দুই মিনিটের নুডলস এলো কীভাবে

চীনের উত্তরাঞ্চেল একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে চার হাজার বছরের পুরোনো এক বাটি নুডলস পাওয়া যায়। বাটিটা উল্টানো ছিল, এবং এর ভিতরে বাজরার নুডলসের নিখুঁতভাবে অক্ষত লম্বা হলুদ ফালি পাওয়া গিয়েছিল।

দুই মিনিটের নুডলস এলো কীভাবে
ইনস্ট্যান্ট নুডলস। ছবি: পেক্সেলস

বিশ্বজুড়ে নুডলসের মতো জনপ্রিয় খাবার হয়তো কমই আছে। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে এই খাবারটির উপস্থিতি সরব। তবে দ্রুত গতির শহুরের জীবনে নুডলস বা ইনস্ট্যান্ট নুডলস পেট ভরানোর জন্য সাক্ষাৎ আশীর্বাদ। জানেন কি, এই ইনস্ট্যান্ট নুডলস কিন্তু যুদ্ধের ফল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের শহরগুলোতে মানুষের দুরাবস্থা দেখে মোমোফুকু আন্দো নামের একজন ব্যক্তি ইনস্ট্যান্ট নুডলস তৈরি করেন। ইনস্ট্যান্ট নুডলস কীভাবে এলো তার আগে চলুন ধাপে ধাপে কয়েকটি বিষয় জেনে নিই।

নুডলস এলো কোথা থেকে

নুডলসের উৎপত্তি নিয়ে পরস্পর-বিরোধী অনেকগুলো মতামত আছে। কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন নুডলসের উৎপত্তি মধ্যপ্রাচ্যে হয়েছিল এবং সুজি দিয়ে তৈরি করা হতো। অনেকে আবার বিশ্বাস করেন এর জন্মস্থান ছিল মধ্য এশিয়ার কোথাও। অনেক চীনা বিশ্বাস করেন যে নুডলস চীনেই তৈরি হয়েছিল এবং মার্কো পোলোর ভ্রমণের মাধ্যমে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছিল। আবার অনেক ইতালীয় পাস্তা আগে উদ্ভাবনের দাবি করেন এবং যুক্তি দেন যে, মার্কো পোলোর জন্মের অনেক আগে থেকেই এটি ইতালিতে ছিল।

কিছু খাদ্য ইতিহাসবিদ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক বিশ্বাস করেন, নুডলসের উৎপত্তি পশ্চিম এশিয়া, তুরস্ক এবং মিশরে যেখানে প্রথম ডুরুম গম চাষ করা হয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে নানা উপলক্ষে এটি পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে এই শতকের শুরুর দিকে চীনের উত্তরাঞ্চেল একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে চার হাজার বছরের পুরোনো এক বাটি নুডলস পাওয়া যায়। বাটিটা উল্টানো ছিল, এবং এর ভিতরে বাজরার নুডলসের নিখুঁতভাবে অক্ষত লম্বা হলুদ ফালি পাওয়া গিয়েছিল। অক্ষত নুডলস আবিষ্কারের আগে, নুডলসের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় প্রায় দুই হাজার বছর আগে হান রাজবংশের আমলে লেখা একটি বইয়ে। অন্যদের কাছে এত পুরোনো লিখিত নথি তা প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ না থাকায়, এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে অন্তত চার হাজার বছর আগে নুডলস চীনে ছিল।

এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে অন্তত চার হাজার বছর আগে নুডলস চীনে ছিল। ছবি: চরচা
এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে অন্তত চার হাজার বছর আগে নুডলস চীনে ছিল। ছবি: চরচা

ইনস্ট্যান্ট নুডলস আবিষ্কারের বহু আগে, চীনের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে নুডলস রান্নার একটি পদ্ধতি প্রচলিত ছিল। নুডলস প্রথমে সেদ্ধ করে গরম তেলে ভাজা হতো এবং সবশেষে স্যুপের সাথে পরিবেশন করা হতো।

চীনে, ‘ই নুডলস’ নামে ওরকম একটি নুডলস ছিল। কিং রাজবংশের কিংবদন্তি অনুসারে, রাজকুমার ই বিংশৌ তার মায়ের জন্মদিন উপলক্ষে একটি ভোজের আয়োজন করেছিলেন। এত বেশি অতিথি ছিল যে তাড়াহুড়োয় শেফ ভুল করে ফেলে। রান্না করা ডিমের নুডলস ফুটন্ত প্যানে ফেলে দেন। অন্য কোনো উপায় না দেখে, শেফ সেই নুডলসগুলো তুলে গরম তেলে ভেজে নেন, এবং সবশেষে স্যুপের সাথে পরিবেশন করেন। অতিথিরা নুডলসটির প্রশংসা করেন, ফলে রান্নার এই কৌশলটি প্রচলিত হয়ে যায়। প্রথম দিকে, ইনস্ট্যান্ট নুডলসের প্যাকেজিং-এ ই নুডলস লেখা থাকত।

তবে ইনস্ট্যান্ট নুডলসের আগে চলুন একটু রামেন নিয়ে জেনে আসি। তাহলে গল্পটা জমবে ভালো।

রামেন এলো কোথা হতে

বলা হয়, ইয়োকোহামার চায়না টাউনে প্রথম রামেন বস্তুটির সন্ধান পাওয়া যায়। ছবি: চরচা
বলা হয়, ইয়োকোহামার চায়না টাউনে প্রথম রামেন বস্তুটির সন্ধান পাওয়া যায়। ছবি: চরচা

রামেনের ইতিহাসের সন্ধান করতে, আসুন ৪০০ খ্রিস্টাব্দে ফিরে যাই। সে সময়টাতে চীনা অভিবাসীরা প্রথম জাপানে এসেছিলেন। পরবর্তী শতাব্দীতে, এই দুই দেশ বা শক্তির মধ্যে একটি আন্তঃসাংস্কৃতিক বিনিময়ের স্রোত প্রবাহিত হয়। সংগীত নিয়ে এক আলোচনায় দিলীপ কুমার রায়কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, “প্রাণের একটা শক্তি হচ্ছে গ্রহণ করার শক্তি, আর-একটা শক্তি হচ্ছে দান করার। যে মন গ্রহণ করতে জানে না সে ফসল ফলাতেও জানে না, সে তো মরুভূমি।” এই কথাটা রামেনের ক্ষেত্রেও খুব মিলে যায়। কীভাবে? প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, চীনা অভিবাসীরা নতুন ধরনের খাবারের সঙ্গে কাগজ তৈরির শিল্প, চীনা ক্যালেন্ডার এবং বৌদ্ধধর্মের সাথে জাপানিদের পরিচয় করিয়ে দেন। আর এর ফাঁকে চীন থেকে জাপানে পরিচিত হয় গমের নুডলস ‘লামিয়ান’। যার থেকে রামেনের উৎপত্তি ঘটেছে বলে বিদগ্ধজনরা বলে থাকেন। কারণ রামেন শব্দটি জাপানিরা ম্যান্ডারিন ভাষার ‘লামিয়ান’ শব্দ থেকে ধার করেছে। যার অর্থ টানা নুডলস। অনেকে বলেন, চীনা ‘লে’ এর ভুল জাপানি অনুকরণ ‘রা’। কোনো খাবার বানানো হয়ে গেলে চাইনিজ বাবুর্চিরা বলতেন ‘হাও লে’, অর্থাৎ কাজ শেষ। জাপানিরা ‘লা’ এর জায়গায় ‘রা’ আর শেষে ‘মেন’ বসিয়েছে। শুরুর দিকে রামেন জাতীয় খাবারগুলো বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিলো, যেমন ‘নানকিন সোবা’, ‘শিনা সোবা’ অথবা ‘চুকা সোবা’। রামেনকে সাধারণত ‘শিনা সোবা’ বলা হত, কিন্তু আজকাল চুকা সোবা বা শুধু রামেন বেশি ব্যবহার হয়। আরও একবার রবীন্দ্রনাথের ওই উক্তির সঙ্গে ঘটনাটা মিলিয়ে নিন। চীন দিল আর জাপান গ্রহণ করল। হল রামেন। আমরা পেলাম নতুন খাবার। অর্থ্যাৎ, ফসল ফলল।

বলা হয়, ইয়োকোহামার চায়না টাউনে প্রথম রামেন বস্তুটির সন্ধান পাওয়া যায়। লামিয়ান থেকে রামেন এলেও অর্থাৎ হাতে টানা নুডলস থেকে জন্ম হলেও রামেনে এসে দেখা গেল নুডুলস কাটা হচ্ছে। এই ব্যাপারটা বুঝতে হলে নুডলস তৈরির নানা পদ্ধতি বিবেচনায় নিতে হয়। ইয়োকোহামার চায়না টাউনের অধিবাসীরা বেশিরভাগই ছিলেন গুয়াংঝো এবং সাংহাই শহরের। একটি গল্প এমনও আছে যে, ১৬৬০ এর দশকে চীনা নব্য-কনফুসিয়ান পণ্ডিত ঝু শুনসুই জাপানে রামেনের প্রবর্তন করেছিলেন, যিনি মাঞ্চু শাসন থেকে বাঁচার জন্য জাপানে শরণার্থী হওয়ার পর টোকুগাওয়া মিতসুকুনির উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছিলেন। মিতসুকুনিই ছিলেন রামেন খাওয়া প্রথম জাপানি ব্যক্তি। এই তত্ত্বটিও মিথ ও সত্যের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে প্রবলে। ইতিহাসবিদদের প্রত্যাখ্যানের বিপরীতে।

তবে মোটামুটি এটা ধরে নেওয়া হয় যে, ২০ শতকের প্রথম দিকে ইয়োকোহামা চায়না টাউনে বসবাসকারী চীনা অভিবাসীদের দ্বারাই রামেন জাপানে প্রবর্তিত হয়েছিল। ১৯১০ সালে রাইরাইকেন নামে প্রথম রামেন দোকানটি টোকিওর আসাকুসাতে খোলা হয়েছিলো যার জাপানি মালিক ইয়োকোহামার চায়নাটাউন থেকে বারোজন ক্যান্টনিজ বাবুর্চিকে নিয়োগ করেছিলেন এবং জাপানি গ্রাহকদের জন্য সুন্দর করে সাজানো রামেন পরিবেশন করেছিলেন। সেই একই সময়ে জাপান বদলে যাচ্ছিল। শিল্পোন্নত হয়ে উঠছিল। দেশের ক্রমবর্ধমান শহুরে শ্রমিক শ্রেণির পেট ভরানোর জন্য সস্তা খাবারের জোগান তারও দরকার ছিল। আর এখানেই রামেন মার দিয়া কেল্লা।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বিক্রি হওয়া রামেন। ছবি: চরচা
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বিক্রি হওয়া রামেন। ছবি: চরচা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের ফলে দেশটিতে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়। খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণের জন্যে রাস্তার খাবার বিক্রেতাদের বেআইনি ঘোষণা করতে হয়েছিলো। যদিও খাদ্য ঘাটতির ব্যাপারটা শুরু যুদ্ধের সময়। যখন সরকারি রেশন পেতে দেরি হতো তখন কালোবাজারে রামেন বিক্রেতাদের গুরুত্ব বেড়ে যায়। কারণ, সস্তায় পেট ভরানো যায় এমন খাবার বাড়িতে বানানো তখনও সম্ভব ছিল না। যুদ্ধের পর রামেন বিক্রির জন্য হাজার হাজার বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যাদের বেশিরভাগই ‘ইয়াকুজা’ নামে পরিচিত জাপানি অপরাধ সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে কাজ করত। যুদ্ধের পর জাপানে যখন খাদ্য সংকট দেখা দিল তখন আমেরিকা সাহায্যের নামে প্রচুর গম সরবরাহ করে। বলা হয়, এর ফলে দুটো ব্যাপার ঘটলো, চালের উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাপানি খাদ্যাভাসে গমের প্রসার বাড়ল। আর, রুটি এবং গমের নুডুলস (রামেন) খাওয়ার হার বাড়ল। এবার আমরা ইনস্ট্যন্ট নুডলসের কাছাকাছি চলে এসেছি।

এলো দুই মিনিটের নুডলস

আগেই যে আমরা মোমোফুকু আন্দো নামের এক ব্যক্তির কথা বলেছিলাম। ১৯৫৮ সালে আন্দো সাহেব বৈপ্লবিক ঘটনা ঘটিয়ে ফেললেন। তৈরি করলেন ইনস্ট্যান্ট নুডলস। যা সারা বিশ্বের খাদ্যাভ্যাসে বৈপ্লবিক পরিবর্তনে এনেছে।

মোমোফুকুর জীবনীগ্রন্থ ‘দ্য স্টোরি অফ দ্য ইনভেনশন অফ ইনস্ট্যান্ট রামেন’-এ আন্দো লিখেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তিনি ওসাকার রাস্তা ধরে হাঁটছিলেন এবং দেখতে পান লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজন এক বাটি গরম রামেনের জন্য ঠান্ডায় কাঁপছে। ওই সময়টায় খাদ্য ঘাটতি ছিল ব্যাপক। আন্দো নিজেকে বলেছিলেন, “মানুষের কাছে যখন খাবার থাকবে, তখনই শান্তি আসবে।” তিনি একটি পুষ্টিকর, সস্তা এবং সহজে তৈরি করা যায় এমন খাবার তৈরির প্রতিজ্ঞা করলেন।

জাপানের ইকেদাতে তার বাড়ির পেছনের একটি শেডে কাজ করার সময়, আন্দো নুডলস তৈরি, শুকানো এবং স্বাদ যোগ করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। বারবার চেষ্টা এবং ত্রুটির মধ্য দিয়ে, তিনি অবশেষে নুডলস প্রস্তুত করার একটি পদ্ধতি নিয়ে আসেন। নুডলসের ওপর চিকেন স্যুপ ছিটিয়ে তারপর সেগুলোকে ভাজলেন। আন্দো দেখলেন ওই ভাজা নুডলসে ফুটন্ত পানি দিলে সেগুলো নরম হয় এবং মুরগির স্বাদ ছড়িয়ে পড়ে। আবিষ্কারের পরে, আন্দো নিসিন ফুড কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন এবং চিকেন স্যুপ হ্যান্ড-পুল্ড নুডলস বিক্রি শুরু করেন। শুরুতে এর দাম ছিল ৩৫ ইয়েন। বিক্রি শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই নকল পণ্য বাজারে আসতে শুরু করে। আন্দো বুঝতে পারলেন, নতুন পণ্যের সুনাম বজায় রাখার জন্য বাজার নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। ১৯৬০ সালে, তিনি ইনস্ট্যান্ট নুডলসের কপিরাইট সম্পর্কিত মামলায় জয়ী হন এবং দুই বছরের মধ্যে চিকেন স্যুপ হ্যান্ড-পুল্ড নুডলসের ট্রেডমার্ক নিবন্ধন করেন। ১৯৬৩ সালে নিসিন ফুড কোম্পানি বিদেশে সুযোগ খুঁজতে শুরু করে। দক্ষিণ কোরিয়ার মিয়াকি ফুড কোম্পানির সঙ্গে কাজ শুরু করে। ১৯৬৪ সালে আন্দো জাপান হ্যান্ড-পুল্ড নুডলস ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন এবং পেটেন্টটি ওই সংগঠনকে হস্তান্তর করেন। আন্দো বলেছিলেন, তার এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল শিল্পটিকে প্রসারিত করা, যাতে মানুষের কাছে সস্তা ইনস্ট্যান্ট নুডলস সরবরাহ করা যায়।

ঢাকায় রাস্তার পাশে বিক্রি হওয়া নুডলস। ছবি: চরচা
ঢাকায় রাস্তার পাশে বিক্রি হওয়া নুডলস। ছবি: চরচা

১৯৬৮ সালে তারা তাইওয়ানের আন্তর্জাতিক ফুড কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে আবারও চিকেন স্যুপ ফ্লেভারের ইনস্ট্যান্ট রামেন চালু করে। প্রথম দিকে, জাপানি ফর্মুলার ইনস্ট্যান্ট রামেনের বাজার ভালো ছিল না। সস এবং নুডলস নিয়ে কিছু পরীক্ষার-নিরীক্ষার পর এটি তাইওয়ানে সেরা বিক্রি হওয়া পণ্যে পরিণত হয়।

ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অফ ইনস্ট্যান্ট নুডলসের অফিসিয়াল তথ্য অনুসারে, ২০০৯ সাল থেকে চীন ইনস্ট্যান্ট নুডলসের মোট ব্যবহারে বিশ্বে প্রথম স্থানে রয়েছে। ২০১৩ সালে বিশ্বে ইনস্ট্যান্ট নুডলসের মোট ব্যবহার ছিল প্রায় ১০৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ব্যাগ, যেখানে চীন ৪৬ দশমিক ২২ বিলিয়ন ব্যাগ ব্যবহার করে প্রথম স্থানে ছিল, মাথাপিছু ব্যবহার ছিল ৩৪ প্যাকেট।

তথ্যসূত্র: ব্রিটনিকা ডটকম, এসপ্লেনডিটস্পুন ডটকম, আনাগোনা খানাপিনা (২০২৪)

সম্পর্কিত