রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা বিএনপিকর্মী মুশফিকুর রহমান আবিরের (২৮) হত্যাচেষ্টা মামলায় মৌলভীবাজার-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদকে (৭৮) গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্টন মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো. আবু সালেহ আসামি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদকে আদালতে হাজির করে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা গ্রেপ্তারের পক্ষে শুনানি করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত মনসুরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৪ ডিসেম্বর কলাবাগান এলাকার লেক সার্কাসের ১ নম্বর সড়কের মাথা থেকে বাদী মুশফিকুর রহমানকে কয়েকজন ব্যক্তি গাড়িতে তুলে নিয়ে মারধর করেন। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাজারীবাগের একটি ট্যানারির গুদামে আটকে রেখে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং পরিচিত ব্যক্তিদের ফোন নম্বর দিতে চাপ দেওয়া হয়।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, বাদীর কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে তার পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার পর ৫ ডিসেম্বর সকালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরে ওই বছরের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় হামলা, গুলিবর্ষণ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জের অভিযোগও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের ইন্ধন ও নির্দেশনা থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে ভুক্তভোগী মুশফিকুর রহমান আবির বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই মামলার এজাহারনামীয় আসামি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ।
পুলিশের দাবি, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে সুলতান মনসুরকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।