চরচা ডেস্ক

ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ বিমান হামলায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল ও পা গুরুতরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তিনি এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মোজতবা ঘনিষ্ঠ তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এতে বলা হয়, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার মুখমণ্ডল ও পায়ের গুরুতর ক্ষত থেকে সেরে উঠছেন। যুদ্ধের শুরুতে যে বিমান হামলায় তার বাবা নিহত হয়েছিলেন, সেই একই হামলায় তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।
সূত্রগুলো জানায়, মধ্য তেহরানে সর্বোচ্চ নেতার কম্পাউন্ডে হওয়া ওই হামলায় মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গেছে এবং তাঁর একটি বা উভয় পা-ই গুরুতর জখম হয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী এই নেতা বর্তমানে চিকিৎসাধীন থাকলেও মানসিকভাবে অত্যন্ত সবল রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র জানায়, সংবেদনশীল বিষয়ের কারণে তারা পরিচয় গোপন রাখতে আগ্রহী। বর্তমানে তিনি অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন এবং চলমান যুদ্ধ ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার মতো প্রধান প্রধান ইস্যুতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকছেন।
মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা রাষ্ট্র পরিচালনার উপযোগী কি না এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরান কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে আজ শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মোজতবার ঘনিষ্ঠজনদের এই ভাষ্য গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে পাওয়া সবচেয়ে বিশদ বিবরণ। তবে রয়টার্স এসব তথ্যের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে পারেনি। গত ৮ মার্চ বাবার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোজতবার কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও রেকর্ড জনসম্মুখে আসেনি। ফলে তার অবস্থান ও সক্ষমতা জনগণের কাছে এক রহস্য হয়েই আছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের প্রথম দিনের হামলাতে মোজতবা আহত হন। ওই হামলায় ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এছাড়া মোজতবার স্ত্রী এবং শ্যালক-শ্যালিকাও ওই একই হামলায় প্রাণ হারান।
ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে তার আঘাতের পরিমাণ নিয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের একজন সংবাদ পাঠক তাঁকে ‘জানবাজ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইরানে এই শব্দটি তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় যারা যুদ্ধে গুরুতরভাবে আহত বা পঙ্গু হয়েছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ গত ১৩ মার্চ বলেছিলেন যে, মোজতবা খামেনি আহত এবং সম্ভবত তাঁর মুখমণ্ডল বিকৃত হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, মোজতবা একটি পা হারিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো অ্যালেক্স ভাটানকা বলেন, ‘‘মোজতবা খামেনি তার বাবার মতো নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী হতে পারবেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে।’’ তার মতে, রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) বর্তমানে কৌশলগত সিদ্ধান্তে প্রধান ভূমিকা পালন করছে।
মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রথম লিখিত বার্তা দেন গত ১২ মার্চ। টেলিভিশনে পাঠ করা সেই বিবৃতিতে তিনি হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার এবং আঞ্চলিক দেশগুলোকে মার্কিন ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। এরপর ২০ মার্চ পারস্য নববর্ষ উপলক্ষে তিনি সংক্ষিপ্ত বার্তা দেন, যাকে তিনি ‘প্রতিরোধের বছর’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
মোজতবার অনুপস্থিতি নিয়ে ইরানি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়েছে। ইন্টারনেটে একটি জনপ্রিয় ‘মিম’ ছড়িয়েছে যেখানে স্পটলাইটের নিচে একটি খালি চেয়ারের ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘মোজতবা কোথায়?’
তবে সরকারের সমর্থক এবং বাসিজ মিলিশিয়ার সদস্যরা মনে করেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার হুমকির মুখে সর্বোচ্চ নেতার জনসম্মুখে না আসা এবং আত্মগোপনে থাকাই বর্তমানে নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে জরুরি। কোম শহরের বাসিজ সদস্য মোহাম্মদ হোসেইনি এক বার্তায় বলেন, ‘‘কেন তিনি প্রকাশ্যে আসবেন? এই অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তু হওয়ার জন্য?’’
মোজতবার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, শারীরিক অবস্থা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী এক বা দুই মাসের মধ্যে তার ছবি প্রকাশ করা হতে পারে অথবা তিনি জনসম্মুখে আসতে পারেন।

ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ বিমান হামলায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল ও পা গুরুতরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তিনি এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মোজতবা ঘনিষ্ঠ তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এতে বলা হয়, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার মুখমণ্ডল ও পায়ের গুরুতর ক্ষত থেকে সেরে উঠছেন। যুদ্ধের শুরুতে যে বিমান হামলায় তার বাবা নিহত হয়েছিলেন, সেই একই হামলায় তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।
সূত্রগুলো জানায়, মধ্য তেহরানে সর্বোচ্চ নেতার কম্পাউন্ডে হওয়া ওই হামলায় মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গেছে এবং তাঁর একটি বা উভয় পা-ই গুরুতর জখম হয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী এই নেতা বর্তমানে চিকিৎসাধীন থাকলেও মানসিকভাবে অত্যন্ত সবল রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র জানায়, সংবেদনশীল বিষয়ের কারণে তারা পরিচয় গোপন রাখতে আগ্রহী। বর্তমানে তিনি অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন এবং চলমান যুদ্ধ ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার মতো প্রধান প্রধান ইস্যুতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকছেন।
মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা রাষ্ট্র পরিচালনার উপযোগী কি না এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরান কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে আজ শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মোজতবার ঘনিষ্ঠজনদের এই ভাষ্য গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে পাওয়া সবচেয়ে বিশদ বিবরণ। তবে রয়টার্স এসব তথ্যের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে পারেনি। গত ৮ মার্চ বাবার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোজতবার কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও রেকর্ড জনসম্মুখে আসেনি। ফলে তার অবস্থান ও সক্ষমতা জনগণের কাছে এক রহস্য হয়েই আছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের প্রথম দিনের হামলাতে মোজতবা আহত হন। ওই হামলায় ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এছাড়া মোজতবার স্ত্রী এবং শ্যালক-শ্যালিকাও ওই একই হামলায় প্রাণ হারান।
ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে তার আঘাতের পরিমাণ নিয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের একজন সংবাদ পাঠক তাঁকে ‘জানবাজ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইরানে এই শব্দটি তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় যারা যুদ্ধে গুরুতরভাবে আহত বা পঙ্গু হয়েছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ গত ১৩ মার্চ বলেছিলেন যে, মোজতবা খামেনি আহত এবং সম্ভবত তাঁর মুখমণ্ডল বিকৃত হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, মোজতবা একটি পা হারিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো অ্যালেক্স ভাটানকা বলেন, ‘‘মোজতবা খামেনি তার বাবার মতো নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী হতে পারবেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে।’’ তার মতে, রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) বর্তমানে কৌশলগত সিদ্ধান্তে প্রধান ভূমিকা পালন করছে।
মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রথম লিখিত বার্তা দেন গত ১২ মার্চ। টেলিভিশনে পাঠ করা সেই বিবৃতিতে তিনি হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার এবং আঞ্চলিক দেশগুলোকে মার্কিন ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। এরপর ২০ মার্চ পারস্য নববর্ষ উপলক্ষে তিনি সংক্ষিপ্ত বার্তা দেন, যাকে তিনি ‘প্রতিরোধের বছর’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
মোজতবার অনুপস্থিতি নিয়ে ইরানি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়েছে। ইন্টারনেটে একটি জনপ্রিয় ‘মিম’ ছড়িয়েছে যেখানে স্পটলাইটের নিচে একটি খালি চেয়ারের ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘মোজতবা কোথায়?’
তবে সরকারের সমর্থক এবং বাসিজ মিলিশিয়ার সদস্যরা মনে করেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার হুমকির মুখে সর্বোচ্চ নেতার জনসম্মুখে না আসা এবং আত্মগোপনে থাকাই বর্তমানে নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে জরুরি। কোম শহরের বাসিজ সদস্য মোহাম্মদ হোসেইনি এক বার্তায় বলেন, ‘‘কেন তিনি প্রকাশ্যে আসবেন? এই অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তু হওয়ার জন্য?’’
মোজতবার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, শারীরিক অবস্থা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী এক বা দুই মাসের মধ্যে তার ছবি প্রকাশ করা হতে পারে অথবা তিনি জনসম্মুখে আসতে পারেন।