চরচা ডেস্ক

নদী-নালা, শহরের অলিগলি সব জায়গাতেই এখন বোধ হয় সবচেয়ে বেশি উপস্থিতি প্লাস্টিকের। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের দুশ্চিন্তার কারণ এই প্লাস্টিক শুধু প্রকৃতিতে দূষিত করছে না।
মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। তবে চোখে দেখা যায় এমন প্লাস্টিক থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা যায়, কিন্তু যা চোখে দেখা যায় না? সেগুলো মানব শরীরে কী ক্ষতি করছে?
যুক্তরাষ্ট্রের এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সির (ইপিএ) তথ্য অনুযায়ী, ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট থেকে শুরু করে ১ ন্যানোমিটার পর্যন্ত আকারের প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। বিষয়টি সহজভাবে বোঝাতে গেলে, মানুষের একটি চুলের পুরুত্বের সমান জায়গায় প্রায় ৮০ হাজার ন্যানোমিটার থাকে।
অর্থাৎ অনেক মাইক্রোপ্লাস্টিকই এতটাই ক্ষুদ্র যে খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়।
মাইক্রোপ্লাস্টিক দুই ধরনের। প্রসাধনী বা চিকিৎসা-সংক্রান্ত কিছু পণ্যের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করা হয় প্রাথমিক মাইক্রোপ্লাস্টিক।

আর প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্যাকেট, গাড়ির টায়ার কিংবা সিন্থেটিক কাপড় ধীরে ধীরে ভেঙে যে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়, সেগুলোকে বলা হয় সেকেন্ডারি মাইক্রোপ্লাস্টিক।
সময়ের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া, প্রাকৃতিক ক্ষয় কিংবা প্রাণীদের পরিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগুলো আরও ছোট হয়ে ন্যানোপ্লাস্টিকে পরিণত হতে পারে।
১ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট এই কণাগুলো কোনোভাবেই খালি চোখে দেখা যায় না।
স্ট্যানফোর্ড মেডিসিন নিউজ সেন্টারের তথ্য বলছে, ১৯৬০-এর দশকের শেষ থেকেই বিজ্ঞানীরা প্লাস্টিক দূষণের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করতে শুরু করেন।
১৯৭০-এর দশকে সামুদ্রিক প্ল্যাঙ্কটনের শরীরে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা শনাক্ত হয়। ২০০৪ সালে প্রথমবারের মতো ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ শব্দটি বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যবহৃত হয়।
বর্তমানে অ্যান্টার্কটিকার বরফ থেকে শুরু করে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়া, সমুদ্রের গভীর তলদেশ, মানুষের খাবার, পানীয় এবং শরীরের টিস্যু সব জায়গাতেই এই প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশি সংগঠন এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) পরিচালিত এক গবেষণায় দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে (৭৬.৫ শতাংশ) মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।
গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এই গবেষণায় ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর জরিপ করা হয়।
পাশাপাশি বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবরেটরি অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজিতে স্টেরিওমাইক্রোস্কপি এবং ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কপি প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীক্ষা করা হয়।

গবেষণাটি দেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে প্রথম বৈজ্ঞানিক বেইসলাইন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মানবদেহে কী প্রভাব ফেলতে পারে?
ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিডিয়া ইনস্টিটিউটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়, একজন মানুষ বছরে খাদ্যের মাধ্যমে অজান্তেই প্রায় ৩৯ হাজার থেকে ৫২ হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করেন।
যারা নিয়মিত বোতলজাত পানি পান করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা আরও প্রায় ৯০ হাজার বাড়তে পারে। আর পৌরসভার সরবরাহ করা পানি পান করলেও বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
স্ট্যানফোর্ড মেডিসিনের গবেষকদের মতে, মানুষ এখন একপ্রকার জন্মগতভাবেই প্লাস্টিক দূষণের শিকার। শিশুদের প্লাসেন্টা, মাতৃদুগ্ধ, মানুষের মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
গবেষণাগুলো বলছে, রক্তনালীতে মাইক্রোপ্লাস্টিক জমা থাকলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তে পারে। অতি-ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা রক্তের মাধ্যমে কোষের ভেতরে প্রবেশ করে জিনগত পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
শিশুদের টনসিল টিস্যুতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে, যা থাইরয়েড ক্যানসার ও হরমোনজনিত সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে গবেষকদের ধারণা।
এছাড়া এসব কণা শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করতে পারে এবং ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের খবর জানার পর অনেকেই নিমের ডাল বা চুলার ছাইয়ের মতো বিকল্পের কথা ভাবছেন।
তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। তাই চুলার ছাই বা নিমের মিসওয়াকও যে সম্পূর্ণ মাইক্রোপ্লাস্টিকমুক্ত হবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।

নদী-নালা, শহরের অলিগলি সব জায়গাতেই এখন বোধ হয় সবচেয়ে বেশি উপস্থিতি প্লাস্টিকের। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের দুশ্চিন্তার কারণ এই প্লাস্টিক শুধু প্রকৃতিতে দূষিত করছে না।
মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। তবে চোখে দেখা যায় এমন প্লাস্টিক থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা যায়, কিন্তু যা চোখে দেখা যায় না? সেগুলো মানব শরীরে কী ক্ষতি করছে?
যুক্তরাষ্ট্রের এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সির (ইপিএ) তথ্য অনুযায়ী, ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট থেকে শুরু করে ১ ন্যানোমিটার পর্যন্ত আকারের প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। বিষয়টি সহজভাবে বোঝাতে গেলে, মানুষের একটি চুলের পুরুত্বের সমান জায়গায় প্রায় ৮০ হাজার ন্যানোমিটার থাকে।
অর্থাৎ অনেক মাইক্রোপ্লাস্টিকই এতটাই ক্ষুদ্র যে খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়।
মাইক্রোপ্লাস্টিক দুই ধরনের। প্রসাধনী বা চিকিৎসা-সংক্রান্ত কিছু পণ্যের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করা হয় প্রাথমিক মাইক্রোপ্লাস্টিক।

আর প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্যাকেট, গাড়ির টায়ার কিংবা সিন্থেটিক কাপড় ধীরে ধীরে ভেঙে যে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়, সেগুলোকে বলা হয় সেকেন্ডারি মাইক্রোপ্লাস্টিক।
সময়ের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া, প্রাকৃতিক ক্ষয় কিংবা প্রাণীদের পরিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগুলো আরও ছোট হয়ে ন্যানোপ্লাস্টিকে পরিণত হতে পারে।
১ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট এই কণাগুলো কোনোভাবেই খালি চোখে দেখা যায় না।
স্ট্যানফোর্ড মেডিসিন নিউজ সেন্টারের তথ্য বলছে, ১৯৬০-এর দশকের শেষ থেকেই বিজ্ঞানীরা প্লাস্টিক দূষণের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করতে শুরু করেন।
১৯৭০-এর দশকে সামুদ্রিক প্ল্যাঙ্কটনের শরীরে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা শনাক্ত হয়। ২০০৪ সালে প্রথমবারের মতো ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ শব্দটি বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যবহৃত হয়।
বর্তমানে অ্যান্টার্কটিকার বরফ থেকে শুরু করে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়া, সমুদ্রের গভীর তলদেশ, মানুষের খাবার, পানীয় এবং শরীরের টিস্যু সব জায়গাতেই এই প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশি সংগঠন এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) পরিচালিত এক গবেষণায় দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে (৭৬.৫ শতাংশ) মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।
গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এই গবেষণায় ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর জরিপ করা হয়।
পাশাপাশি বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবরেটরি অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজিতে স্টেরিওমাইক্রোস্কপি এবং ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কপি প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীক্ষা করা হয়।

গবেষণাটি দেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে প্রথম বৈজ্ঞানিক বেইসলাইন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মানবদেহে কী প্রভাব ফেলতে পারে?
ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিডিয়া ইনস্টিটিউটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়, একজন মানুষ বছরে খাদ্যের মাধ্যমে অজান্তেই প্রায় ৩৯ হাজার থেকে ৫২ হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করেন।
যারা নিয়মিত বোতলজাত পানি পান করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা আরও প্রায় ৯০ হাজার বাড়তে পারে। আর পৌরসভার সরবরাহ করা পানি পান করলেও বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
স্ট্যানফোর্ড মেডিসিনের গবেষকদের মতে, মানুষ এখন একপ্রকার জন্মগতভাবেই প্লাস্টিক দূষণের শিকার। শিশুদের প্লাসেন্টা, মাতৃদুগ্ধ, মানুষের মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
গবেষণাগুলো বলছে, রক্তনালীতে মাইক্রোপ্লাস্টিক জমা থাকলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তে পারে। অতি-ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা রক্তের মাধ্যমে কোষের ভেতরে প্রবেশ করে জিনগত পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
শিশুদের টনসিল টিস্যুতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে, যা থাইরয়েড ক্যানসার ও হরমোনজনিত সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে গবেষকদের ধারণা।
এছাড়া এসব কণা শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করতে পারে এবং ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের খবর জানার পর অনেকেই নিমের ডাল বা চুলার ছাইয়ের মতো বিকল্পের কথা ভাবছেন।
তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। তাই চুলার ছাই বা নিমের মিসওয়াকও যে সম্পূর্ণ মাইক্রোপ্লাস্টিকমুক্ত হবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।