দেশে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। প্রথমটির উৎপত্তি ছিল নরসিংদীর মাধবদী উপজেলায়। শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়।
এরপর আজ শনিবার সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট ১২ সেকেন্ডে ফের ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। প্রথমে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছিল, এটির উৎপত্তিস্থল ঢাকার আশুলিয়ার বাইপাইলে। কয়েক ঘণ্টা পরে সংস্থাটি জানায়, ভূমিকম্পের উৎপত্তি নরসিংদীর পলাশে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, শুক্রবারের ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। অন্যদিকে আজকেরটির মাত্রা ৩ দশমিক ৩ বলে জানানো হয়েছে।
আজকের এই কম্পন আফটার শক কি না-এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে। যদি আফটার শক হয়ে থাকে, তাহলে ফের এমন হতে পারে কি না তা নিয়ে আশঙ্কাও রয়েছে অনেকের।
আফটার শক আসলে কী
ভূমিকম্প হওয়ার পর যে ছোট-বড় কম্পনগুলো ঘটে, সেগুলোকে আফটার শক বলা হয়।
গবেষকদের তথ্যমতে, টেকটোনিক প্লেটগুলো একে-অপরের সঙ্গে পাশাপাশি লেগে থাকে। কোনো কারণে এগুলোর নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ হলেই তৈরি হয় শক্তি। এই শক্তি সিসমিক তরঙ্গ আকারে ছড়িয়ে পড়ে। তরঙ্গ যদি শক্তিশালী হয়, তাহলে সেটি পৃথিবীর উপরিতলে এসে পৌঁছায়। আর তখনো যদি যথেষ্ট শক্তি থাকে, তাহলে তা ভূত্বককে কাঁপিয়ে তোলে, এটিই ভূমিকম্প।
ভূমিকম্পের পর ভারসাম্য ঠিক করার জন্য আফটার শক হয়। তাই মূল কম্পনের পর টেকটোনিক প্লেটগুলো যখন আবার নিজের অবস্থানে ফিরে আসার চেষ্টা করে, তখনই আফটার শকের সৃষ্টি হয়। একই জায়গায় একাধিকবার আফটার শক হতে পারে।
ছবি: ফ্রিপিকভূবিজ্ঞানীদের মতে, কোনো বড় ভূমিকম্পের পর আফটার শকের স্থায়িত্ব কয়েক ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিনও হতে পারে। এসব আফটার শক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
জাপানের ভূতাত্ত্বিক সংস্থার মতে, স্থলভূমিতে সর্বোচ্চ আফটার শক মেইন শকের তিন দিনের মধ্যে ঘটে। তবে এর মাত্রা সাধারণত মেইন শকের চেয়ে কম থাকে-সাধারণত ১ মাত্রা কম। এটি মূলত মেইন শকের আশপাশের এলাকাতেই ঘটে।
আমেরিকার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা-ইউএসজিএস বলছে, আফটার শক কয়েক দিন থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর মাত্রা কমে যায়।
বাংলাদেশের ভূমিকম্প কতটা শক্তিশালী ছিল, আফটার শক হয়েছে কি না
রিখটার স্কেল অনুযায়ী ৩ থেকে ৩ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পকে মাইনর বা মৃদু ভূমিকম্প বলা হয়। অনেকে এই কম্পন অনুভব করলেও সাধারণত কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয় না। সে হিসেবে শনিবারের ভূমিকম্পকে মৃদু ভূমিকম্প বলা যায়।
অন্যদিকে, ৫ থেকে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পকে মাঝারি আকারের ধরা হয়। দুর্বল ভবনে কিছু ক্ষতি হতে পারে।
তবে বাংলাদেশে দেখা গেছে, ভূমিকম্পে শুধু রাজধানীতেই ১৪টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
ফের ভূমিকম্প অনুভূত হলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ আবারও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
পলাশে উৎপন্ন ভূমিকম্পটি আফটার শক কি না, এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পটিকে মৃদু ভূমিকম্প হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে। মেইন শকের পর প্রায় ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ায় এটিকে আফটার শক হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, “এটি একটি মাইনর ভূমিকম্প।”
ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরবর্তীতে আর কোনো ভূমিকম্প হবে কি না তা বলা সম্ভব নয়।
তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাঈয়্যাৎ কবীর বলেন, “২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে রিখটার স্কেলে ৩.৩ মাত্রায় অনুভূত হওয়া ভূমিকম্প শুক্রবার হওয়া কম্পনের আফটার শক।”