এক বৃদ্ধ অটোরিকশা চালককে কয়েক যুবক মারছে—এই ঘটনা দেখে এর প্রতিবাদ করেছিলেন পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এসআই আলতাব হোসেন (৫৮)। এরপরই তার ওপর হামলা চালানো হয়, শেষে প্রাণ হারান। পুলিশ বলছে, এই ঘটনায় মূল আসামি জহুরুলকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ রোববার দুপুরে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম চরচাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গতকাল শনিবার রাতে আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তার ছোট ছেলেকেও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।
সাইফুল আলম চরচাকে বলেন, ‘‘এই ঘটনায় হামলার মূল হোতা জহুরুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জহুরুল প্রাইভেট কারের মালিক। তার সাথে বাকিদের আটকের চেষ্টা চলছে।’’
সাইফুল আলম বলেন, “শনিবার কারখানার কাছেই ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন আলতাব। পথে তিনি একটি প্রাইভেট কারে থাকা কয়েকজন যুবককে এক বৃদ্ধ অটোরিকশা চালককে মারধর করতে দেখেন। এ সময় আলতাব প্রতিবাদ করলে ওই যুবকরা তাকেও মারধর করেন। প্রাণ বাঁচাতে আলতাব নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে দৌড়ে কারখানার ভেতরে ঢুকে পড়েন। পরে ওই যুবকরা আরও ১৫-২০ জনকে ডেকে এনে কারখানায় হামলা চালায়। তারা কারখানায় ঢুকে মেশিন ও গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ভাঙচুর করে এবং আলতাব ও তার ছেলে মো. আরিফকে পিটিয়ে চলে যায়।”
সাইফুল আলম জানান, পরে প্রতিবেশীরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক আলতাবকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ছেলে আরিফ চিকিৎসাধীন।
পরে নিহত পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী শিউলি বেগম বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ২০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন বলেও জানান পুলিশ কর্মকর্তা সাইফুল আলম।