Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ৩৩ শতাংশ ছুঁইছুঁই, সংকট কতটা গভীর?

চরচা প্রতিবেদক

চরচা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ৫৭
ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ৩৩ শতাংশ ছুঁইছুঁই, সংকট কতটা গভীর?
টাকা গণনা, ছবি: ইউএনবি

রাজনৈতিক প্রভাবে ঋণ বিতরণ, ব্যালেন্স শিটে জালিয়াতি এবং দুর্বল তদারকির কারণে দেশের ব্যাংকিং খাত নজিরবিহীন কাঠামোগত সংকটে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে স্বতন্ত্র নিরীক্ষা শুরু হওয়ায় খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে শুরু করেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের বরাতে বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, বর্তমানে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ের মধ্যে। এর সঙ্গে তীব্র মূলধন ঘাটতি পুরো আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

২০২৬ সালের জুন প্রান্তিকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকিং খাতে বিতরণকৃত মোট ১৮.৫১ লাখ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ৬.০৭ লাখ কোটি টাকাই এখন খেলাপি। অর্থাৎ প্রতি ১০০ টাকা ঋণের মধ্যে প্রায় ৩৩ টাকা ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিবেশী ভারতে এই হার মাত্র ২.৩ শতাংশ, পাকিস্তানে ৭.৪ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ১২.৬ শতাংশ। বাংলাদেশের হার এর চেয়ে অনেক বেশি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মোট খেলাপি ঋণের ৭২ শতাংশ বা ৪.৩৯৫ লাখ কোটি টাকা মাত্র ১০টি ব্যাংকের দখলে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ ৯৮,৯১৪ কোটি টাকা (হার ৫২.১৫%), জনতা ব্যাংকের ৭৫,৭২৮ কোটি টাকা (হার ৭৫.০৫%), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৬০,৬৪৫ কোটি টাকা (হার ৯৭.০৮%), এক্সিম ব্যাংকের ৩৮,০৫২ কোটি টাকা (হার ৭০.৮১%) এবং অগ্রণী ব্যাংকের ৩২,১৩৩ কোটি টাকা (হার ৪৩.৯৮%)।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ঋণের বড় অংশ গেছে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বড় ব্যবসায়িক গ্রুপের কাছে। অনেক মূল পরিচালক এখন কারাগারে বা বিদেশে পলাতক।

মন্দ ঋণের বিপরীতে ১০০ শতাংশ প্রভিশন সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতায় ব্যাংকগুলোর মুনাফা শূন্য হয়ে মূলধনে টান পড়েছে। ২০২৬ সালের জুন নাগাদ পুরো খাতে প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ২.২২৩ লাখ কোটি টাকায়।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, “খেলাপি ঋণ যখন ক্রমাগত বাড়ে, মূলধন ঘাটতি তখন অনিবার্য হয়ে ওঠে। উচ্চ প্রভিশনিং ব্যাংকের নিট মুনাফা গিলে ফেলে এবং মূলধন ভিত্তিকে ভেতর থেকে ফাঁপা করে দেয়।”

ফলে মার্চ প্রান্তিকে সামগ্রিক ক্যাপিটাল-টু-রিস্ক-ওয়েটেড অ্যাসেটস রেশিও (সিআরএআর) নেমে এসেছে ঋণাত্মক ৩.১৭ শতাংশে। ব্যাসেল-৩ অনুযায়ী এটি ১২.৫০ শতাংশ থাকা উচিত ছিল। ২১টি ব্যাংক মোট ২.৯৪ লাখ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি—৬৬,২৬৪ কোটি টাকা।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন দুটি বড় সিস্টেমিক ঝুঁকির কথা বলেছেন। প্রথমত, মূলধন ঋণাত্মক হয়ে পড়লে আমানতকারীদের আস্থা সংকট তৈরি হয় এবং ব্যাংকের তারল্য ও নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা অচল হয়ে পড়ে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রেডিট লাইন কমিয়ে দেয়, এলসি কনফার্মেশন খরচ বাড়ায় এবং ভালো ব্যাংকগুলোকেও অতিরিক্ত চাপের মুখে ফেলে।

ব্যবসায়ীরা সংকটে, ঋণের টাকায় ঋণ পরিশোধ করছেন কেউ কেউ!business

এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌহিদুল আলম খান বলেন, ‘‘সিআরএআর বজায় না রাখতে পারলে লভ্যাংশ নিষেধাজ্ঞা, ক্রেডিট রেটিং অবনমন এবং বিদেশি ঋণের খরচ বৃদ্ধির মতো শাস্তির মুখে পড়তে হয়।’’

এই সংকট মোকাবিলায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরে সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোর মূলধন পুনর্গঠনে প্রায় ৪০ হাজার ০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও জ্যেষ্ঠ ব্যাংকাররা তিনটি কৌশলের কথা বলছেন। প্রথমত, অসাধু খেলাপিদের জামানতকৃত সম্পত্তি দ্রুত বাজেয়াপ্ত ও বিক্রির জন্য বিশেষায়িত অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন। দ্বিতীয়ত, ইচ্ছাকৃত খেলাপিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে পাচারকৃত সম্পদ ফিরিয়ে আনা। তৃতীয়ত, একীভূত ব্যাংকগুলোর তদারকি বাড়ানো এবং ঋণ অনুমোদনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘‘খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পাওয়ায় সাময়িক চাপ তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদী আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাঠামোগত সংস্কার ও কঠোর আইনি প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই। ব্যাংকিং খাতের এই সংকট শুধু আর্থিক নয়, পুরো অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।’’

বিষয়: সংকটব্যাংকরাজনীতিঅর্থনীতিখেলাপি ঋণ
সর্বশেষ
  • ১

    বউ-শাশুড়ির ঝগড়া থামাতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের

  • ২

    ট্রাম্পের সঙ্গে বড় সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরোধের শুরু যেভাবে

  • ৩

    ‘বেদে নাই যার রূপরেখা পাবে সামান্যে কী তার দেখা’

  • ৪

    ‘স্ট্যান্ডআপ কমেডি’ পছন্দ ববি হাজ্জাজের ব্যাখ্যা দিলেন ‘বাজে’ ভাষার

  • ৫

    ‘আমাদের গমের ৮০% আমরা আমদানি করছি’

সম্পর্কিত
  • যুক্তরাষ্ট্র কি চাইলেই ইরানের এয়ারলাইনস বন্ধ করতে পারে?

    যুক্তরাষ্ট্র কি চাইলেই ইরানের এয়ারলাইনস বন্ধ করতে পারে?

    ইরানি এয়ারলাইনগুলো আজ বুধবার থেকে আন্তর্জাতিক রুটে নিজেদের ফ্লাইট পরিচালনা থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। ইরানি এয়ারলাইনগুলোকে সহায়তা করা বিদেশি কোম্পানিগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার হুমকি দিয়েছেন তিনি।

  • বন্দর বাড়ছে, সক্ষমতা কি বাড়ছে?

    বন্দর বাড়ছে, সক্ষমতা কি বাড়ছে?

    বাংলাদেশ বন্দর খাতের আধুনিকায়নে বড় ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে। এর আওতায় নতুন গভীর সমুদ্রবন্দর ও কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের পাশাপাশি ড্রেজিং, বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো, ডিজিটালাইজেশন এবং অভ্যন্তরীণ নৌপথের উন্নয়ন করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য দেশের বাণিজ্য অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করা।

  • দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ও সিউলের মেয়র কেন মুখোমুখি অবস্থানে?

    দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ও সিউলের মেয়র কেন মুখোমুখি অবস্থানে?

    সিউলের বাসিন্দাদের কাছে পার্কটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ—এমন প্রশ্নের জবাবে ওহ রাজধানীকে ‘পানি ও পাহাড়ের শহর’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে তার মতে, এই শহরে সবুজের জন্য মানুষের তৃষ্ণা রয়েছে। সিউলের ৬০ শতাংশ মানুষ অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বসবাস করেন।

  • সৌদির হাতে এত অস্ত্র, কিন্তু কৌশলে ব্যর্থ

    সৌদির হাতে এত অস্ত্র, কিন্তু কৌশলে ব্যর্থ

    সৌদি আরবের সামরিক বাজেট ও অত্যাধুনিক অস্ত্রসম্ভার বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত হলেও, রাজনৈতিক ও কৌশলগত লক্ষ্যের অভাবে এসব সামরিক পরাক্রম কার্যকর ফলাফল আনতে ব্যর্থ হচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী, দীর্ঘ বিরতির পর গত শনিবার ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার