বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কিউকতাও শহরে সামরিক বাহিনীর এক বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত ও ৫৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। গত সোমবার ব্যস্ত সময়ে জনবহুল বাজারে চালানো এই হামলার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ এ ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বার্ত সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পক্ষে প্রধান মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক জানান, এই হামলা প্রমাণ করে রাখাইনে বাস্তুচ্যুত ও শরণার্থীদের নিরাপদে ফেরার মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি। মহাসচিব অবিলম্বে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্কের দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, বাজারে রাখাইন, রোহিঙ্গা, হিন্দু ও দাইংনেত সম্প্রদায়ের ২০০টিরও বেশি দোকান চালু থাকা অবস্থায় এ হামলা চালানো হয়, ফলে প্রাণহানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’-র মুখপাত্র খাইন থু খা অভিযোগ করেন, জান্তা বাহিনী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘনবসতিপূর্ণ বাজার, স্কুল ও বাসাবাড়িতে বোমাবর্ষণ করেছে। এর কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
তবে এ বিষয়ে মিয়ানমার জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও গৃহযুদ্ধে দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
অন্যদিকে, ভারতের অরুণাচল প্রদেশের চাংলাং জেলায় ভারত-মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আসাম রাইফেলসের একটি টহল দলের ওপর অতর্কিত সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে ভারত-মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আসাম রাইফেলসের হাবিলদার জানখোকাই কুকি (৪২) নামের এক সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।