ads

ককরোচ পার্টির নেতারা কি ক্ষমতায় যেতে চায়?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ককরোচ পার্টির নেতারা কি ক্ষমতায় যেতে চায়?
জন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর আন্দোলন। ছবি: সংগৃহীত

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে চলা তীব্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এই সফল আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া সিজেপি নেতারা রাজনীতিতে যোগ দেবেন কি না, এ নিয়ে সব স্তরে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

আজ রোববার সকালে এক্সে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় আন্দোলনের অন্যতম মুখ ও সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, “এটি কেবল শুরু। ককরোচ জনতা পার্টিকে অনেক দূর যেতে হবে।” ৩৭ দিনের টানা আন্দোলন ‘ভীষণ কঠিন’ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Advertisement

ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দীপকে জানান, কয়েক সপ্তাহের আন্দোলনের পর অবশেষে তিনি কিছুটা স্বস্তিতে বিশ্রাম নিতে পারছেন।

এদিকে, এই সফল আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া সিজেপি নেতারা রাজনীতিতে যোগ দেবেন কি না– এ বিষয়ে জানতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সিজেপির দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার সাক্ষাৎকার নিয়েছে।

পূর্ণকালীন রাজনীতিতে যোগ দেবেন কি না, এমন প্রশ্নে তাদের মধ্যে একজন বলেছেন, “ভারতে কখনোই কোনো কিছুকে না বলবেন না।”

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। ফাইল ছবি
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। ফাইল ছবি

তবে সিজেপি এখনই পূর্ণকালীন রাজনীতিতে নামার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, তরুণদের নেতৃত্বে তৃণমূল আন্দোলনকে শক্তিশালী করাই তাদের অগ্রাধিকার।

রানকা এনডিটিভিকে বলেছেন, “আমার মাথায় একমাত্র যে বিষয়টি কাজ করছে তা হল, বাড়িতে ফেরা ও ঘুমানো, বিশ্রাম নেব আর পরিবারের সঙ্গে দেখা করব। গত কয়েক মাস ধরে আমি বাড়ি থেকে দূরে আছি। আমি সত্যিই আরাম করতে চাই। গত দুই মাসে যা যা ঘটেছে, সেগুলো নিয়ে ভাবতে চাই। আমাদের সবার জন্যই এই সময়টা অনেক আবেগের। এটি গর্বের মুহূর্ত, আনন্দের মুহূর্ত এবং স্বস্তিরও মুহূর্ত। এরপর পরিস্থিতি যেভাবে এগোবে, সেভাবেই আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।”

রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ভারতের মতো দেশে কোনো সম্ভাবনাকেই কখনো ‘না’ বলা ঠিক নয় বলে আমার মনে হয়।”

তবে সৌরভ দাস জোর দিয়ে জানান, রাজনীতি তাদের দলের তাৎক্ষণিক উদ্দেশ্য নয়। তিনি এনডিটিভিকে বলেন, “এই মুহূর্তে আমাদের লক্ষ্য একেবারেই পরিষ্কার। আমরা এই আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে চাই। দেশে ইতোমধ্যে ৭৫০–৮০০টি রাজনৈতিক দল আছে। কিন্তু তরুণদের প্রত্যাশা ও দাবি পূরণে তাদের কেউই সফল হয়নি। আমরা চাই, এই আন্দোলন তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ুক। ক্ষমতায় যে দলই থাকুক, বা যে নেতাই সরকারে থাকুন, সবাই যেন তরুণদের স্বার্থে কাজ করেন। তাদের দাবিগুলোকে গুরুত্ব দেন এবং তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেন। আপাতত এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিতর্ক নিয়ে মাসব্যাপী তীব্র আন্দোলনের মুখে গতকাল শনিবার পদত্যাগ করেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি জানান, এটি তার জন্য কোনো ‘ব্যক্তিগত মর্যাদার’ বিষয় নয়। গত ১০ দিনে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনায় ব্যথিত হয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।

পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, যন্তর মন্তর ও ভারতের অন্যান্য স্থানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা বিবেচনা করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। মূলত দেশবিরোধী শক্তিগুলো সুযোগ নিতে না দেওয়া, জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা করতেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

সম্পর্কিত