আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশরের ম্যাচ নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। ব্রাজিল নরওয়ের বিপক্ষে হেরে যাওয়ায় দুটি পেনাল্টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। পর্তুগালের ক্ষেত্রেও ক্রোয়েশিয়ার গোল বাতিল নিয়ে আলোচনা চলেছে। কিন্তু ভিএআর থাকার পরও কেন এত বিতর্ক? বিশ্বকাপে ২০১৮ থেকেই ভিএআর চলছে, কিন্তু তাতে বিতর্ক যেন কমছেই না।

বাগবিতণ্ডা শুরু হলে কয়েকজন আর্জেন্টিনা সমর্থক শরিফুলের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

নেইমারের ব্রাজিল বা রোনালদোর পর্তুগালের মতো ভাগ্য বরণ করতে না চাইলে এই প্রশ্নটার উত্তর দ্রুতই খুঁজে বের করতে হবে স্কালোনিকে। কে জানে, হয়তো আজ মিশরের বিপক্ষেই উত্তরটার দরকার হবে আর্জেন্টিনার!

নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হারের পরই কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার। এরপর মিক্সড জোনে তিনি বলেছেন, “আমি চেষ্টা করেছি, অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন এটা শেষ। (ব্রাজিলের জার্সিতে) আমার শুরুটা এখানেই হয়েছিল, শেষটাও এখানেই হল।”

ব্রাজিল ১ : ২ নরওয়ে
হালান্ডের দুই গোলেই ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ আটে উঠে গেছে নরওয়ে। এর আগে কখনো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় না পাওয়া নরওয়ে সে ইতিহাস পাল্টেছে শেষ ৩২-এ, আজ ব্রাজিলকে হারিয়ে লিখেছে নতুন ইতিহাস।

বিরতিতে ব্রাজিল ০ : ০ নরওয়ে
বিরতির আগে গোল না দেখা ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে আজ একেবারে আহামরিও হয়তো কিছু হয়নি, দুই বক্সে ঘটনার সংখ্যা একেবারে আঙুলে গোনার মতো। কিন্তু যে অল্প কিছু ঘটনা ঘটেছে, তাতেই ইতিহাসের বই উল্টেপাল্টে দেখতে হচ্ছে।

নরওয়েকে হারাতে না পারার যে কলঙ্ক, সেটা ঘুচিয়ে ফেলা হয়তো ব্রাজিলের জন্য বাড়তি প্রেরণা হতে পারে। কিন্তু সেক্ষেত্রে আর্লিং হলান্ড ব্রাজিলের জন্য একটা বড় সমস্যা হতে পারে। তবে এটা ঠিক, ব্রাজিলের মতো দল হলান্ডকে কীভাবে আটকাতে হয়, সেই কৌশল খুব ভালোভাবেই জানে।

ব্রাজিল, আবার সেই নরওয়ে! ২৮ বছরের কান্না শেষে ইতিহাস লিখতে নামছে হালান্ডরা

আর্জেন্টিনার জয়ের আনন্দ রাঙিয়েছে ব্রাজিলকেও। ব্রাজিলের সাও পাওলোতে আর্জেন্টাইনরা মেতেছিলেন আনন্দে, সাও পাওলোরর আর্জেন্টাইন রেস্তোরাঁয় ভিড় করেছিলেন সবাইকে। ওই রেস্তোরাঁর আশপাশকে তারা বানিয়ে ফেলেছিলেন এক টুকরো বুয়েনেস এইরেস।

১৯৭৪ বিশ্বকাপে কঙ্গো খেলেছিল। তখন দেশটির নাম ছিল জায়ার। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচ স্বৈরশাসক মবুতুর হুমকি মাথায় নিয়ে খেলেছিল খেলোয়াড়েরা। কী হয়েছিল ৫২ বছর আগে?

১৯৯৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে জোড়া গোলে ফ্রান্সকে প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতিতে জিনেদিন জিদান চলে আসেন পাদপ্রদীপের চূড়ায়। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেরা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স জিদান উপহার দেন ৮ বছর পর। প্রতিপক্ষ সেই ব্রাজিলই!

জাপানিরা আজ ভরসা করবে পরিশ্রমী ফুটবল, আর নিজেদের কৌশলে। আগের তুলনায় জাপান দলটা এখন অনেক বেশি সৃষ্টিশীল। নিজেদের ‘আন্ডারডগ’ ভাবাটাই জাপানের শক্তি।

একজন ব্রাজিলিয়ান খুব বিপদে পড়বেন রাউন্ড অব ৩২–এর ব্রাজিল–জাপান ম্যাচের দিন। তিনি অবশ্যই ব্রাজিলকে সমর্থন করবেন, কিন্তু জাপানের প্রতিও তার একটা টান থেকে যাবে। জাপানের একটা ভালো মুভ, জাপানি ফুটবলারদের পারফরম্যান্স এমনকি জাপানের গোলও তাকে গর্বিত করবে।

শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ জাপানকে দেখা হচ্ছে বিশ্বকাপের ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে। ২০১৯ সালের পর থেকে ইউরোপিয়ান দলগুলোর বিপক্ষে অপরাজিত থাকা এশিয়ার দলটি খেলছে উপভোগ্য ফুটবল। গত বছর আনচেলত্তির ব্রাজিলকে প্রীতি ম্যাচে ৩-২ গোলে হারিয়ে দিয়েছিল জাপান।

শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ জাপানকে দেখা হচ্ছে বিশ্বকাপের ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে। ২০১৯ সালের পর থেকে ইউরোপিয়ান দলগুলোর বিপক্ষে অপরাজিত থাকা এশিয়ার দলটি খেলছে উপভোগ্য ফুটবল। গত বছর আনচেলত্তির ব্রাজিলকে প্রীতি ম্যাচে ৩-২ গোলে হারিয়ে দিয়েছিল জাপান।