রাজধানীর ধানমন্ডিতে অস্ত্রের মুখে এক ব্যবসায়ীর ৩৮ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে তিনজন সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য রয়েছে। এ চক্রে বর্তমান এক সেনা সদস্যও আছেন, যার বিষয়ে তার বাহিনীকে অবগত করা হয়েছে।
আজ রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসে এ ডাকাতির ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজনকে ঘটনার সময় হাতেনাতে এবং বাকিদের দক্ষিণখান, পটুয়াখালী, কুয়াকাটা বাসস্ট্যান্ড, মোহাম্মদপুর, বায়তুল মোকাররমসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।তারা হলেন—তানভীর আবেদীন (৪১), মজিবুর রহমান (৬০), জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকির (৬০), সোলায়মান মৃধা (৫৫), মোহাম্মদ কবির হোসেন (৫০), আবুল কালাম আজাদ (৫০), জাকারিয়া হোসেন ওরফে লেলিন (৪০), সজল চৌধুরী (৩১) ও সায়মুন চৌধুরী (৩৩)।
সাবেক সেনা সদস্যদের বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, “মজিবুর রহমান সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। মোহাম্মদ জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকির সেনাবাহিনীর অনারারি ক্যাপ্টেন পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। আর সোলায়মান সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার পদ থেকে অবসর নিয়েছেন।” তাদের মধ্যে কেউ কেউ এক সময় র্যাবে কর্মরত ছিলেন বলে জানান তিনি।
উদ্ধার করা টাকা ও অস্ত্র। ছবি: চরচা
পুলিশের এক কর্মকর্তা চরচাকে বলেন, এ চক্রে সফিকুল ইসলাম নামের নামে সেনাবাহিনীর একজন ল্যান্স করপোরালও রয়েছেন। তিনি বর্তমানে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত আছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধানমন্ডি থানার ওসি মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম বলেন, “আমরা তার বিষয়ে সেনাবাহিনীকে অবগত করেছি, মামলার যাবতীয় নথিও পাঠিয়ে দিয়েছি। তার বিরুদ্ধে হয়তো তারা সেনা আইনে ব্যবস্থা নেবে, তবে তাকে এখনো আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।"
গত ৩০ অগাস্ট দুপুরে ধানমন্ডি ১২ নম্বর সড়কে ডিঙ্গি রেস্তোরাঁর সামনে খোরশেদ আলম নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে ৩৮ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় ৮-১০ জনের একটি দল। এ ঘটনায় ডাকাতির অভিযোগে খোরশেদ আলম এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ধানমন্ডি থানার এসআই সাইফুল ইসলাম পরদিন মামলা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম কমিশনার ফারুক বলেন, “গ্রেপ্তার জাকারিয়ার কাছ থেকে লুট হওয়া ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩৫০ টাকা এবং সজল চৌধুরীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।” চক্রে জড়িত পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
গ্রেপ্তার তানভীরের বিরুদ্ধে চারটি ও সজলের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলার তথ্য পেয়েছে পুলিশ, যেগুলো ডাকাতি ও ছিনতাই সংক্রান্ত। আর জাকারিয়ার বিরুদ্ধে মাদক ও হত্যাচেষ্টার দুটি মামলা রয়েছে।