেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বাল্ড রেঞ্জের দাবানল নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং প্রায় ৯ হাজার ৫০০ হেক্টর এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে প্রদেশটির দক্ষিণাঞ্চলের অভ্যন্তরীণ এলাকায় ওকানাগান হ্রদের পশ্চিমে সামারল্যান্ড ও পিচল্যান্ডসহ কয়েকটি এলাকায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ অঞ্চলেই ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার অধিকাংশ আঙুর উৎপাদন হয় এবং এটি কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম ওয়াইন উৎপাদনকারী এলাকা।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রিমিয়ার ডেভিড ইবি শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, একজন অগ্নিনির্বাপণ কর্মকর্তা এই দাবানলকে ‘বোমা বিস্ফোরণের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন।
ডেভিড বলেন, “ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১০০ ফুট উঁচু গাছে আগুন জ্বলছিল, তারও ২০০ ফুট ওপরে আগুনের শিখা উঠছিল এবং দাবানল নিজস্ব আবহাওয়া ব্যবস্থা তৈরি করছিল। এর ফলে বজ্রপাত সৃষ্টি হচ্ছিল, যা আবার আগুনকে আরও ছড়িয়ে দিচ্ছিল।”
ডেভিড বলেন, “বাড়িঘর পুড়ে গেছে, সম্পত্তি ধ্বংস হয়েছে। পরিস্থিতি খুব দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় কিছু মানুষ আটকা পড়েছিলেন এবং তাদের উদ্ধার করতে হয়েছে।” তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত পরিবর্তনশীল ও বিপজ্জনক।
২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, সামারল্যান্ডে প্রায় ১২ হাজার এবং পিচল্যান্ডে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ মানুষ বসবাস করেন।
কর্মকর্তারা জানান, বাল্ড রেঞ্জের দাবানল চলতি গ্রীষ্মে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় উচ্ছেদ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়াজুড়ে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে হয়েছে।
সামারল্যান্ডের মেয়র ডগ হোমস ফোনে পেন্টিকটন থেকে রয়টার্সকে বলেন, “অনেক খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কতগুলো স্থাপনা পুড়ে গেছে, আমরা জানি না। তারা এখনো আগুন নেভাতে ব্যস্ত। আমাদের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”
জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে প্রাদেশিক সরকার ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞা আরোপ, পণ্যের অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সরবরাহ সুরক্ষা এবং উদ্ধার কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য বিশেষ ক্ষমতা তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োগ করতে পারে।