চরচা প্রতিবেদক

আর মাত্র তিন দিনের অপেক্ষা। জানা যাবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ কে হবেন? বেশ কয়েকটি নাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসছে। বাফুফের অন্দর থেকেও খবর আসছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কে হবেন কোচ। কার কাঁধে থাকবে হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, শেখ মোরছালিন, রাকিব হোসেনদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব!
নতুন কোচ নিয়োগ হলে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল পেতে যাচ্ছে তাদের ২৪তম বিদেশি কোচ। এবারের কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়া অতীতের সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। কোচ নিয়োগের সার্কুলার জারির পর বিভিন্ন দেশ থেকে ২৩০টি সিভি এসেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কোচ নিয়োগ কমিটির হাতে। এটা একটা অকল্পনীয় সংখ্যা! ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৮১ নম্বর স্থানে থাকা একটি দেশের কোচ হতে যে ক্যালিবারের কোচরা আবেদন করেছেন, সেটাও অবিশ্বাস্য ব্যাপার। বোঝাই যাচ্ছে, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা বাংলাদেশি ফুটবলার হামজা চৌধুরী, কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে খেলা শমিত সোমসহ কয়েকজন বাংলাদেশি অরিজিন ফুটবলারের উপস্থিতিই বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রতি বিশ্বব্যাপি কোচদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো এই ২৩০ আবেদনের মধ্যে ১৭০জনই ছিলেন কোচিংয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি উয়েফা প্রো লাইসেন্সধারী কোচ। ব্যাপারটা এমন হয়েছিল যে কোচ বাছাই কমিটির সদস্যদের জন্য কাজটা ছিল অত্যন্ত কঠিন। তবুও তারা এতসব আবেদনপত্রের মধ্য থেকে ১১টি আবেদনপত্র চূড়ান্ত তালিকায় রেখেছিলেন।
বাফুফে এরই মধ্যে কোচ নিয়োগের সব প্রক্রিয়া গুটিয়ে এনেছে। হাই প্রোফাইল সব কোচদের সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়েছে। নিয়োগ চূড়ান্ত করার আগে আরও হয়তো সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল জানিয়েছেন, আগামী ১৫ মের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ কে হবেন, সেটা জানা যাবে। তিনি আরও বলেছেন, নতুন কোচকে ২ বছরের জন্য নিয়োগ দেবে বাফুফে।
কোচ হওয়ার দৌড়ে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তারা বিশ্ব ফুটবলের পরিচিত নাম। তালিকার প্রথম দিকে আছেন ওয়েলসের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যান। গ্যারেথ বেলদের মতো তারকাদের সামলানো কোলম্যান ক্লাব ফুটবলে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলেছেন এবং কোচ হিসেবে রিয়াল সোসিয়েদাদ, সান্ডারল্যান্ড ও ফুলহামের মতো ক্লাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তার। কোলম্যানের অনলাইন সাক্ষাৎকার পর্বও শেষ হয়েছে।

আরও একজনের নাম শোনা গিয়েছিল ব্রাজিলের রোজারিও মিকেলের নাম। এই মিকেল ২০১৬ সালে ব্রাজিলকে এনে দিয়েছিলেন অলিম্পিক ইতিহাসের প্রথম সোনার পদক। সেবার রিও অলিম্পিকে রোজারিও মিকেলের ব্রাজিল দলে ছিলেন নেইমারসহ ব্রাজিলের বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার।
এই রোজারিও মিকেলকে নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে মধ্যে দারুণ আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। হয়েছিল বলছি, এই কারণে, এই ব্রাজিলিয়ান এই মুহূর্তে আর কোচ হওয়ার দৌড়ে নেই। বাফুফের দেরি বা অন্য কোনো কারণে মিকেল নিজের আবেদন তুলে নিয়েছেন।
এদিকে ও’গ্লোবোসহ ব্রাজিলের একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মিকেল ব্রাজিলের দ্বিতীয় বিভাগের লন্ড্রিনা এসপোর্ত ক্লাবের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন ৮ মে। এই ক্লাবের হয়ে একসময় খেলেছেনও সাবেক এই ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক। বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, মিকেল তাদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ভালোভাবেই ছিলেন এবং বেতন চেয়েছিলেন ৩০ হাজার ডলার।
আরেকটি নাম ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল আগ্রহ তৈরি করেছিল। সেটা জার্মান কোচ বের্নার্ড স্টর্ক। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের জার্সিতে ১৪৬ ম্যাচ খেলা এই ডিফেন্ডার একসময় বরুসিয়ার সহকারী কোচও ছিলেন। দায়িত্বে ছিলেন বুন্দেসলিগার দল স্টুর্টগার্ট ও ভলসবুর্গেরও। হাঙ্গেরিকে কোচিং করিয়ে তাদের ২০১৬ সালে ৪৪ বছর পর ইউরোতে কোয়ালিফাই করিয়েছিলেন। শেষ ষোলোতেও গিয়েছিল হাঙ্গেরি। বের্নার্ড স্টর্ক বাংলাদেশের কোচের পদে আবেদন করেছেন শুনে রোমাঞ্চ অনুভবই করেছিলেন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা। কিন্তু তাকে বাফুফেই নাকি ফিরিয়ে দিয়েছে। কেন জানেন? তাঁর বয়স ৬৩ বলে। ব্যাপারটা কিছুটা অদ্ভুতই। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনাও কম হয়নি।
এখন কোচ হওয়ার দৌড়ে কে এগিয়ে আছেন? খবর যা আসছে, তাতে কোচ হওয়ার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা ওয়েলসের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যান। ৫৫ বছর বয়সী এই কোলম্যান বিশ্বব্যাপী পরিচিত, একজন হাইপ্রোফাইল কোচ। গ্যারেথ বেলদের কোচ ছিলেন। তিনি একজন ওয়েলশম্যান। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দীর্ঘদিন খেলেছেন ফুলহ্যাম ইউনাইটেডের হয়ে। ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে, এরপর খেলেছেন সোয়ানসে সিটিতে। এ ছাড়া ক্রিস্টাল প্যালেস ও ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের হয়েও খেলেছেন।
প্রিমিয়ার লিগে সর্বমোট ৫০০ ম্যাচ খেলা এই কোলম্যান, অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে ঋদ্ধ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ওয়েলসের হয়ে ৩২টি ম্যাচ খেলেছেন। কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন ফুলহ্যাম দিয়ে। স্পেনে কোচিং করিয়েছেন রিয়েল সোসিয়েদাদকে। পরে নেন কভেন্ট্রি সিটির দায়িত্ব। ওয়েলস জাতীয় দলের কোচ হিসেবে তিনি তার দেশকে ২০১৬ সালে ইউরোতে কোয়ালিফাই করান। যেটি ৫৮ বছরের মধ্যে ছিল ওয়েলসের প্রথম মেজর টুর্নামেন্ট।

বাফুফে থেকে যা খবর আসছে, তাতে কোলম্যানই দৌড়ে এগিয়ে। তিনিও ৩০ হাজার ডলারের মতো বেতন চেয়েছেন নিজের জন্য। তবে কোলম্যান কিছু শর্ত দিয়েছেন। এর মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রধানতম শর্ত ‘স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়ার সুযোগ’—এটা সব কোচই চান। তিনি বাফুফের কাছে ভালো একটি প্রজেক্টও চান। মানে, বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নের একটি বাস্তব রোডম্যাপ চান—সেটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়।
কোলম্যান আরও একটি শর্ত দিয়েছেন, সেটি বাফুফে মানবে কি না, চ্যালেঞ্জটা সেই জায়গাতেই। তিনি পুরোপুরি নিজের পছন্দের কোচিং স্টাফ নিয়ে বাংলাদেশে আসতে চান। এটা বাফুফের জন্য চ্যালেঞ্জ এই কারণে, যে তাতে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের পেছনে খরচ অনেক বেড়ে যাবে। তিনি তার সহকারী হিসেবে ওয়েলস জাতীয় দলের সাবেক সহকারী কোচ কিট সিমন্সকে আনতে চান। বাফুফে সহকারী কোচের পদে বাংলাদেশের কাউকে রাখতেই বেশি আগ্রহী। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে, দরকষাকষি চলছে।
তবে সম্প্রতি বাফুফেকে কোচ নিয়োগে আর্থিক সহযোগিতার কথা বলেছেন যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হক। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালও বলেছেন, বাজেট নিয়ে সমস্যা না থাকার কথা। এখন বাফুফে কোলম্যানের শর্ত মেনে নেবে কি না, দেখার বিষয় সেটিই।
তবে কোচ হওয়ার দৌড়ে যে ক্রিস কোলম্যান এগিয়ে সেটা সব ইঙ্গিত থেকেই স্পষ্ট। এখন শুধু সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পালা।
দেখা যাক, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ২৪তম বিদেশি কোচ হিসেবে ক্রিস কোলম্যানকে বাফুফে আনতে পারে কি না!

আর মাত্র তিন দিনের অপেক্ষা। জানা যাবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ কে হবেন? বেশ কয়েকটি নাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসছে। বাফুফের অন্দর থেকেও খবর আসছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কে হবেন কোচ। কার কাঁধে থাকবে হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, শেখ মোরছালিন, রাকিব হোসেনদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব!
নতুন কোচ নিয়োগ হলে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল পেতে যাচ্ছে তাদের ২৪তম বিদেশি কোচ। এবারের কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়া অতীতের সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। কোচ নিয়োগের সার্কুলার জারির পর বিভিন্ন দেশ থেকে ২৩০টি সিভি এসেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কোচ নিয়োগ কমিটির হাতে। এটা একটা অকল্পনীয় সংখ্যা! ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৮১ নম্বর স্থানে থাকা একটি দেশের কোচ হতে যে ক্যালিবারের কোচরা আবেদন করেছেন, সেটাও অবিশ্বাস্য ব্যাপার। বোঝাই যাচ্ছে, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা বাংলাদেশি ফুটবলার হামজা চৌধুরী, কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে খেলা শমিত সোমসহ কয়েকজন বাংলাদেশি অরিজিন ফুটবলারের উপস্থিতিই বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রতি বিশ্বব্যাপি কোচদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো এই ২৩০ আবেদনের মধ্যে ১৭০জনই ছিলেন কোচিংয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি উয়েফা প্রো লাইসেন্সধারী কোচ। ব্যাপারটা এমন হয়েছিল যে কোচ বাছাই কমিটির সদস্যদের জন্য কাজটা ছিল অত্যন্ত কঠিন। তবুও তারা এতসব আবেদনপত্রের মধ্য থেকে ১১টি আবেদনপত্র চূড়ান্ত তালিকায় রেখেছিলেন।
বাফুফে এরই মধ্যে কোচ নিয়োগের সব প্রক্রিয়া গুটিয়ে এনেছে। হাই প্রোফাইল সব কোচদের সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়েছে। নিয়োগ চূড়ান্ত করার আগে আরও হয়তো সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল জানিয়েছেন, আগামী ১৫ মের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ কে হবেন, সেটা জানা যাবে। তিনি আরও বলেছেন, নতুন কোচকে ২ বছরের জন্য নিয়োগ দেবে বাফুফে।
কোচ হওয়ার দৌড়ে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তারা বিশ্ব ফুটবলের পরিচিত নাম। তালিকার প্রথম দিকে আছেন ওয়েলসের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যান। গ্যারেথ বেলদের মতো তারকাদের সামলানো কোলম্যান ক্লাব ফুটবলে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলেছেন এবং কোচ হিসেবে রিয়াল সোসিয়েদাদ, সান্ডারল্যান্ড ও ফুলহামের মতো ক্লাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তার। কোলম্যানের অনলাইন সাক্ষাৎকার পর্বও শেষ হয়েছে।

আরও একজনের নাম শোনা গিয়েছিল ব্রাজিলের রোজারিও মিকেলের নাম। এই মিকেল ২০১৬ সালে ব্রাজিলকে এনে দিয়েছিলেন অলিম্পিক ইতিহাসের প্রথম সোনার পদক। সেবার রিও অলিম্পিকে রোজারিও মিকেলের ব্রাজিল দলে ছিলেন নেইমারসহ ব্রাজিলের বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার।
এই রোজারিও মিকেলকে নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে মধ্যে দারুণ আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। হয়েছিল বলছি, এই কারণে, এই ব্রাজিলিয়ান এই মুহূর্তে আর কোচ হওয়ার দৌড়ে নেই। বাফুফের দেরি বা অন্য কোনো কারণে মিকেল নিজের আবেদন তুলে নিয়েছেন।
এদিকে ও’গ্লোবোসহ ব্রাজিলের একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মিকেল ব্রাজিলের দ্বিতীয় বিভাগের লন্ড্রিনা এসপোর্ত ক্লাবের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন ৮ মে। এই ক্লাবের হয়ে একসময় খেলেছেনও সাবেক এই ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক। বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, মিকেল তাদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ভালোভাবেই ছিলেন এবং বেতন চেয়েছিলেন ৩০ হাজার ডলার।
আরেকটি নাম ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল আগ্রহ তৈরি করেছিল। সেটা জার্মান কোচ বের্নার্ড স্টর্ক। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের জার্সিতে ১৪৬ ম্যাচ খেলা এই ডিফেন্ডার একসময় বরুসিয়ার সহকারী কোচও ছিলেন। দায়িত্বে ছিলেন বুন্দেসলিগার দল স্টুর্টগার্ট ও ভলসবুর্গেরও। হাঙ্গেরিকে কোচিং করিয়ে তাদের ২০১৬ সালে ৪৪ বছর পর ইউরোতে কোয়ালিফাই করিয়েছিলেন। শেষ ষোলোতেও গিয়েছিল হাঙ্গেরি। বের্নার্ড স্টর্ক বাংলাদেশের কোচের পদে আবেদন করেছেন শুনে রোমাঞ্চ অনুভবই করেছিলেন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা। কিন্তু তাকে বাফুফেই নাকি ফিরিয়ে দিয়েছে। কেন জানেন? তাঁর বয়স ৬৩ বলে। ব্যাপারটা কিছুটা অদ্ভুতই। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনাও কম হয়নি।
এখন কোচ হওয়ার দৌড়ে কে এগিয়ে আছেন? খবর যা আসছে, তাতে কোচ হওয়ার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা ওয়েলসের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যান। ৫৫ বছর বয়সী এই কোলম্যান বিশ্বব্যাপী পরিচিত, একজন হাইপ্রোফাইল কোচ। গ্যারেথ বেলদের কোচ ছিলেন। তিনি একজন ওয়েলশম্যান। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দীর্ঘদিন খেলেছেন ফুলহ্যাম ইউনাইটেডের হয়ে। ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে, এরপর খেলেছেন সোয়ানসে সিটিতে। এ ছাড়া ক্রিস্টাল প্যালেস ও ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের হয়েও খেলেছেন।
প্রিমিয়ার লিগে সর্বমোট ৫০০ ম্যাচ খেলা এই কোলম্যান, অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে ঋদ্ধ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ওয়েলসের হয়ে ৩২টি ম্যাচ খেলেছেন। কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন ফুলহ্যাম দিয়ে। স্পেনে কোচিং করিয়েছেন রিয়েল সোসিয়েদাদকে। পরে নেন কভেন্ট্রি সিটির দায়িত্ব। ওয়েলস জাতীয় দলের কোচ হিসেবে তিনি তার দেশকে ২০১৬ সালে ইউরোতে কোয়ালিফাই করান। যেটি ৫৮ বছরের মধ্যে ছিল ওয়েলসের প্রথম মেজর টুর্নামেন্ট।

বাফুফে থেকে যা খবর আসছে, তাতে কোলম্যানই দৌড়ে এগিয়ে। তিনিও ৩০ হাজার ডলারের মতো বেতন চেয়েছেন নিজের জন্য। তবে কোলম্যান কিছু শর্ত দিয়েছেন। এর মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রধানতম শর্ত ‘স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়ার সুযোগ’—এটা সব কোচই চান। তিনি বাফুফের কাছে ভালো একটি প্রজেক্টও চান। মানে, বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নের একটি বাস্তব রোডম্যাপ চান—সেটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়।
কোলম্যান আরও একটি শর্ত দিয়েছেন, সেটি বাফুফে মানবে কি না, চ্যালেঞ্জটা সেই জায়গাতেই। তিনি পুরোপুরি নিজের পছন্দের কোচিং স্টাফ নিয়ে বাংলাদেশে আসতে চান। এটা বাফুফের জন্য চ্যালেঞ্জ এই কারণে, যে তাতে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের পেছনে খরচ অনেক বেড়ে যাবে। তিনি তার সহকারী হিসেবে ওয়েলস জাতীয় দলের সাবেক সহকারী কোচ কিট সিমন্সকে আনতে চান। বাফুফে সহকারী কোচের পদে বাংলাদেশের কাউকে রাখতেই বেশি আগ্রহী। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে, দরকষাকষি চলছে।
তবে সম্প্রতি বাফুফেকে কোচ নিয়োগে আর্থিক সহযোগিতার কথা বলেছেন যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হক। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালও বলেছেন, বাজেট নিয়ে সমস্যা না থাকার কথা। এখন বাফুফে কোলম্যানের শর্ত মেনে নেবে কি না, দেখার বিষয় সেটিই।
তবে কোচ হওয়ার দৌড়ে যে ক্রিস কোলম্যান এগিয়ে সেটা সব ইঙ্গিত থেকেই স্পষ্ট। এখন শুধু সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পালা।
দেখা যাক, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ২৪তম বিদেশি কোচ হিসেবে ক্রিস কোলম্যানকে বাফুফে আনতে পারে কি না!