অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজের শুরুটা স্মরণীয় করতে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। আধুনিক যুগের ওয়ানডে ক্রিকেটের সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যর্থ নিগার সুলতানার দল ভীষণ মন্থরগতির ব্যাটিংয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জই জানাতে পারেনি। বোলারদেরও করার ছিল না বেশি কিছু।
ব্রিসবেনে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ১১ রানে দুই উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। সেই ধাক্কা সামাল দিতে গিয়ে অধিনায়ক নিগার ডট বলের পর ডট বল খেলে দলকে আরও চাপের মুখে ঠেলে দেন।
দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও সফল ব্যাটার হয়েও নিগার যে ইনিংসটি খেলেন, তাতে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহ গড়ার সব সম্ভাবনাই শেষ হয়ে যায়। বড় শট খেলার চেষ্টা বলতে গেলে করেননি এই ডানহাতি ব্যাটার।
দলের আরেক নির্ভরযোগ্য ব্যাটার সোবহানা মোস্তারি মাত্র দুই রান করে আউট হয়ে যাওয়ার পর নিগার যেন আরও রয়েসয়ে ব্যাটিং শুরু করেন। তাতে ৮৬ বল খেলে তিনটি বাউন্ডারিতে তিনি করতে পারেন মাত্র ২৯ রান। স্ট্রাইক রেট ছিল মাত্র ৩৩.৭২।
নিগার যখন বিদায় নেন, তখন বাংলাদেশের রান ৫ উইকেটে ৮৩। স্বর্ণা আক্তার ২১ রান করেন বটে তার ব্যাতেও ছিল জড়তা। বল খেলেন ৫০টি। এই দুজনের ব্যাটিংয়ের কারণে শেষের ব্যাটারদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে যায়।
সেই চাপ অনেকটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন রিতু মনি। সাতে নেমে তিনি ৬৩ বলে ৪৫ রান করেন ইনিংস। তবে তাতেও অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে লড়াই করার মতো পুঁজি পায়নি বাংলাদেশ। ৪৯.৪ ওভারে ১৬৬ রানেই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
এত অল্প রান নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে তাদের মাটিতে গিয়ে জয়ের আশা করাটা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। হয়েছেও তাই। অস্ট্রেলিয়া দলীয় ৩০ রানে জর্জিয়া ভলকে হারালেও এরপর জয় পেতে মোটেও বেগ পেতে হয়নি তাদের। বাংলাদেশের কোনো বোলারই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের পরীক্ষা নিতে পারেননি।
ওপেনার ফোবি লিচফিল্ড মাত্র ৫৭ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলে দলের জয়কে ত্বরান্বিত করেন। তারকা অলরাউন্ডার এলিস পেরি শেষ পর্যন্ত ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন। অ্যানাবেল সাদারল্যান্ডও অপরাজিত থাকেন ২৫ রানে। তাতে মাত্র ২৫.৪ ওভারেই তিন উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।