কাদের জন্য ‘বন্ধ হচ্ছে’ আমেরিকার দরজা

কাদের জন্য ‘বন্ধ হচ্ছে’ আমেরিকার দরজা

তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে অভিবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার রাষ্ট্র ব্যবস্থা পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসের কাছে দুইজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের ওপর আফগান নাগরিকের গুলিবর্ষণের পর এই ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থিতিশীল করার সুযোগ করে দিতে আমি তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করব।”

তিনি হুমকি দিয়ে আরও লিখেছেন, তার পূর্বসূরি জো বাইডেনের আমলে দেওয়া ‘লাখ লাখ’ অভিবাসনের অনুমোদন বাতিল করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রকৃত সম্পদ নন, এমন যে কাউকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে।

ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর প্রশ্ন উঠেছে তৃতীয় বিশ্বের দেশ বলতে তিনি কোন দেশগুলোর কথা বলেছেন, কারা আছে ট্রাম্পের তালিকায়?

তৃতীয় বিশ্ব কী

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ ৬৯টি দেশ রয়েছে এই ‘তৃতীয় বিশ্বের’ তালিকায়।

তৃতীয় বিশ্ব শব্দটি ১৯৫২ সালে প্রথম ব্যবহার করেছিলেন ফরাসি ইতিহাসবিদ আলফ্রেড সোভি। যেকোনো দেশের রাজনৈতিক জোট বোঝাতে তিনটি বিশ্বের এই ধারণা দেওয়া হয়েছিল।

এর মধ্যে, ন্যাটোতে যোগ দেওয়া গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে ‘প্রথম বিশ্ব’ হিসেবে অভিহিত করা হতো। প্রথম বিশ্বের অন্তর্ভুক্ত ছিল উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের অধিকাংশ দেশ এবং জাপান, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো।

আর সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীনসহ কমিউনিস্ট ব্লকের দেশগুলোকে বলা হতো ‘দ্বিতীয় বিশ্ব’।

এই দুই জোটের বাইরে থাকা দেশগুলোকেই বলা হতো ‘তৃতীয় বিশ্ব’। আফ্রিকা, এশিয়া, ওশেনিয়া ও লাতিন আমেরিকার অধিকাংশ স্বল্পোন্নত বা উন্নয়নশীল দেশই ছিল এমন।

তবে গত শতকের নয়ের দশকের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন এবং স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর তৃতীয় বিশ্বের অর্থ পরিবর্তিত হয়। রাজনৈতিক মূল্য হারিয়ে বিষয়টি এখন অর্থনীতির দিক থেকে বিবেচনা করা হয়।

জনসংখ্যা সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ করে এমন সংস্থা ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ বলছে, আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং পরিবেশগত সমস্যার সম্মুখীন দেশগুলো তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে পরিচিত। যেমন: উচ্চ দারিদ্র্যের হার, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং অপরিহার্য মানবসম্পদের অভাব, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে বেশি।

এই পরিবর্তিত সংজ্ঞার কারণে এখন কোন দেশগুলোকে সঠিকভাবে তৃতীয় বিশ্ব বলা যাবে তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, আগের সংজ্ঞা অনুসারে ফিনল্যান্ড, সুইডেন, আয়ারল্যান্ড এবং সুইজারল্যান্ড ন্যাটো বা কমিউনিস্ট ব্লকে ছিল না, তাই সেগুলো তৃতীয় বিশ্ব দেশের অন্তর্ভুক্ত হত।

তবে এখন এই চারটি দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ, তাই আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী এগুলোকে তৃতীয় বিশ্বের দেশ বলা হবে না।

বর্তমানে তৃতীয় বিশ্বের তালিকায় যেসব দেশ রয়েছে

ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের তালিকা অনুযায়ী, তৃতীয় বিশ্বের দেশের তালিকায় রয়েছে-

  • দক্ষিণ সুদান
  • সোমালিয়া
  • সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক
  • সাদ
  • নাইজার
  • মালি
  • বুরুন্ডি
  • বুর্কিনা ফাসো
  • সিয়েরা লিওন
  • ইয়েমেন
  • মাদাগাস্কার
  • মোজাম্বিক
  • আফগানিস্তান
  • ইথিওপিয়া
  • গিনি
  • এরিত্রিয়া
  • লাইবেরিয়া
  • সুদান
  • জিবুতি
  • গিনি-বিসাউ
  • বেনিন
  • মালাউই
  • ডিআর কঙ্গো
  • গাম্বিয়া
  • সেনেগাল
  • পাকিস্তান
  • লেসোথো
  • হাইতি
  • তানজানিয়া
  • নাইজেরিয়া
  • মৌরিতানিয়া
  • সিরিয়া
  • টোগো
  • পাপুয়া নিউ গিনি
  • রুয়ান্ডা
  • উগান্ডা
  • আইভরি কোস্ট
  • সলোমন দ্বীপপুঞ্জ
  • ক্যামেরুন
  • জাম্বিয়া
  • জিম্বাবুয়ে
  • কমোরোস
  • কাম্বোডিয়া
  • মায়ানমার
  • মাইক্রোনেশিয়া
  • অ্যাঙ্গোলা
  • লাওস
  • ভানুয়াতু
  • নেপাল
  • কেনিয়া
  • ঘানা
  • তিমোর-লেস্তে
  • সাও টোমে অ্যান্ড প্রিন্সিপে
  • কিরিবাতি
  • হন্ডুরাস
  • কঙ্গো প্রজাতন্ত্রী
  • গুয়াতেমালা
  • নামিবিয়া
  • কেপ ভার্দে
  • প্যালেস্টাইন
  • ইকুয়াটোরিয়াল গিনি
  • এল সালভাদর
  • ভারত
  • বাংলাদেশ
  • টুভালু
  • তাজিকিস্তান
  • ইরাক
  • এসওয়াতিনি
  • ভুটান

আমেরিকার পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষণামতে, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি পাওয়া তথ্যমতে, আমেরিকার মোট অভিবাসীর মধ্যে ২২ শতাংশই মেক্সিকো থেকে আসা। এরপর সবচেয়ে বেশি অভিবাসী আসে ভারত ও চীন থেকে (৬ শতাংশ)। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ফিলিপাইন ( ৪ শতাংশ) ও কিউবা (৩ শতাংশ)।

পিউ রিসার্চ সেন্টার বলছে, আমেরিকার প্রায় অর্ধেক অভিবাসী (৫২ শতাংশ) লাতিন আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করেছেন। এরপর সবচেয়ে বেশি অভিবাসী যায় এশিয়া থেকে (১৪ শতাংশ)।

সম্পর্কিত