রাজশাহীতে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও খুচরা বাজারের সার সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। এতে ঢাকা-রাজশাহী রুটে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে প্রায় তিন শতাধিক কৃষক একজোট হয়ে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, রোপা আমন মৌসুমে জমিতে সার প্রয়োগের উপযুক্ত সময় হলেও স্থানীয় ডিলারদের কাছে প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না কৃষকেরা। উল্টো অভিযোগ রয়েছে, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে। সকালে পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজারে সার ডিলারের দোকানের সামনে দীর্ঘ লাইন দিয়েও সার না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কৃষকেরা।
পরে তারা বানেশ্বর বাজারে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন।আন্দোলনরত পুঠিয়ার বিড়ালদহ গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম (৪৫) আক্ষেপ করে বলেন, “আমন ধানের গাছে এখনই সার দেওয়ার আসল সময়। তিন দিন ধরে বানেশ্বর বাজারে ঘুরছি, ডিলার বলে সার নাই। কিন্তু বাজারের খুচরা দোকানে গোপনে বেশি টাকা দিলেই সার পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি দামে সার না পেলে আমাদের চাষবাস করে না খেয়ে থাকা লাগবে।”
আরেক কৃষক রফিকুল ইসলাম (৫০) বলেন, “ভোর ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ১০টার সময় ডিলার ওছমান আলী বলে সার শেষ। আমরা সার না পাই জমি রক্ষা করবো কেমনে? সিন্ডিকেট করে আমাদের পকেট কাটা চলছে, এর বিচার চাই।”
আন্দোলনরত কৃষকদের দাবি, পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও অসাধু সিন্ডিকেটের কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। ন্যায্য মূল্যে প্রয়োজনীয় ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সার না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
ঘণ্টাব্যাপী অবরোধের ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত বাস, ট্রাক ও যাত্রীবাহী যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
সংবাদ পেয়ে বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষুব্ধ কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসে।
এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিয়াকত সালমান চরচাকে বলেন, অসাধু ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত মূল্যে সার সরবরাহ করা হবে।
তবে কৃষকদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় সার ডিলার ও রাজশাহী জেলা সার ও কীটনাশক কমিটির সভাপতি ওছমান আলী। সারের পর্যাপ্ত মজুদের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “কৃষকরা ভিত্তিহীন অভিযোগে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছেন। আমাদের এখানে এখন পর্যন্ত ইউরিয়ার কোনো সংকট নাই। কারণ হচ্ছে, আমার কাছে এখনো ১০৪০ বস্তা অর্থাৎ ৫১ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার মজুদ আছে। ডিএপি মজুদ আছে দেড় টন, এমওপি প্রায় এক টন, আর টিএসপি আছে ১.৬৫ মেট্রিক টন। তবে মাসের শেষ দিকে সেকারণে নন-ইউরিয়া মজুদ কমে গেছে।”
পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আশ্বাসে কৃষকেরা মহাসড়ক অবরোধ তুলে নেন। বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।