বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাশিয়া (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন) সফরের ৯৬তম বার্ষিকী ঢাকায় উদ্যাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ঢাকার রাশিয়ান হাউস ও সংস্কৃতির যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আলো: রবীন্দ্রনাথের রাশিয়া সফর—চিঠি, গান ও ভাবনা’ শীর্ষক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
গতকাল শনিবার ঢাকার ধানমন্ডিতে রাশিয়ান হাউসে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে তৎকালীন সোভিয়েত সমাজ সম্পর্কে কবির দৃষ্টিভঙ্গি এবং শিক্ষা, সামাজিক অগ্রগতি, মানবিক মর্যাদা ও সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে তার চিন্তাভাবনাগুলো তুলে ধরা হয়।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ঢাকায় রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেকজান্দ্রা এ খলেভনয় তার বক্তব্যে সোভিয়েত শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি রবীন্দ্রনাথের গভীর আগ্রহ ও প্রশংসার কথা উল্লেখ করেন। যা আজও রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার শিক্ষাগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
তিনি আরও জানান যে, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রুশ সরকারি বৃত্তির সংখ্যা প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণের নতুন সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বাংলা ও রুশ ভাষায় কবিতা পাঠ।
ছবি: ঢাকার রাশিয়ান হাউসের ফেসবুক
সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ভেরোনিকা ক্লিমচেঙ্কো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতা আবৃত্তি করেন। তিনি বিদেশি ভাষা হিসেবে বাংলা শিখেছেন এবং বর্তমানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ইন্টার্নশিপ করছেন।
এ ছাড়া, ঢাকায় রাশিয়ান হাউসের রুশ ভাষা কোর্সের শিক্ষার্থীরাও কবিতা পাঠে অংশগ্রহণ করেন।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্যে ছিল মস্কোর এমজিআইএমও ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে “আমি চিনি গো চিনি তোমারে” গানটি এবং জুলিয়ানা ঝাভোরনকোভার কণ্ঠে “গ্রামছাড়া ওই রাঙামাটির পথ” গানটির পরিবেশনা।
সবশেষে ‘সংস্কৃতি’-এর শিল্পীরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বেশ কিছু গান পরিবেশন করেন। এর মধ্য দিয়ে কবির সর্বজনীন মানবতাবাদী দর্শন এবং বাংলা ও রাশিয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক বন্ধন উদ্যাপন করা হয়।
ছবি: ঢাকার রাশিয়ান হাউসের ফেসবুক
অনুষ্ঠানে ড. ইন্দ্রজিৎ রায় রচিত ‘দ্য সোভিয়েত ইউনিয়ন ইন ইটস আর্লি ডেইজ: ইন দ্য আইজ অব দ্য পোয়েট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’ বইটির পরিচিতি তুলে ধরা হয়। বইটি নিয়ে পর্যালোচনা করেন মোশতাক আহমেদ।
এ ছাড়া, ‘রাশিয়া থেকে লেখা চিঠি’ থেকে পাঠ এবং ‘ঠাকুর ইন রাশিয়া’ (১৯৬১) শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে অতিথিরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাশিয়া ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ পান।
ছবি: ঢাকার রাশিয়ান হাউসের ফেসবুক
অনুষ্ঠানটি রবীন্দ্রনাথের রাশিয়া সফরের অভিজ্ঞতা নতুন করে স্মরণ করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত সম্পর্ক নিয়ে ভাবনার সুযোগ তৈরি করে। সাহিত্য, সংগীত ও শিক্ষার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মানুষের মধ্যে এই সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে।