হসপিস এমন এক ধরনের চিকিৎসা ও যত্ন, যেখানে মূল উদ্দেশ্য আর ‘রোগ সারানো’ নয়, বরং রোগীর শেষ সময়টাকে আরামদায়ক ও মর্যাদাপূর্ণ করে তোলা।
ধরুন, কেউ এমন এক রোগে আক্রান্ত যেটি আর সারানো সম্ভব নয় যেমন ক্যানসার শেষ পর্যায়, কিডনি বা হৃদরোগের জটিল অবস্থা, কিংবা বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা। তখন চিকিৎসার লক্ষ্য বদলে যায়।
এখন আর ওষুধে রোগ সারানো নয়, বরং ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অনিদ্রা বা মানসিক অস্থিরতা কমিয়ে রোগী যেন শান্তিতে থাকতে পারেন সেটাই লক্ষ্য।
এই যত্নকেই বলা হয় ‘হসপিস কেয়ার।’
সাধারণত যেসব রোগীদের বাঁচার সম্ভাবনা ছয় মাসের কম তাদের জন্যই এই সেবাটি শুরু হয়।
হসপিসে কাজ করেন এক বিশেষ দল ডাক্তার, নার্স, সমাজকর্মী, কাউন্সেলর, ধর্মীয় বা আত্মিক পরামর্শদাতা, আর স্বেচ্ছাসেবকরা। তাদের কাজ হলো রোগী ও পরিবারের পাশে থাকা।
তারা রোগীর শারীরিক কষ্ট কমান, যেমন ব্যথা, বমি, শ্বাসকষ্ট। তারা মানসিক সহায়তা দেন, কারণ এই সময়ে ভয়, উদ্বেগ, একাকিত্ব—সবকিছুই বাড়ে। আবার পরিবারকেও মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করেন।
অনেকে মনে করেন হসপিস মানে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া। আসলে তা নয় — অধিকাংশ সময়ই হসপিস কেয়ার দেওয়া হয় রোগীর নিজের ঘরেই, পরিচিত পরিবেশে, প্রিয়জনদের মাঝে।
হসপিস আর প্যালিয়েটিভ কেয়ার এক নাকি? প্রায় কাছাকাছি। তবে পার্থক্য আছে। প্যালিয়েটিভ কেয়ার যেকোনো পর্যায়ে দেওয়া যায়—রোগ সারানোর চিকিৎসার পাশাপাশি। কিন্তু হসপিস কেয়ার শুরু হয় তখন, যখন চিকিৎসক ও পরিবার বুঝে নেন, রোগ সারানো আর সম্ভব নয়।
তখন লক্ষ্য হয়, ‘কীভাবে বাকি সময়টা শান্তিতে কাটানো যায়।’
হসপিসে রোগীকে বলা হয় না, আপনি শেষ পর্যায়ে। বরং বলা হয়, আপনার যত সময় আছে, সেটাকে আমরা সুন্দর করতে চাই।
এমন যত্ন শুধু রোগীকেই নয়, পরিবারকেও সহায়তা করে। অনেক সময় পরিবারের সদস্যরা জানেন না, প্রিয়জনের শেষ মুহূর্তে কী করা উচিত হসপিস দল তাদের শেখায়, পাশে থাকে, সান্ত্বনা দেয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, হসপিসে থাকা রোগীরা মানসিকভাবে অনেক বেশি শান্ত ও সন্তুষ্ট থাকেন।
বাংলাদেশে এখনো হসপিসের ধারণা তেমনভাবে প্রচলিত নয়। ঢাকাসহ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছোট পরিসরে হসপিস কেয়ার শুরু করেছে, তবে এটি এখনো ব্যাপক নয়।
হসপিস শেখায় চিকিৎসা মানে শুধু রোগ সারানো নয়, মানুষকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দেওয়া।
তথ্যসূত্র: হসপিস ফাউন্ডেশন অব আমেরিকা, মায়ো ক্লিনিক, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক, হসপিস ইউকে