চরচা ডেস্ক

উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তার আশপাশের এলাকায় সক্রিয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ও খাড়া চাপ পার্থক্যের প্রভাবে গত ৫ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবিরাম ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত চলছে।
দীর্ঘস্থায়ী এই বর্ষণ, উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল এবং পাহাড়ি নদীগুলোর উপচে পড়া পানির কারণে বান্দরবান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় আকস্মিক বন্যা, তীব্র জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ধস দেখা দিয়েছে।
এতে বহু এলাকার রাস্তাঘাট ও রেললাইনের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছানোর পথ অবরুদ্ধ হয়ে গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) সতর্ক করেছে যে, আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, বিশেষ করে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে আরও অতি ভারী বর্ষণের কারণে পরিস্থিতি শোচনীয় রূপ নিতে পারে।
জাতিসংঘ বাংলাদেশ নিয়ে গত ১৩ জুলাই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়–
টানা বন্যায় দেশের ১০টি জেলার ২৭টি উপজেলায় সুপেয় পানি, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) সেবা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। বন্যার নোংরা পানির সাথে মানুষের মলমূত্র, ক্ষেতের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক এবং কারখানার বর্জ্য মিশে বিশুদ্ধ পানির উৎসগুলো মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে গেছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) ১২ জুলাইয়ের হিসাব অনুযায়ী, দুর্যোগ কবলিত এলাকায় ১২ হাজার ৩৬০টিরও বেশি ল্যাট্রিন এবং ৩ হাজার ৫৮৩টি পানির উৎস সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।
সরকারের প্রাথমিক হিসাবমতে, চলমান এই দুর্যোগে কেবল বান্দরবান জেলাতেই ১৫ হাজার ৮৮১টি এবং চট্টগ্রামে ১৩ হাজার ৮৬০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, অনেক এলাকা এখনও পানির নিচে তলিয়ে থাকায় এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ৫ জুলাই আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসের পর থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, আবহাওয়া অধিদপ্তর, এবং বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র যৌথভাবে ধারাবাহিক সমন্বয় সভা করেছে। বন্যা ও পাহাড়ধস পরিস্থিতি মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় থেকে ‘জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্র’ ২৪ ঘণ্টার জন্য চালু করা হয়েছে এবং জরুরি যোগাযোগের নম্বরগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে:
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ও বাংলাদেশ পুলিশ।
এ ছাড়া ডব্লিউএফপি, সেভ দ্য চিলড্রেন, কারিতাস এবং ওয়ার্ল্ড ভিশনের মতো সংস্থাগুলো দুর্গত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কয়েক হাজার পরিবারকে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা, হাইজিন কিট এবং আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।
জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে বিভিন্ন ক্লাস্টারে প্রয়োজনীয়, প্রাপ্ত ও সেবা ঘাটতির বিবরণ তুলে ধরেছে।
দুর্যোগে শিশুদের সুরক্ষা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিতে সরকারি দপ্তর ও ইউনিসেফের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা মাঠপর্যায়ে নগদ অর্থ, ডিগনিটি কিট ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জরুরি সেবা দিচ্ছে। তবে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর গাদাগাদি পরিবেশ ও নষ্ট স্যানিটেশনের কারণে নারী ও শিশুরা সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছে। একইসঙ্গে জীবিকা হারানোর ফলে দুর্গত এলাকায় বাল্যবিয়ে ও শিশুশ্রমের মতো সামাজিক সংকট আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা
দেশের ১ হাজার ৪৭টি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে বান্দরবান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন জেলার ৩৮ হাজার ৪২২ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ অবস্থান করছেন।
বিডিআরসিএসের ৩ হাজার ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক মাঠপর্যায়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন এবং সেভ দ্য চিলড্রেন অন্যান্য সহযোগী সংস্থার সাথে মিলে ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে ৭ লাখেরও বেশি মানুষের কাছে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে এবং ১ হাজার ৩০০-এর বেশি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে।
কিন্তু এখনও অন্তত দেড় লাখ মানুষ বন্যাকবলিত এলাকায় আটকা পড়ে আছেন যাদের উদ্ধারে আরও নৌকা প্রয়োজন এবং সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা বাস্তুচ্যুতদের জন্য ত্রাণ সহায়তার ঘাটতি রয়েছে।

শিক্ষার্থী ও স্কুল
বন্যায় ১ হাজার ২৭৬টি স্কুল বন্ধ হওয়ায় প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের দেড় লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ রয়েছে এবং মোট ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা অন্তত ২ লাখ ২৮ হাজার ছাড়াতে পারে। বন্ধের সময়ে পড়াশোনা সচল রাখতে ঘরে বসে শেখার প্যাকেজ তৈরি করা হচ্ছে। তবুও স্কুলগুলো দীর্ঘসময় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় ক্লাস চালু করতে দেরি হতে পারে এবং সুনির্দিষ্ট জরুরি তহবিল ও জাতীয় বিকল্প শিক্ষানীতি না থাকায় পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে।
খাদ্য নিরাপত্তা
৫৯টি উপজেলায় খাদ্য সংকট তীব্র। ব্র্যাক, ডব্লিউএফপি ও ওয়ার্ল্ড ভিশন শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ দিলেও সড়ক ও পাহাড়ি দুর্গমতার কারণে বিতরণ ব্যাহত হচ্ছে।
লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা
আশ্রয়কেন্দ্রের গাদাগাদি ও অন্ধকার পরিবেশে নারী-শিশুরা ঝুঁকিতে রয়েছে। ইউএনএফপিএ ও কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডিগনিটি কিট দিচ্ছে এবং হিজড়া সম্প্রদায় উদ্ধারে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবা
উপদ্রুত এলাকায় ৫১৬টি সরকারি মেডিকেল টিম কাজ করছে এবং ডাব্লিউএইচও ডায়রিয়া ও ডেঙ্গুর মতো পানিবাহিত ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে নজরদারি চালাচ্ছে।
লজিস্টিকস
বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে সড়ক যোগাযোগ অত্যন্ত অস্থিতিশীল; জাতীয় লজিস্টিকস ক্লাস্টার বিকল্প রুট যাচাই করছে এবং ইসলামিক রিলিফ স্ট্যান্ডবাই রয়েছে।
পুষ্টি
৮৪ হাজার শিশুর পুষ্টি স্ক্রিনিং প্রয়োজন; ইউনিসেফ ও আইপিএইচএন থেরাপিউটিক মিল্ক বিতরণ ও মাতৃদুগ্ধ বিকল্প আইন বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছে কিন্তু জরুরি তহবিলের অভাব রয়েছে।
আশ্রয় ব্যবস্থা
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ৬৯ শতাংশ বাড়িই ভঙ্গুর ঝুপড়ি; বান্দরবান ও চট্টগ্রামে প্রায় ৩০ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জেলা প্রশাসনগুলো হাজার হাজার বান্ডিল ঢেউটিনের অনুরোধ করেছে।
পানি ও স্যানিটেশন
২০টির বেশি ইউনিয়ন প্লাবিত থাকায় ১৮ লাখের বেশি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও মোবাইল ওয়াটার প্ল্যান্ট চালু করা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক না থাকায় সমন্বয় ব্যাহত হচ্ছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তার আশপাশের এলাকায় সক্রিয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ও খাড়া চাপ পার্থক্যের প্রভাবে গত ৫ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবিরাম ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত চলছে।
দীর্ঘস্থায়ী এই বর্ষণ, উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল এবং পাহাড়ি নদীগুলোর উপচে পড়া পানির কারণে বান্দরবান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় আকস্মিক বন্যা, তীব্র জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ধস দেখা দিয়েছে।
এতে বহু এলাকার রাস্তাঘাট ও রেললাইনের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছানোর পথ অবরুদ্ধ হয়ে গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) সতর্ক করেছে যে, আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, বিশেষ করে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে আরও অতি ভারী বর্ষণের কারণে পরিস্থিতি শোচনীয় রূপ নিতে পারে।
জাতিসংঘ বাংলাদেশ নিয়ে গত ১৩ জুলাই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়–
টানা বন্যায় দেশের ১০টি জেলার ২৭টি উপজেলায় সুপেয় পানি, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) সেবা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। বন্যার নোংরা পানির সাথে মানুষের মলমূত্র, ক্ষেতের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক এবং কারখানার বর্জ্য মিশে বিশুদ্ধ পানির উৎসগুলো মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে গেছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) ১২ জুলাইয়ের হিসাব অনুযায়ী, দুর্যোগ কবলিত এলাকায় ১২ হাজার ৩৬০টিরও বেশি ল্যাট্রিন এবং ৩ হাজার ৫৮৩টি পানির উৎস সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।
সরকারের প্রাথমিক হিসাবমতে, চলমান এই দুর্যোগে কেবল বান্দরবান জেলাতেই ১৫ হাজার ৮৮১টি এবং চট্টগ্রামে ১৩ হাজার ৮৬০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, অনেক এলাকা এখনও পানির নিচে তলিয়ে থাকায় এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ৫ জুলাই আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসের পর থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, আবহাওয়া অধিদপ্তর, এবং বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র যৌথভাবে ধারাবাহিক সমন্বয় সভা করেছে। বন্যা ও পাহাড়ধস পরিস্থিতি মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় থেকে ‘জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্র’ ২৪ ঘণ্টার জন্য চালু করা হয়েছে এবং জরুরি যোগাযোগের নম্বরগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে:
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ও বাংলাদেশ পুলিশ।
এ ছাড়া ডব্লিউএফপি, সেভ দ্য চিলড্রেন, কারিতাস এবং ওয়ার্ল্ড ভিশনের মতো সংস্থাগুলো দুর্গত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কয়েক হাজার পরিবারকে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা, হাইজিন কিট এবং আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।
জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে বিভিন্ন ক্লাস্টারে প্রয়োজনীয়, প্রাপ্ত ও সেবা ঘাটতির বিবরণ তুলে ধরেছে।
দুর্যোগে শিশুদের সুরক্ষা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিতে সরকারি দপ্তর ও ইউনিসেফের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা মাঠপর্যায়ে নগদ অর্থ, ডিগনিটি কিট ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জরুরি সেবা দিচ্ছে। তবে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর গাদাগাদি পরিবেশ ও নষ্ট স্যানিটেশনের কারণে নারী ও শিশুরা সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছে। একইসঙ্গে জীবিকা হারানোর ফলে দুর্গত এলাকায় বাল্যবিয়ে ও শিশুশ্রমের মতো সামাজিক সংকট আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা
দেশের ১ হাজার ৪৭টি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে বান্দরবান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন জেলার ৩৮ হাজার ৪২২ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ অবস্থান করছেন।
বিডিআরসিএসের ৩ হাজার ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক মাঠপর্যায়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন এবং সেভ দ্য চিলড্রেন অন্যান্য সহযোগী সংস্থার সাথে মিলে ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে ৭ লাখেরও বেশি মানুষের কাছে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে এবং ১ হাজার ৩০০-এর বেশি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে।
কিন্তু এখনও অন্তত দেড় লাখ মানুষ বন্যাকবলিত এলাকায় আটকা পড়ে আছেন যাদের উদ্ধারে আরও নৌকা প্রয়োজন এবং সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা বাস্তুচ্যুতদের জন্য ত্রাণ সহায়তার ঘাটতি রয়েছে।

শিক্ষার্থী ও স্কুল
বন্যায় ১ হাজার ২৭৬টি স্কুল বন্ধ হওয়ায় প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের দেড় লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ রয়েছে এবং মোট ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা অন্তত ২ লাখ ২৮ হাজার ছাড়াতে পারে। বন্ধের সময়ে পড়াশোনা সচল রাখতে ঘরে বসে শেখার প্যাকেজ তৈরি করা হচ্ছে। তবুও স্কুলগুলো দীর্ঘসময় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় ক্লাস চালু করতে দেরি হতে পারে এবং সুনির্দিষ্ট জরুরি তহবিল ও জাতীয় বিকল্প শিক্ষানীতি না থাকায় পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে।
খাদ্য নিরাপত্তা
৫৯টি উপজেলায় খাদ্য সংকট তীব্র। ব্র্যাক, ডব্লিউএফপি ও ওয়ার্ল্ড ভিশন শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ দিলেও সড়ক ও পাহাড়ি দুর্গমতার কারণে বিতরণ ব্যাহত হচ্ছে।
লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা
আশ্রয়কেন্দ্রের গাদাগাদি ও অন্ধকার পরিবেশে নারী-শিশুরা ঝুঁকিতে রয়েছে। ইউএনএফপিএ ও কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডিগনিটি কিট দিচ্ছে এবং হিজড়া সম্প্রদায় উদ্ধারে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবা
উপদ্রুত এলাকায় ৫১৬টি সরকারি মেডিকেল টিম কাজ করছে এবং ডাব্লিউএইচও ডায়রিয়া ও ডেঙ্গুর মতো পানিবাহিত ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে নজরদারি চালাচ্ছে।
লজিস্টিকস
বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে সড়ক যোগাযোগ অত্যন্ত অস্থিতিশীল; জাতীয় লজিস্টিকস ক্লাস্টার বিকল্প রুট যাচাই করছে এবং ইসলামিক রিলিফ স্ট্যান্ডবাই রয়েছে।
পুষ্টি
৮৪ হাজার শিশুর পুষ্টি স্ক্রিনিং প্রয়োজন; ইউনিসেফ ও আইপিএইচএন থেরাপিউটিক মিল্ক বিতরণ ও মাতৃদুগ্ধ বিকল্প আইন বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছে কিন্তু জরুরি তহবিলের অভাব রয়েছে।
আশ্রয় ব্যবস্থা
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ৬৯ শতাংশ বাড়িই ভঙ্গুর ঝুপড়ি; বান্দরবান ও চট্টগ্রামে প্রায় ৩০ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জেলা প্রশাসনগুলো হাজার হাজার বান্ডিল ঢেউটিনের অনুরোধ করেছে।
পানি ও স্যানিটেশন
২০টির বেশি ইউনিয়ন প্লাবিত থাকায় ১৮ লাখের বেশি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও মোবাইল ওয়াটার প্ল্যান্ট চালু করা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক না থাকায় সমন্বয় ব্যাহত হচ্ছে।

আজকের দিনে ফর্মেশন ও ট্যাকটিস ছাড়া ফুটবল খেলা চিন্তাই করা যায় না। আবার কোচরা প্রায়ই বলে থাকেন, আমার একজন ‘নাম্বার এইট’ দরকার কিংবা দরকার ‘নাম্বার নাইন’। আমরা বুঝে ফেলি কোন পজিশনের খেলোয়াড় তার দরকার। কিন্তু কীভাবে? বুঝতে হলে আপনাকে জানতে হবে ফুটবলের আদি ফর্মেশন এবং তখনকার জার্সি নম্বর সম্পর্কে।