চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র শাহাদাত হোসেনের অভিযোগ তোলার কয়েক ঘণ্টা পর খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রহিমকে বদলি করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, এটি নিয়মিত বদলি।
গতকাল বুধবার বিকেলে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সই করা এক আদেশে এই রদবদল করা হয়। একই আদেশে আকবরশাহ ও চকবাজার থানাতেও ওসি পদে রদবদল আনা হয়।
আদেশ অনুযায়ী, চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নাজের হোসেনকে আকবরশাহ থানার ওসি করা হয়। আকবরশাহ থানার বর্তমান ওসি মো. কামরুজ্জামানকে বদলি করে খুলশী থানার ওসি করা হয়েছে। আর খুলশী থানার ওসি মো. আবদুর রহিমকে সিএমপির সিটিএসবিতে বদলি করা হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী চরচাকে বলেন, “নিয়মিত বদলির অংশ হিসেবে এ পরিবর্তন করা হয়েছে। কারও অভিযোগের ভিত্তিতে এ বদলি নয়।”
সম্প্রতি পাহাড়তলী কলেজের এক শিক্ষককে ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগে হওয়া মামলায় গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে খুলশী থানা-পুলিশ ওয়াকিল উদ্দিন বগাকে ধরতে ওয়্যারলেস কলোনি এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের ওপর হামলা চালায় বগার অনুসারীরা। আহত হন পুলিশের ছয় সদস্য।
পরে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াকিল হোসেন বগা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে অবস্থান করছে জেনে গত মঙ্গলবার রাতে সেখানে অবস্থান নেয় পুলিশ। ওই সময় নিজ কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তবে মেয়রের হস্তক্ষেপের কারণে পুলিশ বগাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
গতকাল বুধবার দুপুরে ওসি আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগপ্রীতির অভিযোগ তোলেন এবং তিনি কীভাবে এ সরকারের আমলে ওসি হয়েছেন, সে প্রশ্নও করেন।
শাহাদাত সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘ওয়াকিল কোনো আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী নয়। সে গত ১৭-১৮ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল। জুলাই-আগস্টের একজন যোদ্ধাও সে। গত ১৬ বছরে তাকে প্রায় ৭০-৮০টি মামলা দিয়েছে আওয়ামী লীগ।’’
এ সরকারের আমলে আবদুর রহিম কীভাবে খুলশী থানার দায়িত্ব পালন করেন—প্রশ্ন তুলে বিএনপি নেতা শাহাদাত বলেন, খুলশী থানার ওসি হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা গ্রেপ্তার হননি। ছাত্রলীগ-যুবলীগের কোনো নেতা গ্রেপ্তার হননি।
সিটি মেয়রের অভিযোগ, আবদুর রহিম আওয়ামী লীগের সময় চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার ওসি ছিলেন।
সিটি মেয়রের এ অভিযোগের পর সন্ধ্যায় খুলশী থানার ওসিকে বদলি করা হয়।