Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১২ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১২ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

তারেক রহমানের বিজয় ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

রাহুল রায় চৌধুরী

রাহুল রায় চৌধুরী

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০: ০৮
তারেক রহমানের বিজয় ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ত্রয়োদশ এই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় লাভের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৬০ বছর বয়সী নেতা তারেক রহমান। এর মাধ্যমে তার প্রয়াত মা বেগম খালেদা জিয়ার ২০০১-০৬ মেয়াদের শাসনের প্রায় দুই দশক পর আবারও ক্ষমতায় ফিরল বিএনপি।

Advertisement

আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের বাইরে রাখা হলেও এবারের নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের মধ্যে ৭ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছেন, যার হার প্রায় ৬০ শতাংশ। বিপরীতে, বিএনপির বর্জন করা ২০২৪ সালের নির্বাচনে এই হার ছিল মাত্র ৪২ শতাংশ। বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন এবারের নির্বাচনকে ‘সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এছাড়া নির্বাচনটি মূলত শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।

১৭ কোটি ৩৫ লাখ জনসংখ্যার বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রধান চ্যালেঞ্জ ও অগ্রাধিকার হবে—তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণে বিভক্ত সমাজে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং প্রভাবশালী প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করা।

অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা

Advertisement
Advertisement
Advertisement

লন্ডনে দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তার নেতৃত্বে বিএনপি মোট ভোটের ৫০ শতাংশ লাভ করে এবং ২৯৭টি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয়ী হয়ে জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। একসময় আওয়ামী লীগের দখলে থাকা ‘মধ্যপন্থী ও উদার-ধর্মনিরপেক্ষ’ রাজনৈতিক অবস্থান নিজেদের দাবি করে বিএনপি এবার ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালায়।

উল্লেখ্য, বিগত শাসনামলে ব্যাপক দুর্নীতি ও নানা বিতর্কের কারণে সমালোচিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান দলের অতীতের ভুলভ্রান্তির জন্য জনসম্মুখে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নিষিদ্ধ হওয়া দেশের বৃহত্তম ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। তারা ৬৮টি আসনে জয়ী হয়ে প্রায় ৩২ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যা দলটির নির্বাচনী ইতিহাসে এযাবৎকালের সেরা ফলাফল। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে মনোনীত জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান দলটির ভাবমূর্তি পরিবর্তনের চেষ্টা করলেও উগ্র-ইসলামপন্থী রাজনীতির পুনরুত্থান নিয়ে জনমনে এখনও গভীর উদ্বেগ রয়েছে।

অন্যদিকে, ছাত্রনেতাদের গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়ে মাত্র ৬টি আসনে জয়লাভ করেছে। নয়াদিল্লিতে নির্বাসিত শেখ হাসিনা তার সমর্থকদের নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানালেও, ধারণা করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত অন্তত ৬২টি আসনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। তবে শেখ হাসিনা এই নির্বাচনকে একটি ‘পরিকল্পিত প্রহসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

তারেক রহমানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যকার চরম রাজনৈতিক মেরুকরণ নিরসন করা। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১৮ মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। এসময় পুলিশ বাহিনী অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং অন্তত ১ কোটি ৪০ লাখ জনসংখ্যার হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলার ঘটনা ঘটে, যারা ঐতিহ্যগতভাবেই আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

এর পাশাপাশি, ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনের সাথে সাথেই একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৬০ শতাংশ ভোটার ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার প্রস্তাবিত ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ বা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর পক্ষে রায় দেন। এই সনদে সংবিধান সংস্কারের একগুচ্ছ সুদূরপ্রসারী প্রস্তাবনা রয়েছে, যা বাস্তবায়ন করা এখন নবগঠিত তারেক রহমান সরকারের জন্য একটি আইনি বাধ্যবাধকতা। এসব সংস্কারের মূল লক্ষ্য—নির্বাহী বিভাগের একচ্ছত্র ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সুসংহত করা। তবে নির্বাচনের আগে বিএনপি এই সনদের কিছু বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। বিশেষ করে, সংসদে একটি ‘উচ্চকক্ষ’ গঠন এবং এর আইনপ্রণয়ন সংক্রান্ত ভূমিকার প্রস্তাবে তারা ‘ভিন্নমত’ পোষণ করেছে; কারণ এই ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর চিরাচরিত ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত করতে পারে।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা

তারেক রহমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হলো ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে গতির সঞ্চার করা। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ২০৩৪ সালের মধ্যে বর্তমানের ৪৫০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিকে দ্বিগুণ করে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে (এক লক্ষ কোটি টাকা) উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্বল্পমেয়াদে তার সরকারের ওপর প্রবল চাপ থাকবে-অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ করার। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সংযোগ বৃদ্ধি করাও বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া, বর্তমানে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংকিং খাত কাঠামোগতভাবে অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতি

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সাথে যে সুদৃঢ় সম্পর্ক ছিল, ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী শাসনামলে তার চরম অবনতি ঘটে। এই টানাপোড়েনের পেছনে রয়েছে বেশ কিছু স্পর্শকাতর কারণ; যেমন— ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান ও সেখান থেকে ইউনূস সরকারের প্রকাশ্য সমালোচনা; বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা নিয়ে দিল্লির কড়া প্রতিক্রিয়া; এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় ভারত-বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী শরীফ ওসমান হাদির রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড। এছাড়া আইপিএল থেকে বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানের অসম্মানজনক বিদায় এবং এর প্রতিবাদে ভারতে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাংলাদেশ বর্জন করায় দুই দেশের জনমানসেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। একইসঙ্গে পাকিস্তান ও চীনের সাথে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা দিল্লিকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। ফলস্বরূপ, ভারতের অভিজ্ঞ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর গত ১৮ মাসে মাত্র একবার ঢাকা সফর করেছেন, যা ছিল মূলত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য।

তারেক রহমানের নতুন সরকারের সামনে ভারতের সাথে এই তিক্ততা দূর করে সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে, যদিও তা সহজ হবে না। তারেক রহমানকে দেওয়া অভিনন্দন বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘অংশগ্রহণমূলক’ রাজনীতির ওপর জোর দিয়েছেন, যা মূলত বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের গভীর উদ্বেগেরই প্রতিফলন। এরই মধ্যে ১৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি জামায়াত নেতা ড. শফিকুর রহমানের সাথেও বৈঠক করেছেন।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের দায়ে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকরের দাবিতে বিএনপি অটল থাকবে। এছাড়া ভারতের সীমান্ত রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সরকারকে উত্তপ্ত বাক্যযুদ্ধ সামলাতে হবে; যেখানে বিজেপির পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশ ও মুসলিম-বিদ্বেষী ইস্যুগুলো প্রাধান্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ এই বছর শেষ হতে চলায়, এটি নবায়নের বিষয়েও দ্রুত কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করা প্রয়োজন।

ভারতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের দৃশ্যমান উন্নতি ঘটেছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের অচলাবস্থা কাটিয়ে ২০২৫ সালের এপ্রিলে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক পুনরায় শুরু হয়। এরপর উভয় দেশের উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক সফর বিনিময় হয়েছে। চলতি বছরের গত ২৯ জানুয়ারি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস দীর্ঘ ১৪ বছর পর ঢাকা-ইসলামাবাদ রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করে। একই মাসে পাকিস্তান ও চীনের যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি ‘জেএফ-১৭’ যুদ্ধবিমান বাংলাদেশের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা ঘোষণা করে পাকিস্তান।

একই সঙ্গে বাংলাদেশে চীনের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক প্রভাবও ক্রমাগত বাড়ছে। ২০২৫ সালের মার্চে ড. ইউনূসের চীন সফরের সময় তিনি ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের ঋণ, বিনিয়োগ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি লাভ করেন। এরপর জুন ২০২৫-এ চীনের কুনমিংয়ে পাকিস্তান, চীন ও বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথমবারের মতো একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘোষণা দেয়, চীনের সহায়তায় দেশে একটি ড্রোন উৎপাদন কারখানা নির্মিত হতে যাচ্ছে।

তারেক রহমান চীনকে বাংলাদেশের একটি ‘উন্নয়ন বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা স্পষ্ট করে যে বেইজিংয়ের সাথে সম্পর্ক মূলত অর্থনৈতিক স্বার্থ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

সার্বিকভাবে, নতুন সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (বাংলাদেশ প্রথম) পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য হলো প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ সুদৃঢ় করা। এই কৌশলের অংশ হিসেবে ১৯৮৫ সালে জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবিত করার একটি জোরালো প্রচেষ্টা দেখা যেতে পারে, যা ২০১৪ সাল থেকে কার্যত অচল হয়ে রয়েছে।

ভবিষ্যৎ পথরেখা

নির্বাচনে এই নিরঙ্কুশ জয়ের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বহুমুখীকরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার এক অনন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই যাত্রায় সফল হতে হলে তাকে দৃঢ় ও দূরদর্শী নেতৃত্বের পরিচয় দিতে হবে; বিশেষ করে এটিই তার জীবনের প্রথম কোনো রাষ্ট্রীয় দাপ্তরিক দায়িত্ব। একইসঙ্গে, দেশের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভাজন এবং বিদ্যমান উত্তেজনার মতো কঠিন চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে ওঠাই হবে তার নেতৃত্বের আসল পরীক্ষা।

লেখক: সিনিয়র ফেলো ফর সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়ান ডিফেন্স, স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি

বিষয়: বিএনপিতারেক রহমানসরকারআওয়ামী লীগরাজনীতি
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    এবি ব্যাংকের দেওয়ানহাট শাখা নতুন ঠিকানায় স্থানান্তর

  • ২

    পাকিস্তানে তো গণতন্ত্রই আসেনি প্রতিষ্ঠান কোথায়?

  • ৩

    সিজিএসের উপদেষ্টা পর্ষদ পুনর্গঠন

  • ৪

    ‘মায়ের পায়ের ধুলোয় চোখে পানি আসে, এইখানে শিরক কোথায়?’

  • ৫

    বরিশালে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে মন্দির-বাড়ি দখলের অভিযোগ

সম্পর্কিত
  • গাইড বইয়ের বিপরীতে একটা নির্মোহ প্রস্তাবনা

    গাইড বইয়ের বিপরীতে একটা নির্মোহ প্রস্তাবনা

    বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের অনেক মাধ্যম চোখে পড়ে। এখন শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে পাঠ্যপুস্তক, গাইড বই, রেফারেন্স বই ও শিক্ষকের পাশাপাশি রয়েছে ইন্টারনেট, জার্নাল, মাল্টিমিডিয়া, ইউটিউবসহ নানা পরিসর। তবে এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সহজলভ্য মাধ্যম হয়ে আছে গাইড বই

  • দিল্লির জেনজি আন্দোলনে টালমাটাল মোদির গদি!

    দিল্লির জেনজি আন্দোলনে টালমাটাল মোদির গদি!

    তরুণদের ক্ষেপিয়ে কোনো দেশের শাসকেরা যে টিকতে পারেন না, সেটা নিকট অতীতে বাংলাদেশ ও নেপাল প্রমাণ করেছে।

  • ভারত: গণ-আন্দোলনের মুখোমুখি এক অনমনীয় রাষ্ট্র

    ভারত: গণ-আন্দোলনের মুখোমুখি এক অনমনীয় রাষ্ট্র

    সরকার ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব এবং নেপাল ও বাংলাদেশে কথিত বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে এই আন্দোলনকে বিদেশি শক্তির কারসাজি হিসেবে চিহ্নিত করে এর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করবে। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই, যারা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইচ্ছুক ছিলেন, তাদের কাছেই জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের গভীরতা স্পষ্ট ছিল।

  • সরকারি কর্মী: বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক ও সময়োচিত

    সরকারি কর্মী: বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক ও সময়োচিত

    দু বছর পর যখন এ বেতন স্কেল পুরো কার্যকর হবে তখন মুদ্রাস্ফীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটা দেখার বিষয়। এর মাঝে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানো ছাড়া হয়তো উপায়ও ছিল না। তবে এর ফলে বাড়বে সকল ধরনের পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়সহ ভোগ্যপণ্যের দাম।