Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

মার্কিন অসম বাণিজ্য চুক্তি: ঢাকার সামনে কঠিন প্রশ্ন

চরচা প্রতিবেদক

চরচা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ২১: ০২
মার্কিন অসম বাণিজ্য চুক্তি: ঢাকার সামনে কঠিন প্রশ্ন

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে বিতর্ক থামছে না, বরং সময়ের সঙ্গে তা আরও তীব্র হচ্ছে। চুক্তির ভেতরের কাঠামোই এ বিতর্কের মূল কারণ। এটি আদৌ পারস্পরিক কি না, নাকি একতরফা—সে প্রশ্ন এখন সামনে।

Advertisement

অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তাফিজুর রহমান গত ১৪ মার্চ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) এক আলোচনা সভায় এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি বলেন, “চুক্তির ৩২ পৃষ্ঠার মূল নথিতে ‘Bangladesh shall’ শব্দগুচ্ছটি ব্যবহৃত হয়েছে ১৩১ বার, যেখানে ‘USA shall’ ব্যবহৃত হয়েছে মাত্র ছয়বার। এই পার্থক্য থেকে চুক্তির বাধ্যবাধকতার ভার কোন পক্ষের ওপর বর্তাচ্ছে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একইভাবে ‘shall endeavour’–অর্থাৎ সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর কথাটি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পাঁচবার উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে একবারও নয়। বিপরীতে ‘May’–অর্থাৎ ঐচ্ছিকতার সুযোগ–বাংলাদেশের জন্য পাঁচবার, যার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়েছে আটবার। ফলে এটি কেবল একটি বাণিজ্যচুক্তি নয়, বরং নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তারের একটি কাঠামো হিসেবেও দেখা যাচ্ছে।

চুক্তির শুল্ক কাঠামোতেও বৈষম্য পরিষ্কার। বাংলাদেশ ধাপে ধাপে মার্কিন পণ্যে শুল্ক কমাবে, অনেক ক্ষেত্রে শূন্যে নামিয়ে আনবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বহাল রাখবে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বাড়াবে। ফলে বাংলাদেশি পণ্যে শুল্ক ৩০ শতাংশের বেশি হতে পারে, যেখানে মার্কিন পণ্যে বাংলাদেশের শুল্ক প্রায় শূন্যে নেমে আসবে। এতে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একতরফা সুবিধা তৈরি হয়।

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাধ্যতামূলক কেনাকাটা। বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, সয়াবিন, এলএনজি এবং বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে হবে। এটি মুক্তবাজারের স্বাভাবিক নীতির বিপরীত। কারণ, বাজারে যেখানে কম দামে বা সুবিধাজনক উৎস থেকে পণ্য কেনার সুযোগ থাকা উচিত, সেখানে নির্দিষ্ট দেশ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণে কেনার বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

চুক্তিটি নীতিনির্ধারণের বাংলাদেশের স্বাধীনতাকেও সীমিত করতে পারে। বাংলাদেশ সহজে নতুন নিয়ম প্রণয়ন করতে পারবে না, বিশেষ করে যদি তা মার্কিন পণ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। অশুল্ক বাধা আরোপ করা যাবে না, ডিজিটাল নীতি, কর কাঠামো, এমনকি প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনাও চুক্তির শর্তের মধ্যে পড়বে। এতে রাষ্ট্রের নীতিগত স্বাধীনতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি রয়েছে। মার্কিন মানদণ্ড মেনে চললে পণ্য আমদানি সহজ হবে। কিন্তু বাংলাদেশের নিজস্ব যাচাই ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সীমিত হয়ে যেতে পারে। খাদ্য নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তখন অন্যের মানদণ্ডের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগের কারণ।

বাংলাদেশ-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি: ঢাকার জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষাbd us

মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত ধারাগুলোও চাপ তৈরি করতে পারে। কঠোর আন্তর্জাতিক নিয়ম মানতে গেলে বাংলাদেশের ওষুধশিল্প এবং কৃষি খাত প্রভাবিত হতে পারে। জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনে সীমাবদ্ধতা আসতে পারে, কৃষকদের বীজ সংরক্ষণ ও ব্যবহারের স্বাধীনতাও কমতে পারে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শ্রম ও পরিবেশ নিয়ে চুক্তিতে ইতিবাচক কিছু দিক আছে। শ্রমিক অধিকার, ইউনিয়ন স্বাধীনতা এবং পরিবেশ সুরক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে এসব পরিবর্তন যদি বাইরের চাপ থেকে আসে, তাহলে তা কতটা টেকসই হবে– সে প্রশ্ন থেকেই যায়। নিজস্ব প্রক্রিয়ার পরিবর্তে চাপভিত্তিক সংস্কার দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নাও হতে পারে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বাংলাদেশ মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বর্তমান সরকার কোনো গোপন চুক্তিতে বিশ্বাসী নয়।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, “দেশের স্বার্থ সবার আগে, এ লক্ষ্যে চুক্তির বিভিন্ন দিক সরকার পর্যালোচনা করে সামনে এগোচ্ছে।”

চুক্তির প্রভাব অর্থনীতির বাইরে গিয়েও কৌশলগত ক্ষেত্রে পড়তে পারে। কিছু দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বা প্রযুক্তিগত সম্পর্ক সীমিত করার ইঙ্গিত রয়েছে। এতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে চীন বা রাশিয়ার মতো বড় অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া চুক্তির কিছু ধারা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। মোস্ট ফেভার্ড নেশন বা এমএফএন নীতির মূল ধারণা হলো সব দেশের জন্য সমান সুবিধা নিশ্চিত করা। কিন্তু এখানে দেশভেদে ভিন্ন শর্ত প্রয়োগের কারণে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিরোধের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

রাজস্বের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। শুল্ক কমে গেলে সরকারের আয় কমবে, আবার নির্দিষ্ট দেশ থেকে বেশি দামে পণ্য কিনতে হলে ব্যয় বাড়বে। ফলে একদিকে রাজস্ব কমবে, অন্যদিকে ব্যয় বাড়বে–এই দ্বিমুখী চাপ অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

সব মিলিয়ে এই চুক্তি কিছু সীমিত সুযোগ তৈরি করলেও ঝুঁকির পরিমাণ বেশি বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো–বাংলাদেশ তার নীতিনির্ধারণের স্বাধীনতা কতটা ধরে রাখতে পারবে। তাই চুক্তি কার্যকর করার আগে প্রয়োজন খোলামেলা আলোচনা, পুনর্মূল্যায়ন এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। তাড়াহুড়া নয়, বরং সতর্ক ও বিবেচনাপ্রসূত পদক্ষেপই এখন সময়ের দাবি।

বিষয়: চুক্তিবাংলাদেশবিশ্লেষণমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রবাণিজ্য
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    নামে হিটলার-মুসোলিনি, আদর্শে বামপন্থী, জিতে গেছেন নির্বাচনে

  • ২

    জনশক্তি রপ্তানির গণ্ডি ছাড়িয়ে ঢাকা-রিয়াদকে বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়তে হবে

  • ৩

    নতুন গঙ্গা চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’-এ গুরুত্ব ঢাকার, কেন?

  • ৪

    ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী নিয়ে করা প্রশ্নগুলোর ইন্টেনশন ঠিক নাই’

  • ৫

    ‘এনজিও সরকার ২ বছরের শাসনে দেশটাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেল’

সম্পর্কিত
  • ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের কৌশল, রাজনৈতিক মেরুকরণ, ডিজিটাল প্রচারণা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে

  • মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর প্রায় প্রতিদিনের বিক্ষোভ মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এর মাত্র কয়েক মাস আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একই ধরনের বিক্ষোভের মুখে তার শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

  • নড়বড়ে মুশফিকুরকে কেন খেলাচ্ছে বাংলাদেশ?

    নড়বড়ে মুশফিকুরকে কেন খেলাচ্ছে বাংলাদেশ?

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্টের স্কোয়াড যখন ঘোষিত হয়, তখন থেকেই আলোচনা ছিল মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরের এরকম একটা অগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কেন মুশফিকুরকে দলে রাখা হলো, সেটা প্রশ্নের উদ্রেক করেছিল। কেননা মুশফিকুরের স্কোয়াডে থাকা মানেই একাদশে থাকাটাও ন

  • নিউইয়র্ক টাইমস: ট্রাম্পের প্রতি রিপাবলিকানদের হতাশা বাড়ছে

    নিউইয়র্ক টাইমস: ট্রাম্পের প্রতি রিপাবলিকানদের হতাশা বাড়ছে

    ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। পরিবর্তনটি সরাসরি ডেমোক্র্যাটদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা বা রিপাবলিকান ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থান বদলে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বরং এর কেন্দ্রে রয়েছে ক্লান্তি