সোমালিয়ার কয়েকটি এলাকায় তীব্র অপুষ্টি মোকাবিলায় এ বছর অর্থায়ন ৮০ শতাংশের বেশি কমেছে। অথচ দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাস্তুচ্যুতদের শিবিরগুলোতে পরীক্ষা করা প্রতি চার শিশুর একজন গুরুতর অপুষ্টিতে ভুগছে বলে আজ মঙ্গলবার জানিয়েছে মেডিসিন সান ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ)।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
এমএসএফের স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা মিচেল সাংমা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গত বছর সোমালিয়ার ত্রাণ সংস্থাগুলোকে ৭ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছিল। এ বছর তারা কোনো অর্থ দিচ্ছে না। ফলে প্রয়োজন বাড়তে থাকলেও ত্রাণ সংস্থাগুলো পরিস্থিতি মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। অন্য পশ্চিমা দাতারাও অর্থায়ন কমিয়েছে।
সাংমা বলেন, “এ বছর আমরা ২২ হাজার অপুষ্টির রোগী ভর্তি করেছি, যা গত বছরের তুলনায় ৮০ শতাংশেরও বেশি। যখন আমাদের ব্যাপকভাবে হস্তক্ষেপ বাড়ানো প্রয়োজন, তখন আমরা দাতাদের সহায়তায় আগ্রহ কমতে দেখছি।”
জুলাইয়ে এমএসএফ দক্ষিণ-পশ্চিম সোমালিয়ার বাইদোয়ায় বাস্তুচ্যুতদের ১৪টি কেন্দ্রে ৮৮৮টি পরিবারের ওপর জরিপ চালায়। এতে দেখা যায়, প্রতি চার শিশুর একজন গুরুতর অপুষ্টিতে ভুগছে। এক-তৃতীয়াংশ পরিবার জানিয়েছে, তারা দিনে মাত্র একবেলা খাবার খেয়ে বেঁচে আছে। মাত্র ২ শতাংশ পরিবার দিনে তিনবেলা খাবারের সামর্থ্য রাখে।পরপর কয়েকটি বর্ষা মৌসুম ব্যর্থ হওয়ায় সোমালিয়ায় খাদ্যসংকট আরও তীব্র হচ্ছে। এতে ফসল নষ্ট, গবাদিপশুর মৃত্যু এবং পানির মজুত কমে গেছে। সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এতে মানুষের জীবিকা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও ত্রাণের সুযোগও সীমিত হয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে সোমালিয়ার সরকার ও জাতিসংঘ জানিয়েছিল, খরার কারণে দেশটির প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে রয়েছে।
এমএসএফ জানিয়েছে, বছরের শুরু থেকে বাইদোয়ায় পাঁচ বছরের কম বয়সী ২১ হাজারের বেশি শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ শতাংশ শিশুর তীব্র অপুষ্টি ধরা পড়েছে। তীব্র অপুষ্টি গুরুতর অপুষ্টির তুলনায় কম মাত্রার হলেও এর মধ্যে হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া অন্তর্ভুক্ত এবং এটিও জীবনহানির কারণ হতে পারে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে সোমালিয়ায় পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের অধিকাংশই খরার কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। বাস্তুচ্যুতদের প্রায় ৮৫ শতাংশ নারী ও শিশু।
এই সংকট সোমালিয়ায় ২০২২ সালের প্রায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি করছে। তবে ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, তীব্র অর্থসংকটের কারণে তাদের তৎপরতা সীমিত হয়ে পড়েছে।
এমএসএফ জানিয়েছে, দাতাদের কাছ থেকে সোমালিয়ার জন্য বর্তমানে প্রায় ৩০ কোটি ডলার পাওয়া যাচ্ছে। অথচ ২০২২ সালে একই ধরনের খরা পরিস্থিতির সময় দাতারা ২২০ কোটি ডলার দিয়েছিল।
সোমালিয়ায় এমএসএফের প্রকল্প সমন্বয়কারী আলারা আলী বলেন, “দুর্ভিক্ষ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ব অপেক্ষা করতে পারে না। প্রাণহানি ঠেকাতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।”