কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে অবস্থিত লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কানাডার সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিলেন ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে সই করেন। আদেশ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার এখন থেকে লেক অন্টারিওকে ‘লেক আমেরিকা’ নামে উল্লেখ করবে। ট্রাম্প বলেন, এই নাম পরিবর্তন ‘অবিলম্বে কার্যকর’ হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
তবে কানাডা, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান হ্রদটির কী নাম ব্যবহার করবে, এই আদেশের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমরা এখন থেকেই লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করছি। লেকের নাম পরিবর্তন, অর্থাৎ ‘লেক আমেরিকা’, অনেক দিন ধরেই আমার মাথায় ছিল।”
ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কানাডার প্রধানমন্ত্রী এবং নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট গভর্নর জানান, তারা হ্রদটির নাম পরিবর্তন করবেন না। লেকটির নাম ৪০০ বছরেরও বেশি পুরোনো।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র দেশ হিসেবে গড়ে ওঠারও আগে থেকেই এই হ্রদের নাম ছিল লেক অন্টারিও।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্নি বলেন, “আমরা জানি, আমেরিকা বদলে যাচ্ছে। তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক, পররাষ্ট্রনীতি, জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ এবং জলাশয়ের নামও বদলাচ্ছে।”
লেক অন্টারিওর পানির ওপরের অংশের প্রায় ৫২ শতাংশ কানাডায় এবং বাকি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, “নিউইয়র্কে আমরা এটিকে ওই নামে ডাকব না।”
কানাডা ও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সীমান্তবর্তী ভারমন্টের রিপাবলিকান গভর্নর ফিল স্কটও বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি এই সিদ্ধান্তকে ‘তুচ্ছ ও হতাশাজনক’ বলে মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা গত সপ্তাহে ভেঙে গেছে। টানা তিন দিন আলোচনা চলার পরও সমঝোতায় পৌঁঝাতে পারেনি। পরে দুই দেশই একে অপরের ওপর শুল্কারোপের ঘোষণা দেয়। সেইসঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ করার জন্যও একে অপরকে দায়ী করেছে। এরই মধ্যে লেকের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা সামনে এলো।