দেশের প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীর ‘কৃতজ্ঞতাবোধ’ কম বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘‘বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক দল আছে যারা ধর্মকে ব্যবহার করে। এই দলের অভিনয় দেখতে দেখতে আমরা আজ অতিষ্ঠ। তাদের কৃতজ্ঞতাবোধ খুবই কম। ১৯৯১ সালে আমরা তাদের সাথে নিয়ে সরকার গঠন করেছিলাম। সেবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তারা আমাদের ওপর ভর করে আধিপত্য বিস্তার করেছিল।’’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘তাদের নামের পেছনে আগে তো ‘রাজাকার’ লেখা ছিলই। সেই রাজাকার থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি দেওয়ার জন্য আমাদের শ্রদ্ধেয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০১ সালে তাদের দুইজন নেতার গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছিলেন। অথচ তারা আজ তা বেমালুম ভুলে গেছে।’’
সরকারের অবস্থান তুলে ধরে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার, যা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গঠিত হয়েছে। অথচ আপনারা (জামায়াত) মাত্র ছয় মাসের মাথায় লংমার্চের ভয় দেখান এবং একদফার আন্দোলন করে সরকার পতনের হুমকি দেন!’’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘‘এই সরকার জনগণের সরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘লংমার্চ করে যদি বিদ্যুৎ ও গ্যাস পাওয়া যেত, তবে সবচেয়ে বড় লংমার্চ বিএনপিই করত।’ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সূচনা আমাদের আমলে হয়নি; এটি উত্তরাধিকার সূত্রে আগের ফ্যাসিস্ট সরকারের কাছ থেকে পাওয়া সমস্যা।’’
বর্তমান সরকারের মেয়াদ মাত্র সাত মাস উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছি। যেখানেই কোনো ত্রুটি হয়েছে, আমরা জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। কারণ জনগণের সাথে আমাদের আত্মার সম্পর্ক। দেশের মানুষ যতবারই নিরপেক্ষভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়েছে।’’
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০টি পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ প্রশাসক মাহবুবুর রহমান শামীমসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।