গ্যালাপের প্রতিবেদন
চরচা ডেস্ক

প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতায় পিছিয়ে থাকলেও ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় বাংলাদেশের ৯০ ভাগের বেশি মানুষ ‘সন্তুষ্ট’ বলে আন্তর্জাতিক এক জরিপে উঠে এসেছে।
‘পিপল ওয়ার্ল্ডওয়াইড মোর স্যাটিসফাইড উইথ দেয়ার ফ্রিডম ইন লাইফ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে জরিপের ফলাফল তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্যালাপ।
বিশ্বজুড়ে মানুষের নিজের জীবন গড়ার স্বাধীনতা বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অনুভূতি নিয়ে এই জরিপ চালানো হয়। গত জুন মাসে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে গ্যালাপ। প্রতিষ্ঠানটির জরিপের ওপর ভিত্তি করে জাতিসংঘ ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট তৈরি করে।
স্বাধীনতা সংশ্লিষ্ট জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক বা কাঠামোগত স্বাধীনতার সূচকে পিছিয়ে থাকলেও, ব্যক্তিগত জীবনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষ এক ‘অভূতপূর্ব’ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
গ্যালাপের এই বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ইস্যুটি একটি বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক বৈপরীত্যের অনন্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।
গ্যালাপের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৩৮টি দেশের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
যেখানে দেখা যায়, বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ মানুষ নিজের জীবন নিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বৈশ্বিক গড়ের (৮২%) চেয়ে বাংলাদেশের এই হার অনেক বেশি। এদিকে সুইডেন ও ডেনমার্কেও এই সংখ্যা একই।
এর বিপরীতে, দেশের সামগ্রিক কাঠামোগত বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার পরিমাপক ‘ফ্রিডম স্কোর’-এ বাংলাদেশ পেয়েছে ১০০-র মধ্যে মাত্র ৪৪। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, রাজনৈতিক বহুত্ববাদ ও অংশগ্রহণ, একটি কার্যকর সরকার, মতপ্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং ব্যক্তিগত স্বায়ত্তশাসনের পরিধি দিয়ে ফ্রিডম স্কোর পরিমাপ করা হয়। স্কোর যত বেশি হবে, তা তত বেশি স্বাধীনতা নির্দেশ করে। ফ্রিডম স্কোরে সুইডেনের স্কোর ৯৯ ও ডেনমার্কের স্কোর ৯৭।
গ্যালাপের এই প্রতিবেদনের মূল বিশ্লেষণই হলো, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মনস্তাত্ত্বিক সন্তুষ্টির সাথে রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার সরাসরি যোগসূত্র সবসময় থাকে না।
একটি দেশের ‘ফ্রিডম স্কোর’ (যা সাধারণত নাগরিক অধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, আইনি সুরক্ষা ও রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়) ৪৪ হওয়া সত্ত্বেও, ৯২ শতাংশ মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে স্বাধীনতার বোধ থাকা সাধারণ সমীকরণে মেলানো কঠিন।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশ্বজুড়ে গত দুই দশকের মধ্যে বর্তমানে মানুষ নিজের জীবনযাত্রার স্বাধীনতায় সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট (৮২%)। অনেক উন্নত ও প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক দেশ, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক ফ্রিডম স্কোর অনেক বেশি (যেমন ৯০-এর ওপরে), সেখানেও নাগরিকদের ব্যক্তিগত সন্তুষ্টির হার বাংলাদেশের (৯২%) চেয়ে কম। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আয়ারল্যান্ডের কথা। আয়ারল্যান্ডে ৮৯ শতাংশ মানুষ। তবে তাদের ফ্রিডম স্কোর ৯৮।
বিশ্লেষকদের মতে, গ্যালাপের এই জরিপ বাংলাদেশের মানুষের একটি মনস্তাত্ত্বিক শক্তির দিক নির্দেশ করে। রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ নিয়ে নানা বিতর্ক ও সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও, সাধারণ মানুষের মাঝে নিজের জীবনকে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে এক ধরনের ইতিবাচক আশাবাদ কাজ করে। তবে দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই সমাজের জন্য এই ৯২ শতাংশ ব্যক্তিগত সন্তুষ্টির সমান্তরালে রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক ‘ফ্রিডম স্কোর’ (৪৪) বাড়িয়ে তোলাও সমান জরুরি।

প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতায় পিছিয়ে থাকলেও ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় বাংলাদেশের ৯০ ভাগের বেশি মানুষ ‘সন্তুষ্ট’ বলে আন্তর্জাতিক এক জরিপে উঠে এসেছে।
‘পিপল ওয়ার্ল্ডওয়াইড মোর স্যাটিসফাইড উইথ দেয়ার ফ্রিডম ইন লাইফ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে জরিপের ফলাফল তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্যালাপ।
বিশ্বজুড়ে মানুষের নিজের জীবন গড়ার স্বাধীনতা বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অনুভূতি নিয়ে এই জরিপ চালানো হয়। গত জুন মাসে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে গ্যালাপ। প্রতিষ্ঠানটির জরিপের ওপর ভিত্তি করে জাতিসংঘ ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট তৈরি করে।
স্বাধীনতা সংশ্লিষ্ট জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক বা কাঠামোগত স্বাধীনতার সূচকে পিছিয়ে থাকলেও, ব্যক্তিগত জীবনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষ এক ‘অভূতপূর্ব’ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
গ্যালাপের এই বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ইস্যুটি একটি বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক বৈপরীত্যের অনন্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।
গ্যালাপের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৩৮টি দেশের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
যেখানে দেখা যায়, বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ মানুষ নিজের জীবন নিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বৈশ্বিক গড়ের (৮২%) চেয়ে বাংলাদেশের এই হার অনেক বেশি। এদিকে সুইডেন ও ডেনমার্কেও এই সংখ্যা একই।
এর বিপরীতে, দেশের সামগ্রিক কাঠামোগত বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার পরিমাপক ‘ফ্রিডম স্কোর’-এ বাংলাদেশ পেয়েছে ১০০-র মধ্যে মাত্র ৪৪। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, রাজনৈতিক বহুত্ববাদ ও অংশগ্রহণ, একটি কার্যকর সরকার, মতপ্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং ব্যক্তিগত স্বায়ত্তশাসনের পরিধি দিয়ে ফ্রিডম স্কোর পরিমাপ করা হয়। স্কোর যত বেশি হবে, তা তত বেশি স্বাধীনতা নির্দেশ করে। ফ্রিডম স্কোরে সুইডেনের স্কোর ৯৯ ও ডেনমার্কের স্কোর ৯৭।
গ্যালাপের এই প্রতিবেদনের মূল বিশ্লেষণই হলো, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মনস্তাত্ত্বিক সন্তুষ্টির সাথে রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার সরাসরি যোগসূত্র সবসময় থাকে না।
একটি দেশের ‘ফ্রিডম স্কোর’ (যা সাধারণত নাগরিক অধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, আইনি সুরক্ষা ও রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়) ৪৪ হওয়া সত্ত্বেও, ৯২ শতাংশ মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে স্বাধীনতার বোধ থাকা সাধারণ সমীকরণে মেলানো কঠিন।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশ্বজুড়ে গত দুই দশকের মধ্যে বর্তমানে মানুষ নিজের জীবনযাত্রার স্বাধীনতায় সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট (৮২%)। অনেক উন্নত ও প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক দেশ, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক ফ্রিডম স্কোর অনেক বেশি (যেমন ৯০-এর ওপরে), সেখানেও নাগরিকদের ব্যক্তিগত সন্তুষ্টির হার বাংলাদেশের (৯২%) চেয়ে কম। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আয়ারল্যান্ডের কথা। আয়ারল্যান্ডে ৮৯ শতাংশ মানুষ। তবে তাদের ফ্রিডম স্কোর ৯৮।
বিশ্লেষকদের মতে, গ্যালাপের এই জরিপ বাংলাদেশের মানুষের একটি মনস্তাত্ত্বিক শক্তির দিক নির্দেশ করে। রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ নিয়ে নানা বিতর্ক ও সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও, সাধারণ মানুষের মাঝে নিজের জীবনকে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে এক ধরনের ইতিবাচক আশাবাদ কাজ করে। তবে দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই সমাজের জন্য এই ৯২ শতাংশ ব্যক্তিগত সন্তুষ্টির সমান্তরালে রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক ‘ফ্রিডম স্কোর’ (৪৪) বাড়িয়ে তোলাও সমান জরুরি।