জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে পুলিশের সাবেক এক সার্জেন্টকে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে চট্টগ্রামের একটি আদালত। আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্পেশাল জজ মো. মিজানুর রহমান এ রায় দিয়েছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত বেলায়েত হোসেন চট্টগ্রামে পুলিশের সার্জেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি নোয়াখালীর সুধারাম উপজেলার নোয়ান্নাই গ্রামে।
দুদকের আইনজীবী রেজাউল করিম রনি চরচাকে বলেন, “আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় ৩ বছর কারাদণ্ড এবং ৮৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “পাশাপাশি দুদক আইনের ২৬(২) ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও আনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। মামলায় জামিনে থাকা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বেলায়েত রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন না।”
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২১ জুলাই ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলাটি করেন দুদকের চট্টগ্রাম-২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মনজুর আলম।
দুদকে দেয়া সম্পদ বিবরণীতে বেলায়েত আয়ের উৎস ও খাতের মিথ্যা বিবরণী দাখিল করেন বলে অভিযোগ। তিনি নিজের নামে থাকা ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেন বলে দুদক জানায়। দুদকের অনুসন্ধানে তার নিজের জ্ঞাত আয় বর্হিভূত অবৈধ সম্পদ মেলে ৯৮ লাখ টাকার।
পুলিশে চাকরির সুবাদে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ড ও সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বর্হিভূত এসব সম্পদ অর্জন করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
২০১১ সালের ২৩ অক্টোবর বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করা হয়।