ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বাংলাবাজার শোরুমে হামলা, বিক্রয়কর্মীদের হয়রানি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশের নাগরিক সমাজ। আজ মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২৮ সেপ্টেম্বর ইউপিএলের বাংলাবাজার শোরুমে একদল লোক জোরপূর্বক প্রবেশ করে আক্রমণাত্মক আচরণ করেন, দোকানের শাটার নামিয়ে দেন এবং বিক্রয়কর্মীদের হয়রানি করে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আটকে রাখেন।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, যেকোনো বইয়ের বক্তব্য বা পর্যালোচনার সঙ্গে দ্বিমত বা সমালোচনা করার অধিকার সবার থাকলেও, পেশিশক্তির জোড়ে অন্যের বই প্রকাশ, বিক্রি বা পাঠের অধিকার কেড়ে নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। কোনো বই নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত কেবল আইনসম্মত প্রক্রিয়াতেই হতে পারে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নয়। 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বইটিকে ইতিহাসচর্চার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান উল্লেখ করে তারা বলেন, ভিন্নমত প্রকাশের একমাত্র পথ মুক্ত আলোচনা, গবেষণা ও যুক্তি—কোনো বইয়ের দোকানে হামলা নয়।
বিবৃতিতে বিক্রয়কর্মীদের পুলিশ ফাঁড়িতে আটকে রাখার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ইউপিএল কর্মীসহ সকল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার জোর দাবি জানানো হয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশ রক্ষা করতে লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
বিবৃতিতে আইনজীবী সারা হোসেন, ড. শরীফ ভূঁইয়া, মানজুর আল মতিন, শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা, সামিনা লুৎফা, রুশাদ ফরিদী, ফিরদৌস আজীম, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, লেখক রেহনুমা আহমেদ, গবেষক সায়দিয়া গুলরুখ, অর্থনীতিবিদ জিয়া হাসান, সামাজিক কর্মী খুশী কবির ও আদিবাসী অধিকারকর্মী রাণী ইয়েন ইয়েনসহ ৩৬ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও অধিকারকর্মী স্বাক্ষর করেন।