চরচা ডেস্ক

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক দর্শনে ‘গায়ের জোরই সব’—এই নীতি আমেরিকার জন্য শেষ পর্যন্ত আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ভেনেজুয়েলা অভিযান এই প্রশ্নকে আরও ঘনীভূত করেছে।
ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিকোলাস মাদুরোর ১২ বছরের শাসনামলে ভেনেজুয়েলা এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। নির্বাচনে কারচুপি, বিরোধী দমনে চরম নৃশংসতা এবং ব্যাপক দুর্নীতির ফলে দেশটির জিডিপি প্রায় ৬৯% হ্রাস পায়। জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়, যা কোনো গৃহযুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছিল। এছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মাদুরোর মাদকচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, হিজবুল্লাহকে সমর্থন এবং ইরান-রাশিয়া-চীনকে মার্কিন উপকূলে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দেওয়া ওয়াশিংটনের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ ছিল।
এই প্রেক্ষাপটেই ৩ জানুয়ারি মার্কিন বিশেষ বাহিনী এক ঝটিকা অভিযানে মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে। তিন ঘণ্টারও কম সময়ের এই অভিযানে মার্কিন সামরিক শক্তির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হলেও, এর পেছনে ট্রাম্পের উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন। সাবেক প্রেসিডেন্টদের মতো গণতন্ত্র বা মানবাধিকারের দোহাই না দিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, তার লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার তেল দখল এবং পশ্চিম গোলার্ধে নিরঙ্কুশ মার্কিন আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা।

মাদুরোকে নিউইয়র্কের আদালতে মাদক মামলায় হাজির করা আমেরিকার প্রতিপক্ষদের জন্য একটি কড়া সতর্কবার্তা। তবে এই সামরিক সাফল্যই সব নয়। মাদুরো ব্যক্তিগতভাবে অপসারিত হলেও তার রেখে যাওয়া দমনমূলক শাসনযন্ত্র এবং মিলিশিয়া গ্রুপগুলো এখনো সক্রিয়। ফলে দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষকেও একই পরিণতির হুমকি দিয়ে রেখেছেন, যা স্থিতিশীলতার পরিবর্তে অস্থিরতাই বেশি উসকে দিচ্ছে।
ট্রাম্পের এই নীতিকে এখন ‘ডনরো মতবাদ’ বলা হচ্ছে, যেখানে আদর্শের চেয়ে শক্তি এবং প্রাকৃতিক সম্পদকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ভেনেজুয়েলার নোবেলজয়ী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে ট্রাম্প গুরুত্ব দিচ্ছেন না, কারণ তার হাতে সামরিক নিয়ন্ত্রণ নেই। ট্রাম্পের মূল দৃষ্টি ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল ভাণ্ডারের দিকে। তিনি দ্রুত বিপুল পরিমাণ তেল আহরণের স্বপ্ন দেখালেও দেশটির বিধ্বস্ত অবকাঠামো এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বড় বিনিয়োগকারীরা সেখানে কতটা আগ্রহী হবেন, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি মার্কিন জোটগুলোকে দুর্বল করে দিচ্ছে। গ্রিনল্যান্ড দখল বা ন্যাটো মিত্রদের প্রতি তার আক্রমণাত্মক মনোভাব মিত্র দেশগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মিত্ররা এখন আমেরিকাকে অংশীদারের বদলে এক আগ্রাসী শক্তি হিসেবে দেখতে শুরু করতে পারে।
একইসাথে, ছোট দেশগুলো ট্রাম্পের এই ‘দাদাগিরি’ থেকে বাঁচতে নীরবে চীন বা রাশিয়ার মতো শক্তির দিকে ঝুঁকতে পারে। ট্রাম্প হয়তো মনে করছেন শক্তিশালী দেশগুলো নিজের প্রভাববলয় শাসন করবে, কিন্তু এই সীমানা নির্ধারণের লড়াই পৃথিবীকে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত এক উনিশ শতকীয় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তার উদারনীতি, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের সর্বজনীন মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে। ট্রাম্প এই মূল্যবোধগুলোকে ‘বোকামি’ মনে করছেন। ভেনেজুয়েলায় তার এই পেশিশক্তির প্রদর্শন সাময়িক জয় মনে হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি আমেরিকার নৈতিক ও কৌশলগত অবস্থানকে বিশ্বজুড়ে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। সময় বলে দেবে, ট্রাম্পের এই দৃষ্টিভঙ্গি আসলে কতটা নির্ভুল ছিল।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক দর্শনে ‘গায়ের জোরই সব’—এই নীতি আমেরিকার জন্য শেষ পর্যন্ত আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ভেনেজুয়েলা অভিযান এই প্রশ্নকে আরও ঘনীভূত করেছে।
ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিকোলাস মাদুরোর ১২ বছরের শাসনামলে ভেনেজুয়েলা এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। নির্বাচনে কারচুপি, বিরোধী দমনে চরম নৃশংসতা এবং ব্যাপক দুর্নীতির ফলে দেশটির জিডিপি প্রায় ৬৯% হ্রাস পায়। জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়, যা কোনো গৃহযুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছিল। এছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মাদুরোর মাদকচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, হিজবুল্লাহকে সমর্থন এবং ইরান-রাশিয়া-চীনকে মার্কিন উপকূলে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দেওয়া ওয়াশিংটনের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ ছিল।
এই প্রেক্ষাপটেই ৩ জানুয়ারি মার্কিন বিশেষ বাহিনী এক ঝটিকা অভিযানে মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে। তিন ঘণ্টারও কম সময়ের এই অভিযানে মার্কিন সামরিক শক্তির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হলেও, এর পেছনে ট্রাম্পের উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন। সাবেক প্রেসিডেন্টদের মতো গণতন্ত্র বা মানবাধিকারের দোহাই না দিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, তার লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার তেল দখল এবং পশ্চিম গোলার্ধে নিরঙ্কুশ মার্কিন আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা।

মাদুরোকে নিউইয়র্কের আদালতে মাদক মামলায় হাজির করা আমেরিকার প্রতিপক্ষদের জন্য একটি কড়া সতর্কবার্তা। তবে এই সামরিক সাফল্যই সব নয়। মাদুরো ব্যক্তিগতভাবে অপসারিত হলেও তার রেখে যাওয়া দমনমূলক শাসনযন্ত্র এবং মিলিশিয়া গ্রুপগুলো এখনো সক্রিয়। ফলে দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষকেও একই পরিণতির হুমকি দিয়ে রেখেছেন, যা স্থিতিশীলতার পরিবর্তে অস্থিরতাই বেশি উসকে দিচ্ছে।
ট্রাম্পের এই নীতিকে এখন ‘ডনরো মতবাদ’ বলা হচ্ছে, যেখানে আদর্শের চেয়ে শক্তি এবং প্রাকৃতিক সম্পদকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ভেনেজুয়েলার নোবেলজয়ী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে ট্রাম্প গুরুত্ব দিচ্ছেন না, কারণ তার হাতে সামরিক নিয়ন্ত্রণ নেই। ট্রাম্পের মূল দৃষ্টি ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল ভাণ্ডারের দিকে। তিনি দ্রুত বিপুল পরিমাণ তেল আহরণের স্বপ্ন দেখালেও দেশটির বিধ্বস্ত অবকাঠামো এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বড় বিনিয়োগকারীরা সেখানে কতটা আগ্রহী হবেন, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি মার্কিন জোটগুলোকে দুর্বল করে দিচ্ছে। গ্রিনল্যান্ড দখল বা ন্যাটো মিত্রদের প্রতি তার আক্রমণাত্মক মনোভাব মিত্র দেশগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মিত্ররা এখন আমেরিকাকে অংশীদারের বদলে এক আগ্রাসী শক্তি হিসেবে দেখতে শুরু করতে পারে।
একইসাথে, ছোট দেশগুলো ট্রাম্পের এই ‘দাদাগিরি’ থেকে বাঁচতে নীরবে চীন বা রাশিয়ার মতো শক্তির দিকে ঝুঁকতে পারে। ট্রাম্প হয়তো মনে করছেন শক্তিশালী দেশগুলো নিজের প্রভাববলয় শাসন করবে, কিন্তু এই সীমানা নির্ধারণের লড়াই পৃথিবীকে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত এক উনিশ শতকীয় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তার উদারনীতি, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের সর্বজনীন মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে। ট্রাম্প এই মূল্যবোধগুলোকে ‘বোকামি’ মনে করছেন। ভেনেজুয়েলায় তার এই পেশিশক্তির প্রদর্শন সাময়িক জয় মনে হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি আমেরিকার নৈতিক ও কৌশলগত অবস্থানকে বিশ্বজুড়ে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। সময় বলে দেবে, ট্রাম্পের এই দৃষ্টিভঙ্গি আসলে কতটা নির্ভুল ছিল।