চরচা ডেস্ক

আমরা প্রতিনিয়ত একে অপরকে নানা প্রশ্ন করি। কিন্তু আমরা আসলে জানি না একটি প্রশ্নের শক্তি কতটুকু। একটি প্রশ্নই নির্ধারণ করে দেয় আমাদের বুদ্ধিমত্তা, কোন প্রতিষ্ঠানের মান কিংবা মানুষের কাছে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু। গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিক উপায়ে প্রশ্ন করার ক্ষমতা যেমন ব্যবসায়িক বৈষম্য দূর করতে পারে, তেমনি ভেতরে লুকিয়ে থাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করে আনতে পারে।
কিছু পেশার মূল পরিচয় গড়ে ওঠে প্রশ্নের হাত ধরে। যেমন—গোয়েন্দারা প্রশ্ন করেন, আর সন্দেহভাজনদের অধিকার থাকে সে প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ার। ‘প্রশ্নটা আমি করছি’—এমন একটি বাক্য একজন সাংবাদিকের মুখে যতটা মানায়, একজন প্লাম্বারের মুখে ঠিক ততটাই অদ্ভুত শোনায়।
তবে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যই প্রশ্ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি চিন্তাভাবনাকে শাণিত করে এবং পরিস্থিতি খারাপ হলে সঠিক তথ্য বের করে আনতে সাহায্য করে। সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও প্রশ্নের ভূমিকা ব্যাপক।
প্রতিষ্ঠানে প্রশ্নকে প্রশ্রয়
জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির কারেন হুয়াং এবং তার সহ-গবেষকদের একটি গবেষণা অনুযায়ী, যারা বেশি প্রশ্ন করেন, মানুষ সাধারণত তাদের বেশি পছন্দ করে। এমনকি ক্যারিয়ারের অগ্রগতি পরিমাপের একটি স্থূল মাপকাঠিও হতে পারে এই প্রশ্ন। পদমর্যাদায় আপনি যত সিনিয়র হবেন, নিজে কাজ করার চেয়ে কাজ নিয়ে প্রশ্ন করতেই আপনার বেশি সময় কাটবে। আর যখন আপনি পরিচালনা পর্ষদে পৌঁছাবেন, তখন আপনার প্রধান কাজই হবে কেবল প্রশ্ন করা।
কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রশ্নের অনুপস্থিতি এটাই ইঙ্গিত করতে পারে যে, সেখানকার কর্মসংস্কৃতি প্রশ্নকে প্রশ্রয় দেয় না। এমনকি খুব সহজ প্রশ্নও কখনো কখনো সতর্কবার্তা হতে পারে।
ইটিএইচ জুরিখের এলিয়ট অ্যাশ এবং তার সহ-গবেষকদের একটি গবেষণা পত্রে ওয়ার্কপ্লেস রিভিউ সাইট ‘গ্লাসডোর’-এ পোস্ট করা ইন্টারভিউ রিপোর্টগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, চাকরিপ্রার্থীরা যখন ইন্টারভিউ প্রক্রিয়াটিকে খুব সহজ মনে করেন, তখন উচ্চ বেতনের চাকরির প্রস্তাবও ফিরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

ইন্টারভিউ সম্পর্কিত ফ্রি-টেক্সট পোস্ট বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন যে, প্রার্থীরা সহজ বা দায়সারা প্রশ্নকে তাদের ভবিষ্যৎ সহকর্মীদের নিম্ন যোগ্যতার একটি সংকেত হিসেবে ধরে নেন। তাই কঠিন প্রশ্ন করা কেবল নিয়োগকর্তাদের পক্ষেই যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের উপায় নয়; উল্টো প্রার্থীরাও এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের মান যাচাই করে নেন।
প্রশ্নের বুমেরাং
একটি ভালো প্রশ্নের সংজ্ঞা কী হবে, তা অবশ্য প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করে। কোনো সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করার জন্য একের পর এক পাঁচটি ‘কেন’ প্রশ্ন করার একটি পদ্ধতি আছে। এ পদ্ধতি ‘ফাইভ হোয়াইজ’ নামে পরিচিত। এর উৎপত্তি হয়েছিল টয়োটাতে এবং পরবর্তীতে তা অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট কর্মপরিবেশে তদন্তের কৌশল হিসেবে যা দারুণ কাজ করে, তা পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মোটেও সহায়ক হবে না। (যেমন— ‘গতকাল আপনি অনুপস্থিত ছিলেন কেন?’ ‘আমি একটি শেষকৃত্যানুষ্ঠানে গিয়েছিলাম।’ ‘কেন?’ ‘কেন মানে কী?’)
তা সত্ত্বেও, কিছু সাধারণ নিয়ম সবক্ষেত্রেই সমানভাবে কার্যকর। যেমন—উত্তরের দিকে মনোযোগ দেওয়া সবসময়ই একটি ভালো অভ্যাস। অনেক মানুষ কেবল নিজের কোনো তথ্য বা অভিজ্ঞতা শেয়ার করার উসিলা হিসেবে অন্যকে প্রশ্ন করেন। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অ্যালিসন উড ব্রুকস এবং ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের মাইকেল ইয়োম্যানসের একটি সাম্প্রতিক গবেষণাপত্রে এই প্রবণতাকে ‘বুমেরাস্কিং’ নাম দেওয়া হয়েছে।
আপনি যদি কাউকে জিজ্ঞেস করেন যে তিনি ছুটিতে কোথায় যাচ্ছেন, কেবল এই উদ্দেশ্যে যে আপনি নিজে ভুটানে জীবনের সেরা এক ভ্রমণে যাচ্ছেন তা তাকে জানাবেন—তবে আপনি মূলত ‘বুমেরাস্কিং’ করছেন। স্বভাবতই এটি অন্যের কাছে ইতিবাচক সাড়া পায় না। গবেষকরা দেখেছেন যে, প্রশ্নকর্তা যদি অপরপক্ষের উত্তরের প্রতি আন্তরিকভাবে আগ্রহী না হন, তবে তাকে কপট বা কৃত্রিম বলে মনে করা হয়।
প্রশ্নের পক্ষপাতিত্ব
আপনি যদি তুলনা করতে চান, তবে প্রশ্নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আনস্ট্রাকচার্ড ইন্টারভিউ প্রার্থীদের মধ্যে সঠিক তুলনা করা কঠিন করে তোলে এবং এতে পক্ষপাতিত্বের সুযোগ তৈরি হয়। উদাহরণস্বরূপ, পুরুষ ও নারী উদ্যোক্তাদের (ফাউন্ডার) তহবিল পাওয়ার মধ্যকার ব্যবধানটির কথাই ধরা যাক।
বিনিয়োগকারীরা সাধারণত উদ্যোক্তাদের লিঙ্গভেদে ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্ন করে থাকেন। যেমন— পুরুষদের কাছে তাদের স্টার্টআপের প্রবৃদ্ধি ও সম্ভাবনার বিষয়ে জানতে চাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, যেখানে নারীদের মূলত বিভিন্ন ঝুঁকির বিষয়ে জেরা করা হয়।
নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গবেষক অমিশা মিলার ও তার দল নতুন স্টার্টআপে বিনিয়োগ করার নিয়ম ও প্রশ্নগুলোকে একটা নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসেন। এর ফলে দেখা যায়, আগে বিনিয়োগকারীরা যেভাবে নারীদের চেয়ে কেবল পুরুষ উদ্যোক্তাদের বেশি প্রাধান্য দিতেন, সেই বৈষম্যমূলক মনোভাব দূর হয়ে গেছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে নারী উদ্যোক্তারাই বেশি বিনিয়োগ পেতে শুরু করেন।

সেরা প্রশ্ন আসলে কোনটা
তবে সবার কাছে একই ধরনের ভুল বা বাজে প্রশ্ন করে যাওয়াও খুব একটা কাজের কথা নয়। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির নন্দিল ভাটিয়া ও ওয়েই সাই এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের সমীর শ্রীবাস্তবের আরেকটি গবেষণাপত্রে একটি ভালো প্রশ্নের মূল উপাদানগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।
গবেষকেরা একটি লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলকে (এলএলএম) এমন কিছু প্রশ্ন শনাক্ত করার প্রশিক্ষণ দেন যেগুলোকে তারা ‘কার্ভবল’ প্রশ্ন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের সংজ্ঞা অনুযায়ী, কার্ভবল প্রশ্ন হলো এমন প্রশ্ন যা আগে থেকে অনুমান করা কঠিন মানে অপ্রত্যাশিত। এর প্রস্তুতি নেওয়াও দুরূহ। তবে তা পূর্ববর্তী আলোচনার সাথে প্রাসঙ্গিক হওয়ায় এড়িয়ে যাওয়াও অত্যন্ত কঠিন।
এরপর তারা যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘আর্নিংস কল’ (আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ সংক্রান্ত সভা)-এর অনুলিপিগুলো বিশ্লেষণ করেন। সেখানে দেখা যায় যে, আর্থিক বিশ্লেষকদের করা এ ধরনের কার্ভবল প্রশ্নগুলোর সাথে শেয়ারের মূল্যের বড় ধরনের ওঠানামা এবং রেটিং পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে। এর সম্ভাব্য কারণ হলো, অন্যান্য সাধারণ প্রশ্নের তুলনায় এই প্রশ্নগুলো নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করে আনতে বেশি সক্ষম হয়েছিল।
গবেষকেরা আরও দেখতে পান যে, তারকা বিশ্লেষক এবং কোনো প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণে একেবারেই নতুন এসেছেন—এমন বিশ্লেষকদের কাছ থেকেই এই কার্ভবল প্রশ্নগুলো বেশি আসে। তারকা বিশ্লেষকরা তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারেন, আর নতুনরা প্রথাগত ধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন না। এই দুই কারণেই শেষ পর্যন্ত চমৎকার সব প্রশ্নের জন্ম হয়।
তথ্যসূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট

আমরা প্রতিনিয়ত একে অপরকে নানা প্রশ্ন করি। কিন্তু আমরা আসলে জানি না একটি প্রশ্নের শক্তি কতটুকু। একটি প্রশ্নই নির্ধারণ করে দেয় আমাদের বুদ্ধিমত্তা, কোন প্রতিষ্ঠানের মান কিংবা মানুষের কাছে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু। গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিক উপায়ে প্রশ্ন করার ক্ষমতা যেমন ব্যবসায়িক বৈষম্য দূর করতে পারে, তেমনি ভেতরে লুকিয়ে থাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করে আনতে পারে।
কিছু পেশার মূল পরিচয় গড়ে ওঠে প্রশ্নের হাত ধরে। যেমন—গোয়েন্দারা প্রশ্ন করেন, আর সন্দেহভাজনদের অধিকার থাকে সে প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ার। ‘প্রশ্নটা আমি করছি’—এমন একটি বাক্য একজন সাংবাদিকের মুখে যতটা মানায়, একজন প্লাম্বারের মুখে ঠিক ততটাই অদ্ভুত শোনায়।
তবে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যই প্রশ্ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি চিন্তাভাবনাকে শাণিত করে এবং পরিস্থিতি খারাপ হলে সঠিক তথ্য বের করে আনতে সাহায্য করে। সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও প্রশ্নের ভূমিকা ব্যাপক।
প্রতিষ্ঠানে প্রশ্নকে প্রশ্রয়
জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির কারেন হুয়াং এবং তার সহ-গবেষকদের একটি গবেষণা অনুযায়ী, যারা বেশি প্রশ্ন করেন, মানুষ সাধারণত তাদের বেশি পছন্দ করে। এমনকি ক্যারিয়ারের অগ্রগতি পরিমাপের একটি স্থূল মাপকাঠিও হতে পারে এই প্রশ্ন। পদমর্যাদায় আপনি যত সিনিয়র হবেন, নিজে কাজ করার চেয়ে কাজ নিয়ে প্রশ্ন করতেই আপনার বেশি সময় কাটবে। আর যখন আপনি পরিচালনা পর্ষদে পৌঁছাবেন, তখন আপনার প্রধান কাজই হবে কেবল প্রশ্ন করা।
কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রশ্নের অনুপস্থিতি এটাই ইঙ্গিত করতে পারে যে, সেখানকার কর্মসংস্কৃতি প্রশ্নকে প্রশ্রয় দেয় না। এমনকি খুব সহজ প্রশ্নও কখনো কখনো সতর্কবার্তা হতে পারে।
ইটিএইচ জুরিখের এলিয়ট অ্যাশ এবং তার সহ-গবেষকদের একটি গবেষণা পত্রে ওয়ার্কপ্লেস রিভিউ সাইট ‘গ্লাসডোর’-এ পোস্ট করা ইন্টারভিউ রিপোর্টগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, চাকরিপ্রার্থীরা যখন ইন্টারভিউ প্রক্রিয়াটিকে খুব সহজ মনে করেন, তখন উচ্চ বেতনের চাকরির প্রস্তাবও ফিরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

ইন্টারভিউ সম্পর্কিত ফ্রি-টেক্সট পোস্ট বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন যে, প্রার্থীরা সহজ বা দায়সারা প্রশ্নকে তাদের ভবিষ্যৎ সহকর্মীদের নিম্ন যোগ্যতার একটি সংকেত হিসেবে ধরে নেন। তাই কঠিন প্রশ্ন করা কেবল নিয়োগকর্তাদের পক্ষেই যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের উপায় নয়; উল্টো প্রার্থীরাও এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের মান যাচাই করে নেন।
প্রশ্নের বুমেরাং
একটি ভালো প্রশ্নের সংজ্ঞা কী হবে, তা অবশ্য প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করে। কোনো সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করার জন্য একের পর এক পাঁচটি ‘কেন’ প্রশ্ন করার একটি পদ্ধতি আছে। এ পদ্ধতি ‘ফাইভ হোয়াইজ’ নামে পরিচিত। এর উৎপত্তি হয়েছিল টয়োটাতে এবং পরবর্তীতে তা অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট কর্মপরিবেশে তদন্তের কৌশল হিসেবে যা দারুণ কাজ করে, তা পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মোটেও সহায়ক হবে না। (যেমন— ‘গতকাল আপনি অনুপস্থিত ছিলেন কেন?’ ‘আমি একটি শেষকৃত্যানুষ্ঠানে গিয়েছিলাম।’ ‘কেন?’ ‘কেন মানে কী?’)
তা সত্ত্বেও, কিছু সাধারণ নিয়ম সবক্ষেত্রেই সমানভাবে কার্যকর। যেমন—উত্তরের দিকে মনোযোগ দেওয়া সবসময়ই একটি ভালো অভ্যাস। অনেক মানুষ কেবল নিজের কোনো তথ্য বা অভিজ্ঞতা শেয়ার করার উসিলা হিসেবে অন্যকে প্রশ্ন করেন। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অ্যালিসন উড ব্রুকস এবং ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের মাইকেল ইয়োম্যানসের একটি সাম্প্রতিক গবেষণাপত্রে এই প্রবণতাকে ‘বুমেরাস্কিং’ নাম দেওয়া হয়েছে।
আপনি যদি কাউকে জিজ্ঞেস করেন যে তিনি ছুটিতে কোথায় যাচ্ছেন, কেবল এই উদ্দেশ্যে যে আপনি নিজে ভুটানে জীবনের সেরা এক ভ্রমণে যাচ্ছেন তা তাকে জানাবেন—তবে আপনি মূলত ‘বুমেরাস্কিং’ করছেন। স্বভাবতই এটি অন্যের কাছে ইতিবাচক সাড়া পায় না। গবেষকরা দেখেছেন যে, প্রশ্নকর্তা যদি অপরপক্ষের উত্তরের প্রতি আন্তরিকভাবে আগ্রহী না হন, তবে তাকে কপট বা কৃত্রিম বলে মনে করা হয়।
প্রশ্নের পক্ষপাতিত্ব
আপনি যদি তুলনা করতে চান, তবে প্রশ্নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আনস্ট্রাকচার্ড ইন্টারভিউ প্রার্থীদের মধ্যে সঠিক তুলনা করা কঠিন করে তোলে এবং এতে পক্ষপাতিত্বের সুযোগ তৈরি হয়। উদাহরণস্বরূপ, পুরুষ ও নারী উদ্যোক্তাদের (ফাউন্ডার) তহবিল পাওয়ার মধ্যকার ব্যবধানটির কথাই ধরা যাক।
বিনিয়োগকারীরা সাধারণত উদ্যোক্তাদের লিঙ্গভেদে ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্ন করে থাকেন। যেমন— পুরুষদের কাছে তাদের স্টার্টআপের প্রবৃদ্ধি ও সম্ভাবনার বিষয়ে জানতে চাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, যেখানে নারীদের মূলত বিভিন্ন ঝুঁকির বিষয়ে জেরা করা হয়।
নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গবেষক অমিশা মিলার ও তার দল নতুন স্টার্টআপে বিনিয়োগ করার নিয়ম ও প্রশ্নগুলোকে একটা নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসেন। এর ফলে দেখা যায়, আগে বিনিয়োগকারীরা যেভাবে নারীদের চেয়ে কেবল পুরুষ উদ্যোক্তাদের বেশি প্রাধান্য দিতেন, সেই বৈষম্যমূলক মনোভাব দূর হয়ে গেছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে নারী উদ্যোক্তারাই বেশি বিনিয়োগ পেতে শুরু করেন।

সেরা প্রশ্ন আসলে কোনটা
তবে সবার কাছে একই ধরনের ভুল বা বাজে প্রশ্ন করে যাওয়াও খুব একটা কাজের কথা নয়। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির নন্দিল ভাটিয়া ও ওয়েই সাই এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের সমীর শ্রীবাস্তবের আরেকটি গবেষণাপত্রে একটি ভালো প্রশ্নের মূল উপাদানগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।
গবেষকেরা একটি লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলকে (এলএলএম) এমন কিছু প্রশ্ন শনাক্ত করার প্রশিক্ষণ দেন যেগুলোকে তারা ‘কার্ভবল’ প্রশ্ন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের সংজ্ঞা অনুযায়ী, কার্ভবল প্রশ্ন হলো এমন প্রশ্ন যা আগে থেকে অনুমান করা কঠিন মানে অপ্রত্যাশিত। এর প্রস্তুতি নেওয়াও দুরূহ। তবে তা পূর্ববর্তী আলোচনার সাথে প্রাসঙ্গিক হওয়ায় এড়িয়ে যাওয়াও অত্যন্ত কঠিন।
এরপর তারা যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘আর্নিংস কল’ (আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ সংক্রান্ত সভা)-এর অনুলিপিগুলো বিশ্লেষণ করেন। সেখানে দেখা যায় যে, আর্থিক বিশ্লেষকদের করা এ ধরনের কার্ভবল প্রশ্নগুলোর সাথে শেয়ারের মূল্যের বড় ধরনের ওঠানামা এবং রেটিং পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে। এর সম্ভাব্য কারণ হলো, অন্যান্য সাধারণ প্রশ্নের তুলনায় এই প্রশ্নগুলো নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করে আনতে বেশি সক্ষম হয়েছিল।
গবেষকেরা আরও দেখতে পান যে, তারকা বিশ্লেষক এবং কোনো প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণে একেবারেই নতুন এসেছেন—এমন বিশ্লেষকদের কাছ থেকেই এই কার্ভবল প্রশ্নগুলো বেশি আসে। তারকা বিশ্লেষকরা তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারেন, আর নতুনরা প্রথাগত ধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন না। এই দুই কারণেই শেষ পর্যন্ত চমৎকার সব প্রশ্নের জন্ম হয়।
তথ্যসূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট