তাসীন মল্লিক

আইন সংশোধন করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে এসব সংশোধনী প্রস্তাব খসড়া আকারে অনুমোদন দিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি।
গত সোমবার ইসির ১২তম কমিশন সভায় অনুমোদিত সংশোধনীর প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে নতুন চারটি অযোগ্যতার শর্ত সংযোজন। তবে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ঠেকাতে আলাদা কোনো বিধান আপাতত বিবেচনায় নেই। এছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের আইনি ভিত্তি স্পষ্ট করার সংশোধনী প্রস্তাব রয়েছে।
প্রার্থী অযোগ্যতায় নতুন শর্ত
ইসি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার তালিকায় নতুন কিছু শর্ত যুক্ত করতে যাচ্ছে। বিদ্যমান আইনে এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধান থাকলেও নতুন প্রস্তাবে তা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দ্বৈত নাগরিকত্ব
বর্তমানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই, তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমন কোনো বাধা ছিল না। প্রস্তাবিত পরিবর্তনে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদ ছাড়া অন্য সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ সীমিত করার কথা বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ মন্তব্য করেছেন, “দ্বৈত নাগরিকত্বধারীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না—এগুলো সংবিধানে প্রদত্ত বিধানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।’’ সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকরা সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মকর্তা
এখনকার আইনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। নতুন প্রস্তাবে তাদের প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্যতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

ঋণ ও বিল খেলাপি
ঋণ খেলাপির ক্ষেত্রে বন্ধকদাতা ও গ্যারান্টার উভয়কেই অযোগ্য করার প্রস্তাবে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে কমিশন। একইভাবে বিদ্যুৎ বিল, ভূমি কর, ওয়াসাসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার বিল খেলাপি ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক এগুলোকেও অযোগ্যতার আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশোধনী প্রস্তাব রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি।
আইসিটি মামলার আসামি
আরেকটি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গৃহীত হয়েছে, তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এই প্রস্তাব আনা হয়েছে।
আইসিটি আইনের ২০সি ধারায় অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান আগে থেকেই রয়েছে। তবে এটি স্থানীয় সরকার আইনে যুক্ত না থাকায় আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। এই কারণে বিধানটি স্থানীয় সরকারের ক্ষেত্রেও চালু করা হবে।
সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব
সংশোধনী প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন—এই চার ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আইনে পরিবর্তনের খসড়া তৈরি করেছে সংস্থাটির আইন–বিধি সংস্কার কমিটি। জেলা পরিষদ এই প্রস্তাবনার আওতার বাইরে রয়েছে।
বর্তমান আইনি কাঠামোতে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা আইনে ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’র তালিকায় প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের উল্লেখ থাকায় প্রয়োজন হলে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন আইনে এ ধরনের স্পষ্টতা নেই। এই বৈষম্য দূর করতে সব স্থানীয় সরকার আইনে সশস্ত্র বাহিনীকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে ইসি।

ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, ‘‘সশস্ত্র বাহিনী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সব আইনে সমভাবে নেই, তাই আমরা মনে করি এটি সব আইনেই একইভাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত।’’
আইন সংশোধনে ধাপগুলো
খসড়া প্রস্তাবগুলো আইন মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ হিসেবে পাঠানো হবে। এরপর সরকার চাইলে সংশ্লিষ্ট আইনে সংশোধনের উদ্যোগ নেবে। সেই প্রক্রিয়ায় প্রথমে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন এবং পরে জাতীয় সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে পরিবর্তন কার্যকর করা হবে।
ইসির সিনিয়র সচিব কমিশন সভার পর এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আইন সংশোধনের বিষয়টা আইনি প্রক্রিয়ার ব্যাপার। আমরা প্রস্তাব পাঠাবো স্থানীয় সরকার বিভাগকে। তারা যদি আমাদের প্রস্তাব উপযুক্ত মনে করে, তবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। আমরা আইন চূড়ান্ত করার এখতিয়ার রাখি না, আমরা কেবল প্রস্তাবনা বা সুপারিশ করতে পারি। চূড়ান্ত করার দায়িত্ব তো স্থানীয় সরকার বিভাগ ও জাতীয় সংসদের।’’
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্থানীয় সরকার আইনে অধ্যাদেশের মাধ্যমে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তখন দলীয় প্রতীকে নির্বাচন আয়োজনের বিধান বাতিল করা হয় এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রশাসক নিয়োগের বিধান যুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে এসব অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে অনুমোদিত হয়।

আইন সংশোধন করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে এসব সংশোধনী প্রস্তাব খসড়া আকারে অনুমোদন দিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি।
গত সোমবার ইসির ১২তম কমিশন সভায় অনুমোদিত সংশোধনীর প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে নতুন চারটি অযোগ্যতার শর্ত সংযোজন। তবে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ঠেকাতে আলাদা কোনো বিধান আপাতত বিবেচনায় নেই। এছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের আইনি ভিত্তি স্পষ্ট করার সংশোধনী প্রস্তাব রয়েছে।
প্রার্থী অযোগ্যতায় নতুন শর্ত
ইসি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার তালিকায় নতুন কিছু শর্ত যুক্ত করতে যাচ্ছে। বিদ্যমান আইনে এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধান থাকলেও নতুন প্রস্তাবে তা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দ্বৈত নাগরিকত্ব
বর্তমানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই, তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমন কোনো বাধা ছিল না। প্রস্তাবিত পরিবর্তনে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদ ছাড়া অন্য সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ সীমিত করার কথা বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ মন্তব্য করেছেন, “দ্বৈত নাগরিকত্বধারীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না—এগুলো সংবিধানে প্রদত্ত বিধানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।’’ সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকরা সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মকর্তা
এখনকার আইনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। নতুন প্রস্তাবে তাদের প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্যতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

ঋণ ও বিল খেলাপি
ঋণ খেলাপির ক্ষেত্রে বন্ধকদাতা ও গ্যারান্টার উভয়কেই অযোগ্য করার প্রস্তাবে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে কমিশন। একইভাবে বিদ্যুৎ বিল, ভূমি কর, ওয়াসাসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার বিল খেলাপি ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক এগুলোকেও অযোগ্যতার আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশোধনী প্রস্তাব রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি।
আইসিটি মামলার আসামি
আরেকটি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গৃহীত হয়েছে, তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এই প্রস্তাব আনা হয়েছে।
আইসিটি আইনের ২০সি ধারায় অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান আগে থেকেই রয়েছে। তবে এটি স্থানীয় সরকার আইনে যুক্ত না থাকায় আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। এই কারণে বিধানটি স্থানীয় সরকারের ক্ষেত্রেও চালু করা হবে।
সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব
সংশোধনী প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন—এই চার ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আইনে পরিবর্তনের খসড়া তৈরি করেছে সংস্থাটির আইন–বিধি সংস্কার কমিটি। জেলা পরিষদ এই প্রস্তাবনার আওতার বাইরে রয়েছে।
বর্তমান আইনি কাঠামোতে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা আইনে ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’র তালিকায় প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের উল্লেখ থাকায় প্রয়োজন হলে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন আইনে এ ধরনের স্পষ্টতা নেই। এই বৈষম্য দূর করতে সব স্থানীয় সরকার আইনে সশস্ত্র বাহিনীকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে ইসি।

ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, ‘‘সশস্ত্র বাহিনী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সব আইনে সমভাবে নেই, তাই আমরা মনে করি এটি সব আইনেই একইভাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত।’’
আইন সংশোধনে ধাপগুলো
খসড়া প্রস্তাবগুলো আইন মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ হিসেবে পাঠানো হবে। এরপর সরকার চাইলে সংশ্লিষ্ট আইনে সংশোধনের উদ্যোগ নেবে। সেই প্রক্রিয়ায় প্রথমে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন এবং পরে জাতীয় সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে পরিবর্তন কার্যকর করা হবে।
ইসির সিনিয়র সচিব কমিশন সভার পর এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আইন সংশোধনের বিষয়টা আইনি প্রক্রিয়ার ব্যাপার। আমরা প্রস্তাব পাঠাবো স্থানীয় সরকার বিভাগকে। তারা যদি আমাদের প্রস্তাব উপযুক্ত মনে করে, তবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। আমরা আইন চূড়ান্ত করার এখতিয়ার রাখি না, আমরা কেবল প্রস্তাবনা বা সুপারিশ করতে পারি। চূড়ান্ত করার দায়িত্ব তো স্থানীয় সরকার বিভাগ ও জাতীয় সংসদের।’’
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্থানীয় সরকার আইনে অধ্যাদেশের মাধ্যমে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তখন দলীয় প্রতীকে নির্বাচন আয়োজনের বিধান বাতিল করা হয় এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রশাসক নিয়োগের বিধান যুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে এসব অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে অনুমোদিত হয়।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের আমলে অষ্টম জাতীয় সংসদে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবু হেনাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। তার সংসদ সদস্য থাকবে কি না–বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তখন সংবিধানের ৭০ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আবু হেনার সদস্য পদ রাখার সিদ্ধান্ত নেন তৎকালীন স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার।