চরচা ডেস্ক

জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় পাঁচ মাস পেরোলেও এখনো ইরানের প্রাণঘাতী হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, গত ১৭ জুলাইয়ের এই হামলা ছিল যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) হামলায় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার প্রথম ঘটনা।
হামলার বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি পেন্টাগন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা দেখিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত বিমান হামলার পরও ইরান এখনো দীর্ঘমেয়াদি অসম যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো সামরিক সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ থিংক ট্যাংকের সামরিক বিশ্লেষণ পরিচালক জেনিফার কাভানাহ আল জাজিরাকে বলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখনো শক্তিশালী। তারা ধারণার চেয়ে দ্রুত নিজেদের ঘুরে দাঁড় করিয়েছে।
এই বিশ্লেষক আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইরানের হামলা আরও নির্ভুল হচ্ছে। এতে রাশিয়া ও চীনের গোয়েন্দা সহায়তা থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
জেনিফারের মতে, পেন্টাগন যে দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী কার্যত যুদ্ধ করার সক্ষমতা হারিয়েছে, বাস্তবে তা ঠিক নয়। তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে ঠিকই, তবে অভিজ্ঞতা থেকে শিখছে এবং নিজেদের কৌশল বদলে নিচ্ছে।
কেন মার্কিন সেনাদের এখনো লক্ষ্যবস্তু করতে পারছে ইরান?
লন্ডনের কিংস কলেজের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর অবস্থান ও কাঠামো, পাশাপাশি আরও কয়েকটি কারণ মিলিয়ে ইরান এখনো এসব ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে মার্কিন সেনাদের ক্ষয়ক্ষতি করতে সক্ষম হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যেসব মার্কিন ঘাঁটি ইরানের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পাল্লার মধ্যে রয়েছে, সেখানে অন্তত ৫০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, এসব ঘাঁটি ইরানের হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এই বিশ্লেষক বলেন, এসব ঘাঁটির মার্কিন সেনারা এমনে থাকেন, যা রকেট, মর্টার বা ছোট আকারের হামলা ঠেকাতে পারে। কিন্তু বড় ও নির্ভুল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত মোকাবিলার জন্য এগুলো যথেষ্ট নয়। তার মতে, এ ধরনের হামলায় বড় ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। এমনকি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে না লাগলেও বিস্ফোরণের চাপ বা আকাশে ধ্বংস হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকেও হতাহতের আশঙ্কা থাকে।

আল জাজিরার তথ্য বলছে, এ পর্যন্ত যুদ্ধে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১ মার্চ কুয়েতের একটি সামরিক অপারেশনস সেন্টার এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় সাতজন নিহত হন।
তবে জর্ডানে নিহত তিন সেনা ছাড়া বাকিদের মৃত্যু সরাসরি ইরানের হামলায় হয়নি বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। তাদের মধ্যে মার্চে বিমানে জ্বালানি ভরার সময় দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হন। এছাড়া সম্প্রতি ইরাকে ভূপাতিত একটি সশস্ত্র ড্রোন নিরাপদে বিস্ফোরণ ঘটানোর সময় একজন সেনা সার্জেন্ট নিহত হন।
আল জাজিরা বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ৫০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। ৮ জুলাই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২২০টি সামরিক স্থাপনা, ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করছে ইরান?
আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, ইরান এখন উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন একসঙ্গে ব্যবহার করছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।
এই বিশ্লেষক বলেন, ইরান এমন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও সশস্ত্র ড্রোন তৈরি করেছে, যেগুলো ভিন্ন ভিন্ন দিক ও গতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগোতে পারে। একই সঙ্গে ভুয়া লক্ষ্যবস্তু (ডিকয়) ব্যবহার করায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং সব হামলা ঠেকানো কঠিন হয়ে যায়।
ক্রিগের ভাষ্য, বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত হলেও যদি অল্প কয়েকটিও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছে যায়, তাতেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
এদিকে, সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক মোনা ইয়াকুবিয়ান বলেন, যুদ্ধের শুরুর তুলনায় সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করার ক্ষেত্রে ইরানের আগ্রহ ও তৎপরতা আরও বেড়েছে।
তার মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে ইরান এখন আগের তুলনায় আরও জোরালো ও পরিকল্পিত কৌশল অনুসরণ করছে।
মোনা ইয়াকুবিয়ান বলেন, যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় এখন ইরান অনেক বেশি পরিকল্পিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
তার মতে, সাম্প্রতিক হামলায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। ইরানের হামলা আগের চেয়ে আরও নির্ভুল হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থার কার্যকারিতা কিছুটা কমেছে, অথবা এত বেশি হামলার মধ্যে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র কাকতালীয়ভাবেও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পেরেছে। এসব কারণ একসঙ্গেও কাজ করতে পারে।
৮ জুলাইয়ের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর হামলা চালিয়ে আসছিল।
ইরানের সেনাবাহিনী সর্বশেষ জানিয়েছে, তারা জর্ডানের প্রিন্স হাসান ও কিং ফয়সাল ঘাঁটিতে থাকা এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, ড্রোন প্রস্তুতকেন্দ্র এবং হেলিকপ্টার রাখার স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে বাহরাইনও জানিয়েছে, তারা আকাশপথের ইরানের কয়েকটি হামলা প্রতিহত করেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, নৌ সক্ষমতা, বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, ড্রোনের গুদাম এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের অবকাঠামো।
ইরানের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
বুধবার মার্কিন সিনেটে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে প্রশ্ন করা হয়, ইরানের সামরিক বাহিনী কার্যত যুদ্ধ করার সক্ষমতা হারিয়েছে– তার এমন দাবি আসলে কতটা সঠিক।

জবাবে হেগসেথ বলেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘ঐতিহাসিক সামরিক বিজয়’। তার দাবি, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং সামরিক শিল্প বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, ইরান পুরোপুরি হামলা চালানোর সক্ষমতা হারাবে–এমনটা যুক্তরাষ্ট্র কখনোই আশা করেনি। প্রশ্ন হলো, তারা যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কতটা বড় পরিসরে হামলা চালাতে পারে।
ইরানের হাতে এখনো শক্তিশালী অস্ত্র আছে
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক ও সাবেক পেন্টাগন কর্মকর্তা জেসন ক্যাম্পবেলের মতে, সাম্প্রতিক হামলা দেখাচ্ছে যে ইরান শুধু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সক্ষমতাই ধরে রাখেনি, বরং এখন এমন কিছু উন্নত অস্ত্রও ব্যবহার করছে, যেগুলো যুদ্ধের শুরুতে ব্যবহার করা হয়নি। তিনি বলেন, ইরানের হাতে এমন কয়েকটি অস্ত্র ছিল, যেগুলো তারা শুরুতে ব্যবহার করেনি। প্রয়োজন হলে পরে সেগুলো ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল।
ক্যাম্পবেলের মতে, এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে বড় ও আরও শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এগুলো অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষমতাও বেশি।
ক্যাম্পবেলের অভিযোগ, মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তারা বারবার ইরানের সামরিক সক্ষমতা কতটা দুর্বল হয়েছে, তা বাড়িয়ে বলেছেন। বাস্তবে ইরান এখনো তাদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের মতো সামরিক সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
কেন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ?
ইউনিভার্সিটি অব বাথের অধ্যাপক ও সাবেক ন্যাটো বিশ্লেষক প্যাট্রিক বুরি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি অনেক বেশি হলেও ইরান ভবিষ্যতেও মার্কিন সেনা ও সামরিক স্থাপনায় প্রাণঘাতী হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে।
তার মতে, বড় সমস্যা হলো খরচের অসমতা। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি ও ছোড়ার খরচ তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু সেগুলো ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনেক বেশি ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হয়। তিনি বলেন, এ কারণেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে ক্ষতির কারণ হতে পারছে এবং এই সমস্যা সহজে শেষ হওয়ার নয়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের ভাষ্য, ইরানের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে হারানো নয়। বরং মাঝে-মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে এমন ক্ষতি করা, যাতে মানবিক, সামরিক ও রাজনৈতিক–সব দিক থেকেই ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়ে।

জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় পাঁচ মাস পেরোলেও এখনো ইরানের প্রাণঘাতী হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, গত ১৭ জুলাইয়ের এই হামলা ছিল যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) হামলায় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার প্রথম ঘটনা।
হামলার বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি পেন্টাগন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা দেখিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত বিমান হামলার পরও ইরান এখনো দীর্ঘমেয়াদি অসম যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো সামরিক সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ থিংক ট্যাংকের সামরিক বিশ্লেষণ পরিচালক জেনিফার কাভানাহ আল জাজিরাকে বলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখনো শক্তিশালী। তারা ধারণার চেয়ে দ্রুত নিজেদের ঘুরে দাঁড় করিয়েছে।
এই বিশ্লেষক আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইরানের হামলা আরও নির্ভুল হচ্ছে। এতে রাশিয়া ও চীনের গোয়েন্দা সহায়তা থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
জেনিফারের মতে, পেন্টাগন যে দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী কার্যত যুদ্ধ করার সক্ষমতা হারিয়েছে, বাস্তবে তা ঠিক নয়। তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে ঠিকই, তবে অভিজ্ঞতা থেকে শিখছে এবং নিজেদের কৌশল বদলে নিচ্ছে।
কেন মার্কিন সেনাদের এখনো লক্ষ্যবস্তু করতে পারছে ইরান?
লন্ডনের কিংস কলেজের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর অবস্থান ও কাঠামো, পাশাপাশি আরও কয়েকটি কারণ মিলিয়ে ইরান এখনো এসব ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে মার্কিন সেনাদের ক্ষয়ক্ষতি করতে সক্ষম হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যেসব মার্কিন ঘাঁটি ইরানের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পাল্লার মধ্যে রয়েছে, সেখানে অন্তত ৫০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, এসব ঘাঁটি ইরানের হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এই বিশ্লেষক বলেন, এসব ঘাঁটির মার্কিন সেনারা এমনে থাকেন, যা রকেট, মর্টার বা ছোট আকারের হামলা ঠেকাতে পারে। কিন্তু বড় ও নির্ভুল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত মোকাবিলার জন্য এগুলো যথেষ্ট নয়। তার মতে, এ ধরনের হামলায় বড় ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। এমনকি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে না লাগলেও বিস্ফোরণের চাপ বা আকাশে ধ্বংস হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকেও হতাহতের আশঙ্কা থাকে।

আল জাজিরার তথ্য বলছে, এ পর্যন্ত যুদ্ধে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১ মার্চ কুয়েতের একটি সামরিক অপারেশনস সেন্টার এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় সাতজন নিহত হন।
তবে জর্ডানে নিহত তিন সেনা ছাড়া বাকিদের মৃত্যু সরাসরি ইরানের হামলায় হয়নি বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। তাদের মধ্যে মার্চে বিমানে জ্বালানি ভরার সময় দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হন। এছাড়া সম্প্রতি ইরাকে ভূপাতিত একটি সশস্ত্র ড্রোন নিরাপদে বিস্ফোরণ ঘটানোর সময় একজন সেনা সার্জেন্ট নিহত হন।
আল জাজিরা বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ৫০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। ৮ জুলাই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২২০টি সামরিক স্থাপনা, ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করছে ইরান?
আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, ইরান এখন উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন একসঙ্গে ব্যবহার করছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।
এই বিশ্লেষক বলেন, ইরান এমন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও সশস্ত্র ড্রোন তৈরি করেছে, যেগুলো ভিন্ন ভিন্ন দিক ও গতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগোতে পারে। একই সঙ্গে ভুয়া লক্ষ্যবস্তু (ডিকয়) ব্যবহার করায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং সব হামলা ঠেকানো কঠিন হয়ে যায়।
ক্রিগের ভাষ্য, বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত হলেও যদি অল্প কয়েকটিও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছে যায়, তাতেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
এদিকে, সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক মোনা ইয়াকুবিয়ান বলেন, যুদ্ধের শুরুর তুলনায় সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করার ক্ষেত্রে ইরানের আগ্রহ ও তৎপরতা আরও বেড়েছে।
তার মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে ইরান এখন আগের তুলনায় আরও জোরালো ও পরিকল্পিত কৌশল অনুসরণ করছে।
মোনা ইয়াকুবিয়ান বলেন, যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় এখন ইরান অনেক বেশি পরিকল্পিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
তার মতে, সাম্প্রতিক হামলায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। ইরানের হামলা আগের চেয়ে আরও নির্ভুল হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থার কার্যকারিতা কিছুটা কমেছে, অথবা এত বেশি হামলার মধ্যে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র কাকতালীয়ভাবেও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পেরেছে। এসব কারণ একসঙ্গেও কাজ করতে পারে।
৮ জুলাইয়ের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর হামলা চালিয়ে আসছিল।
ইরানের সেনাবাহিনী সর্বশেষ জানিয়েছে, তারা জর্ডানের প্রিন্স হাসান ও কিং ফয়সাল ঘাঁটিতে থাকা এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, ড্রোন প্রস্তুতকেন্দ্র এবং হেলিকপ্টার রাখার স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে বাহরাইনও জানিয়েছে, তারা আকাশপথের ইরানের কয়েকটি হামলা প্রতিহত করেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, নৌ সক্ষমতা, বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, ড্রোনের গুদাম এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের অবকাঠামো।
ইরানের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
বুধবার মার্কিন সিনেটে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে প্রশ্ন করা হয়, ইরানের সামরিক বাহিনী কার্যত যুদ্ধ করার সক্ষমতা হারিয়েছে– তার এমন দাবি আসলে কতটা সঠিক।

জবাবে হেগসেথ বলেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘ঐতিহাসিক সামরিক বিজয়’। তার দাবি, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং সামরিক শিল্প বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, ইরান পুরোপুরি হামলা চালানোর সক্ষমতা হারাবে–এমনটা যুক্তরাষ্ট্র কখনোই আশা করেনি। প্রশ্ন হলো, তারা যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কতটা বড় পরিসরে হামলা চালাতে পারে।
ইরানের হাতে এখনো শক্তিশালী অস্ত্র আছে
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক ও সাবেক পেন্টাগন কর্মকর্তা জেসন ক্যাম্পবেলের মতে, সাম্প্রতিক হামলা দেখাচ্ছে যে ইরান শুধু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সক্ষমতাই ধরে রাখেনি, বরং এখন এমন কিছু উন্নত অস্ত্রও ব্যবহার করছে, যেগুলো যুদ্ধের শুরুতে ব্যবহার করা হয়নি। তিনি বলেন, ইরানের হাতে এমন কয়েকটি অস্ত্র ছিল, যেগুলো তারা শুরুতে ব্যবহার করেনি। প্রয়োজন হলে পরে সেগুলো ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল।
ক্যাম্পবেলের মতে, এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে বড় ও আরও শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এগুলো অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষমতাও বেশি।
ক্যাম্পবেলের অভিযোগ, মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তারা বারবার ইরানের সামরিক সক্ষমতা কতটা দুর্বল হয়েছে, তা বাড়িয়ে বলেছেন। বাস্তবে ইরান এখনো তাদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের মতো সামরিক সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
কেন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ?
ইউনিভার্সিটি অব বাথের অধ্যাপক ও সাবেক ন্যাটো বিশ্লেষক প্যাট্রিক বুরি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি অনেক বেশি হলেও ইরান ভবিষ্যতেও মার্কিন সেনা ও সামরিক স্থাপনায় প্রাণঘাতী হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে।
তার মতে, বড় সমস্যা হলো খরচের অসমতা। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি ও ছোড়ার খরচ তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু সেগুলো ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনেক বেশি ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হয়। তিনি বলেন, এ কারণেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে ক্ষতির কারণ হতে পারছে এবং এই সমস্যা সহজে শেষ হওয়ার নয়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের ভাষ্য, ইরানের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে হারানো নয়। বরং মাঝে-মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে এমন ক্ষতি করা, যাতে মানবিক, সামরিক ও রাজনৈতিক–সব দিক থেকেই ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়ে।

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। নেট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার দুই মাস পর এবং নবগঠিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলির মাধ্যমে দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই পদত

গত ২০ জুলাই নয়াদিল্লির কেন্দ্রস্থলে ঘটে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতন এবং তার সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাবকে চিহ্নিত করা গেছে। নয়াদিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট ও তলস্তয় মার্গ ক্রসিং থেকে শুরু করে কনট প্লেস পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় তরুণ ভারতীয়রা শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বগ্রাসী দুর্নীতি ও অবক্ষয়ে