Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১১ অক্টোবর, ২০২৬
১১ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১১ অক্টোবর, ২০২৬
১১ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> এক্সপ্লেইনার

স্পেনে মুখে মুখে মারিকারমেনের নাম, কে তিনি ?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০: ৪৬
স্পেনে মুখে মুখে মারিকারমেনের নাম, কে তিনি ?
৮৭ বছর বয়সী মারিকারমেন। ছবি: রয়টার্স

এই সপ্তাহে স্পেনে মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে একটি নাম, মারিকারমেন। ৮৭ বছর বয়সী এই বৃদ্ধাকে তার নিজের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। পরে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। কিন্তু ঘটনাটি এরই মধ্যে স্পেনের বিভিন্ন শহরে এক স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন তৈরি করেছে। একই সঙ্গে সামনে এসেছে দেশটির সবচেয়ে জরুরি সমস্যাগুলোর একটি। তা হলো মানুষের জন্য বাসযোগ্য বাড়ি পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

Advertisement

মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে মারিকারমেনের উচ্ছেদের প্রতিবাদে মাদ্রিদে রাস্তায় নামেন হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ রাতভর অবস্থান করেন পুয়ের্তা দেল সলে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, সেখানে আরও মানুষ যোগ দেন। তাদের মধ্যে ছিল একই পরিবারের একাধিক সদস্যও।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি কাছাকাছি বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা না থাকলে কাউকে উচ্ছেদ করা বন্ধ করতে হবে।

মারিকারমেনের কথায় ফিরে আসা যাক।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

তার নাম মারিয়া দেল কারমেন আবাসকাল, ডাকনাম মারিকারমেন। তিনি মাদ্রিদের এল রেতিরো এলাকার বাসিন্দা। গত বুধবার পর্যন্ত তিনি আলকালদে সাইন্স দে বারান্দা স্ট্রিটের একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। তার আইনজীবী বিয়াত্রিজ দুরো সিএনএনকে জানিয়েছেন, মারিকারমেন ওই বাড়িতেই ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করছিলেন।

স্পেনে আন্দোলন। ছবি: রয়টার্স
স্পেনে আন্দোলন। ছবি: রয়টার্স

সেদিন মারিকারমেনকে তার বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। ঘটনাটি অনেককেই নাড়া দেয়। তার উচ্ছেদ ঠেকাতে আগের রাত থেকেই তার বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করছিলেন কয়েক ডজন মানুষ। কিন্তু তাদের সেই চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ কার্যকর হয়।

সেদিন বিকেলে মারিকারমেনের উচ্ছেদের প্রতিবাদে মাদ্রিদে জড়ো হন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। মাদ্রিদের সরকারি কর্মকর্তাদের হিসাবে, এই বিক্ষোভে শুধু মারিকারমেনের উচ্ছেদের প্রতিবাদই নয়, বাসা খুঁজে পাওয়ার ক্রমবর্ধমান কঠিন পরিস্থিতি নিয়েও মানুষের ক্ষোভ প্রকাশ পায়।

মারিকারমেনের উচ্ছেদ ঘিরে উদ্বেগ ও সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে বার্সেলোনা, সেভিয়া ও ভ্যালেন্সিয়াসহ স্পেনের আরও কয়েকটি শহরেও।

তবে কয়েক দিন পরই মারিকারমেনের সমর্থকদের জন্য আসে স্বস্তির খবর। তার আইনজীবীরা জানান, বাড়ির মালিকের সঙ্গে সমঝোতার পর তিনি আবার নিজের বাড়িতে ফিরতে পারবেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আইনজীবী বিয়াত্রিজ দুরো এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, নতুন চুক্তির আওতায় মারিকারমেন আট বছরের জন্য বাড়িটিতে থাকার সুযোগ পাবেন। এ সময় তাকে আগের মতোই প্রায় একই পরিমাণ ভাড়া দিতে হবে।

বর্তমানে মারিকারমেন গ্রেগোরিও মারানিওন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উচ্ছেদের পরপরই তাকে স্ট্রেচারে করে ওই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছু চিকিৎসা পরীক্ষা করানোর জন্য তিনি আরও কয়েক দিন হাসপাতালে থাকতে পারেন। দুরো জানান, শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ বোধ করার পরই মারিকারমেন নতুন চুক্তিতে সই করবেন।

নতুন সমঝোতা হওয়ার আগে হাসপাতালে নেওয়ার পর একটি ভিডিও বার্তা দেন তিনি। নিজেদের বাড়ি রক্ষার লড়াই চালিয়ে যেতে আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “আমি আমার বাড়ি রক্ষা করতে পারিনি। কিন্তু অন্যরা যেন নিজেদের বাড়ির জন্য লড়াই করতে শেখে, সেই লড়াই আমি করেছি। আমার বাড়িই ছিল আমার জীবন। এখন আমাকে সেটি পেছনে ফেলে যেতে হচ্ছে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে আমি লড়াই চালিয়ে যাব না।”

সমর্থকদের উদ্দেশে এই নারী বলেন, “প্লিজ আপনারা লড়াই চালিয়ে যান।”

১৯৫৬ সাল থেকে একই বাড়িতে থাকতেন মারিয়া দেল কারমেন আবাসকাল। এল রেতিরো পার্কের কাছে ওই অ্যাপার্টমেন্টেই তার শৈশব কেটেছে। বাবা-মায়ের সঙ্গে সেখানেই বড় হয়েছেন তিনি। পরে বাবা-মায়ের কাছ থেকে বাড়িটির ভাড়ার চুক্তিও নিজের নামে নেন।

তখন বাড়িটির ভাড়া ছিল মাসে প্রায় ৫০০ ইউরো, অর্থাৎ প্রায় ৫৬৮ ডলার। এই পুরোনো ভাড়ার চুক্তির আওতায় এত বছর ধরে সেখানে ছিলেন তিনি।

কিন্তু ২০১৮ সালের মার্চে সবকিছু বদলে যায়। উরবাগেসতিওন দেসারোইয়ো ই ইনভারসিওন নামের একটি আবাসন কোম্পানি ২ লাখ ৪৭ হাজার ইউরোতে ভবনটির মালিকানা কিনে নেয়।

এরপর নতুন মালিক মারিকারমেনের কাছে অনেক বেশি ভাড়া দাবি করতে শুরু করেন। কখনো কখনো আগের ভাড়ার চার গুণ পর্যন্ত ভাড়া চাওয়া হয়। অথচ তখন তার মাসিক পেনশন ছিল মাত্র ১ হাজার ৩০০ ইউরো। মাদ্রিদ টেন্যান্টস ইউনিয়ন সিএনএনকে এ তথ্য জানায়।

২০২০ সালের মার্চে কোম্পানিটি তার ভাড়ার চুক্তি বাতিলের দাবিতে মামলা করে। মারিকারমেন প্রথমে নিম্ন আদালতে মামলায় জিতে যান। কিন্তু কোম্পানিটি পরে আপিল করে। প্রাদেশিক আদালত তখন কোম্পানির পক্ষে রায় দেন।

মারিকারমেনের আইনজীবী বিয়াত্রিজ দুরো এরপর সাংবিধানিক আদালতে সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করেন। সুপ্রিম কোর্টেও আপিল করা হয়। কিন্তু দুটি আবেদনই খারিজ হয়ে যায়।

এরপর বাড়ির দখল ফিরে পেতে উরবাগেসতিওন নতুন করে আইনি পদক্ষেপ নেয়। শুরু হয় মারিকারমেনকে উচ্ছেদের চেষ্টা। কয়েক দফা চেষ্টা করা হয় তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার। সব মিলিয়ে চারবার উচ্ছেদের চেষ্টা হয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত ৭০ বছর ধরে যে বাড়িতে তার জীবন কেটেছে, সেখান থেকেই তাকে বের করে দেওয়া হয়।

উচ্ছেদের প্রথম চেষ্টা অবশ্য এত সহজে সফল হয়নি।

মারিকারমেনের আইনজীবী বিয়াত্রিজ দুরো জানান, ২০২৫ সালের অক্টোবরে উচ্ছেদ চার মাসের জন্য ঠেকাতে সক্ষম হয় তারা। আইনের একটি বিধানের আওতায় এই সুযোগ পাওয়া যায়। কোনো বাড়ি বা সম্পত্তি থেকে কাউকে উচ্ছেদের আবেদনকারী যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বা আইনি সত্তা হয়, তাহলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে উচ্ছেদ স্থগিত করা যায়।

এরপর ২০২৬ সালের জুনে আবার উচ্ছেদের তারিখ ঠিক করা হয়। কিন্তু এবারও তা প্রায় এক মাসের জন্য পিছিয়ে যায়। কারণ, মারিকারমেনের কোনো বিকল্প বাসস্থান ছিল না এবং তাকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ভাড়াটিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।

উচ্ছেদ আবার জুলাই পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়। তবে মারিকারমেনের আইনজীবী সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও আবার আপিল করেন।

এই সময়টায়, উচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত, মারিকারমেনের পাশে থাকা মানুষগুলোও চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। তাদের লক্ষ্য ছিল উরবাগেসতিওনের সঙ্গে সমঝোতা করে এমন কোনো পথ বের করা, যাতে তাকে বাড়ি ছাড়তে না হয়।

আইনজীবী দুরো জানান, এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় আবাসন সংস্থা কাসা ৪৭-এর মাধ্যমেও সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রস্তাব ছিল, সংস্থাটি অ্যাপার্টমেন্টটি কিনে নেবে এবং এরপর মারিকারমেনের কাছে তুলনামূলক কম ভাড়ায় সেটি ভাড়া দেবে।

উচ্ছেদের ঠিক আগেরদিন আসে আরেকটি প্রস্তাব। এক অজ্ঞাত ব্যক্তি মারিকারমেনের ভাড়ার একটি অংশ পরিশোধ করার প্রস্তাব দেন।

কিন্তু তার আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কোনো প্রস্তাবেই আগ্রহ দেখায়নি আবাসন কোম্পানিটি।

এ বিষয়ে উরবাগেসতিওন দেসারোইয়ো ই ইনভারসিওনের বক্তব্য জানতে চেয়েছিল সিএনএন। তবে কোম্পানিটি কোনো উত্তর দেয়নি।

বাড়ির মালিকের সঙ্গে সমঝোতা হওয়ার আগে মারিকারমেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব একটা আশার কথা বলতে পারছিলেন না তার আইনজীবী বিয়াত্রিজ দুরো। তিনি বলেছিলেন, “পরিস্থিতি খুবই সংকটপূর্ণ। তার থাকার মতো অন্য কোনো বাড়ি নেই। সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও তিনি এখন পর্যন্ত কোনো বাড়ি বা সমাধানের প্রস্তাব পাননি।”

তবে উচ্ছেদের কয়েকদিন আগে নতুন একটি উদ্যোগের কথা জানায় মাদ্রিদ সিটি হল।

আবাসন কোম্পানিটি মাদ্রিদ মিউনিসিপাল হাউজিং অ্যান্ড ল্যান্ড এজেন্সির (ইএমভিএস) সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা চেয়েছিল, মারিকারমেনের বাড়িটি ‘রেভিভা’ কর্মসূচির আওতায় আনা হোক। এই কর্মসূচিতে খালি বাড়িগুলো নিয়ে সেগুলো আবার ভাড়ার জন্য দেওয়া হয়। পরিকল্পনা ছিল, এরপর মারিকারমেনকে বাড়িটি তুলনামূলক কম ভাড়ায় দেওয়া হবে।

কিন্তু সিটি কাউন্সিল জানায়, এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। কারণ, বাড়িটি ‘রেভিভা’ কর্মসূচির আইনি শর্ত পূরণ করে না।

তবে সমস্যা সমাধানে তারা আরেকটি পথ দেখায়। ইএমভিএসের ভাড়া নিয়ে সমঝোতা করানোর সেবা নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে বাড়ির মালিক ও মারিকারমেন আলোচনায় বসতে পারতেন। তাদের মধ্যে সমঝোতা করাতে পেশাদার মধ্যস্থতাকারীরাও থাকার কথা ছিল। এ জন্য গত সপ্তাহে একটি বৈঠকের সময়ও ঠিক করা হয়েছিল।

স্পেনে বাড়ি কেনা বা ভাড়া নেওয়া, দুই ক্ষেত্রেই মানুষের সমস্যাটি নতুন নয়। গত কয়েক বছরে এ নিয়ে বিক্ষোভও বেড়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপরও চাপ বাড়ছে।

এই ক্ষোভের বড় কারণ বাড়ির দাম বেড়ে যাওয়া। বড় শহরগুলোতে সমস্যাটি আরও বেশি। মাদ্রিদের কথাই ধরা যাক।

স্পেনে আন্দোলনে ধরপাকড়। ছবি: রয়টার্স
স্পেনে আন্দোলনে ধরপাকড়। ছবি: রয়টার্স

রিয়েল এস্টেট ওয়েবসাইট আইডিয়ালিস্তার তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে মাদ্রিদে বাড়িভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৬ সালের আগস্টে সেখানে প্রতি বর্গমিটারে ভাড়া ছিল ১২ দশমিক ৮ ইউরো বা প্রায় ১৪ দশমিক ৫৫ ডলার। ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৩ ইউরো বা প্রায় ২৬ দশমিক ৪৯ ডলারে।

অর্থাৎ, এক দশকেই মাদ্রিদে বাড়িভাড়ার খরচ অনেকটাই বেড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য সেখানে থাকার মতো বাড়ি খুঁজে পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

বাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান আইডিয়ালিস্তার তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১০ বছরে মাদ্রিদে বাড়ির প্রতি বর্গমিটারের দাম বেড়েছে ২২৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

২০১৬ সালের আগস্টে প্রতি বর্গমিটারের দাম ছিল ২ হাজার ৮৩৯ ইউরো বা প্রায় ৩ হাজার ২২৯ ডলার। ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪৭১ ইউরো বা প্রায় ৭ হাজার ৩৬১ ডলারে।

অন্যদিকে, দেশের মানুষের গড় বার্ষিক আয়ের সঙ্গে বাড়ির এই দামের বড় পার্থক্য রয়েছে। জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে স্পেনে গড় বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ২৯ হাজার ৫৪০ ইউরো বা ৩৩ হাজার ৫৯৬ ডলার।

সহজ করে বললে, মাদ্রিদে কেউ যদি ৫০ বর্গমিটারের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেন, তাহলে বছরে তার বাসাভাড়াতেই প্রায় ১৩ হাজার ৯৮০ ইউরো বা ১৫ হাজার ৮৯৪ ডলার খরচ হবে। অর্থাৎ, এই ভাড়া দেশের গড় বার্ষিক বেতনের প্রায় অর্ধেক।

এত বেশি ভাড়া দিতে হলে মানুষের হাতে সঞ্চয় করা বা অন্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর জন্য অর্থ কমে যায়। জাতিসংঘের মানব বসতি কর্মসূচি ইউএন-হ্যাবিটাটের হিসাবে, কোনো বাসাকে সাশ্রয়ী বলতে হলে একজনের আয়ের ৩০ শতাংশের কম বাসাভাড়ায় খরচ হওয়া উচিত।

স্পেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এই সংকটের বড় একটি কারণ হলো পর্যাপ্ত বাড়ির অভাব। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৭ লাখ ৫৫ হাজার বাড়ির ঘাটতি রয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে এই ঘাটতি ১০ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করছে ব্যাংকটি।

মারিকারমেনের উচ্ছেদের ঘটনা রাজনীতিতেও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তাকে যারা সমর্থন করছেন, তারা রাজনীতিবিদদের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন। আবার রাজনীতিবিদরাও এই ঘটনাকে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে এবং অন্যদের সমালোচনা করতে ব্যবহার করছেন।

গত মঙ্গলবার স্পেনের ক্ষমতাসীন জোট আবাসন সংকট কমাতে জরুরি কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। স্পেন সরকারের সূত্র সিএনএনকে জানায়, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো “মানুষের দাবি পূরণ করা এবং তাদের অধিকার আরও নিশ্চিত করা”।

এ নিয়ে বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, এসব প্রস্তাবে “সব রাজনৈতিক দলের প্রস্তাব ও উদ্যোগ” রাখা হয়েছে। সংসদের দলগুলোর প্রতিও তিনি এই পদক্ষেপগুলো সমর্থনের আহ্বান জানান।

এই সপ্তাহে স্পেনের সংসদে দুটি আলাদা রয়্যাল ডিক্রির মাধ্যমে এসব প্রস্তাব তোলা হবে।

প্রথম ডিক্রিতে রয়েছে বেশির ভাগ পদক্ষেপ। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে উচ্ছেদ বন্ধের সময়সীমা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ যেসব ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা, সেগুলোও আরও দুই বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ভাড়াটিয়ারা আরও কিছুটা নিরাপত্তা পাবেন।

এ ছাড়া মৌসুমি বাড়িভাড়া ও শুধু একটি ঘর ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম করার প্রস্তাব রয়েছে। ‘ভালচার ফান্ড’ নামে পরিচিত কিছু বিনিয়োগ তহবিলের বাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আনার কথা বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় ডিক্রিতে ভাড়ার চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নের প্রস্তাব রয়েছে। এটি নিয়ে সংসদে বেশি বিরোধিতা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই এই প্রস্তাবটি মূল প্যাকেজ থেকে আলাদা রাখা হয়েছে।

তবে মারিকারমেন আগে থেকেই প্রধানমন্ত্রী সানচেজের সমালোচনা করে আসছিলেন। নিজের দুর্ভোগের জন্যও তিনি তাকে দায়ী করেছিলেন।

বাড়ি থেকে জোর করে উচ্ছেদের এক দিন আগে স্পেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মারিকারমেন বলেছিলেন, “প্রতিদিন কত মানুষকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে, তারা (সরকার) কি তা বুঝতে পারেন না? নাকি বুঝতে চান না?”

স্পেনের সরকার বলছে, মারিকারমেনের বাড়িটি কিনে তাকে কম ভাড়ায় সেখানে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। এ জন্য আবাসন মন্ত্রণালয় ও কাসা ৪৭-এর মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে সরকারের দাবি। একই সঙ্গে মারিকারমেনকে সাহায্য না করার জন্য স্থানীয় ও আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষকেও দায়ী করেছে সরকার।

তবে মাদ্রিদ অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট ইসাবেল দিয়াস আয়ুসো এর দায় সানচেজ সরকারের ওপরই দিয়েছেন।

উচ্ছেদের পরদিন সকালে তিনি বলেন, মারিকারমেনকে উচ্ছেদ করেছে জাতীয় পুলিশের সদস্যরা। এই পুলিশ বাহিনী সরকারের অধীনে পরিচালিত হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিষয়: স্পেনবিক্ষোভ
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ২৭৩

  • ২

    কীভাবে ‘অপহরণ’ করা হয় ধ্রুব রাঠিকে

  • ৩

    ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩০০ ছাড়াল

  • ৪

    রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি: গ্রেপ্তার ৪ আসামি রিমান্ডে

  • ৫

    আচারের বয়াম থেকে ডায়মন্ড-স্বর্ণালংকার জব্দ

সম্পর্কিত
  • কীভাবে ‘অপহরণ’ করা হয় ধ্রুব রাঠিকে

    কীভাবে ‘অপহরণ’ করা হয় ধ্রুব রাঠিকে

    ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি আজ রোববার অভিযোগ করেছেন যে, গতকাল শনিবার পুলিশ তাকে দিল্লির বাড়ি থেকে জোর করে নিয়ে যায় এবং প্রায় এক দিন আটক করে রাখে। এ সময় তাকে কোনো আইনজীবী বা নিজের ফোন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি এই ঘটনাকে ‘অপহরণ’ বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন যে, এটি পুলিশের কোনো বৈধ

  • ‘নিষিদ্ধ’ রাশিয়ার তেলই কিনবে যুক্তরাষ্ট্র, কেন ও কীভাবে? লাভ হবে এই চুক্তিতে?

    ‘নিষিদ্ধ’ রাশিয়ার তেলই কিনবে যুক্তরাষ্ট্র, কেন ও কীভাবে? লাভ হবে এই চুক্তিতে?

    যে রাশিয়ার ওপর বছরের পর বছর ধরে নানান নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে, গত মাসেই রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা দেশগুলোর ওপরই যেখানে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে, সেই রাশিয়ার কাছ থেকেই এবার ডিজেল সরবরাহের চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র!

  • নতুন গঙ্গা চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’-এ গুরুত্ব ঢাকার, কেন?

    নতুন গঙ্গা চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’-এ গুরুত্ব ঢাকার, কেন?

    বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টন নিয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি রয়েছে কেবল গঙ্গা নদীকে ঘিরে। আগামী ১২ ডিসেম্বর গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নতুন বা সংশোধিত চুক্তিতে শুষ্ক মৌসুমে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে গ্যারান্টি ধারা অন্তর্ভুক্ত করাকে

  • বিদেশি তারকাদের নিয়ে ঢাকায় কনসার্ট করা কেন কঠিন হয়ে যাচ্ছে?

    বিদেশি তারকাদের নিয়ে ঢাকায় কনসার্ট করা কেন কঠিন হয়ে যাচ্ছে?

    কয়েক বছর আগেও আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক তারকা- বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের শীর্ষ সারির সুরকার ও শিল্পীদের পরিবেশনায় মুখরিত থাকত ঢাকার কনসার্ট অঙ্গন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি শিল্পীদের নিয়ে আয়োজিত কনসার্টের টিকিট কেনা দর্শক-শ্রোতাদের জন্য যেন এক বড় ধরনের অনিশ্চয়তার নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।