জেন-জি'দের বিক্ষোভের মুখ পতন ঘটেছে নেপালে কে পি শর্মা ওলি নেতৃত্বাধীন সরকারের। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে নেপালের পার্লামেন্ট, সুপ্রিমকোর্ট। ভাঙচুর চালানো হয়েছে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর বাড়িতে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর সরকারের নিষেধাজ্ঞা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে গত কয়েকদিন ধরে নেপালে আন্দোলন চলছিল। তবে এটি সহিংসতায় রূপ নেয় গতকাল সোমবার। এদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৯ জন নিহত হন। আহত হন ৩০০ জনের বেশি আন্দোলনকারী।
নেপাল সরকার আজ মঙ্গলবার ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে দিলেও তা আমলে নেয়নি আন্দোলনকারীরা। বরং এদিন আন্দোলন আরও তীব্র হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডিএনএ ও হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপালে জেন-জি'দের রাজপথে নামার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন সুদান গুরুং নামের এক ব্যক্তি। যিনি এখন নেপালের ঘরে ঘরে পরিচিত নাম। ৩৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি আবারও প্রমাণ করেছেন তাঁর অসাধারণ জনআকর্ষণের ক্ষমতা। ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর ত্রাণ কার্যক্রম সংগঠিত করার লক্ষ্যে তিনি এনজিও ‘হামি নেপাল’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এরপর থেকে তিনি একাধিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত করার পেছনে তাকেই প্রধান হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
সুদান গুরুং-ই প্রথম ইনস্টাগ্রামে জনগণকে রাস্তায় নামতে আহ্বান জানান। তাঁর এক স্টোরিতে তিনি শিক্ষার্থীদের স্কুল ইউনিফর্ম, ব্যাগ ও বইপত্র নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদে যোগ দেওয়ার আহ্বান করেন। বার্তাটি ছিল স্পষ্ট—আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্রদের হাতে থাকতে হবে এবং এটি অবশ্যই অহিংস হতে হবে, নইলে দমননীতি আরও কঠোর হবে।
এক সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ‘ডিসকো জকি’ বা ‘ডিজে’ হিসাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন সুদান। ২০১৫ সালে একটি ভূমিকম্পে এক সন্তানকে হারান তিনি। তার পরেই স্থির করেন নেপালে তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে কাজ করবেন তিনি। ২০১৫ সালের পরেই সুদান ত্রাণ এবং বিপর্যয় মোকাবিলার কাজে হাত পাকাতে থাকেন। স্থানীয় স্তরে মেলামেশার ফলে নেপালের ছাত্র-যুবদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।
নেপালের জেন-জি'দের রাজপথে নামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সুদানের প্রতিষ্ঠান হামি নেপাল। প্রতিবাদের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিষ্ঠানটি এক পোস্টে লিখেছে, ‘অনেক দিন ধরে দুর্নীতি আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাদের স্বপ্ন এবং জাতির মর্যাদা ছিনিয়ে নিচ্ছে। আমরা দেখি নেতারা ধনী হচ্ছে, অথচ সাধারণ মানুষ বাঁচার সংগ্রামে লড়ছে। আমরা দেখি অন্যায়কে স্বাভাবিক করা হচ্ছে। কিন্তু আজ আমরা বলছি—আর নয়।’
এরপর হামি নেপাল ‘যুবসমাজ দুর্নীতির বিরুদ্ধে’ কর্মসূচি ঘোষণা করে। সুদান গুরুং নিজে জনগণকে নির্দেশনা দেন—কীভাবে প্রতিবাদ করতে হবে, কী করা যাবে আর কী করা যাবে না। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার পর এবং বহু মানুষ হতাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে হামি নেপাল তাদের স্বেচ্ছাসেবকদের ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানায়।