চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙ্গা কারখানাগুলোতে এ বছরের প্রথম ছয় মাসে ২৮টি দুর্ঘটনায় তিনজন শ্রমিক নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছেন। আজ সোমবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক সভায় প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ সংস্থাটির চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সমন্বয়ক ফজলুল কবির মিন্টু।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) করা জাহাজভাঙ্গা শিল্প সেক্টরে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত অর্ধ-বার্ষিক দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সমন্বয়ক ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, “এ বছরের প্রথম ছয় মাসে জাহাজভাঙা শিল্পে মোট ২৮টি দুর্ঘটনায় ৩ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া ১০ জন গুরুতর আহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন।”
এসব দুর্ঘটনার মধ্যে ২১টি দিনে এবং ৭টি রাতে ঘটেছে। দুর্ঘটনার প্রায় ৮০ শতাংশ ঘটেছে গার্ডার বা ভারি বস্তু পড়ে যাওয়া, ক্রেন-হুক-ওয়্যারজনিত দুর্ঘটনা এবং গ্যাস ও অগ্নিকাণ্ড-সংক্রান্ত কারণে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কাটারম্যান, কাটার হেলপার, ক্রেন হেলপার, ওয়্যার গ্রুপ, ফিটারম্যান ও লোডিং গ্রুপের শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প কারখানাগুলোতে কাজ করে।
অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) এর অভাব, তদারকির ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাবকে দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে জাহাজভাঙ্গা শিল্পে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে হংকং কনভেনশন, আইএলও গাইডলাইনস এবং বেসেল কনভেনশন বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
একইসঙ্গে পিপিই এর বাধ্যতামূলক ব্যবহার, গ্যাস টেস্ট, পারমিট টু ওয়ার্ক (পিটিডব্লিউ), নিরাপদ ক্রেন পরিচালনা, নিয়মিত টুলবক্স মিটিং এবং জরুরি মহড়াসহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়।
প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সীতাকুণ্ড উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, জাহাজভাঙ্গা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের আহ্বায়ক তপন দত্ত, বিলস এলআরএসসি সেন্টার কো-অর্ডিনেশন কমিটির চেয়ারম্যান এ এম নাজিম উদ্দিন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলতাফ হোসেন।